Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

মসুলে আইএস-বিরোধী অভিযান দেখতে ইরাক সফরে কার্টার

প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার আকস্মিক সফরে ইরাকে পৌঁছেছেন। মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীর অভিযানের অগ্রগতি অনুধাবন করতে তিনি দেশটিতে সফর করছেন। ইরাক উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মসুল অভিযানে তুর্কি বাহিনীর অংশগ্রহণ বিষয়ে আঙ্কারায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে আলোচনার পর অ্যাশ কার্টার ইরাকে যান। এ বছর ইরাকে ধীরে ধীরে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকে মার্কিন সেনারা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা করে থাকে। স্থলাভিযানে অংশ নেয় না তারা। খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার ইসলামিক স্টেটের কাছ থেকে মসুলকে দখল মুক্ত করতে ইরাকে চলমান অভিযানের অগ্রগতি দেখতে সেখানে পৌঁছেছেন। মসুল পুর্নদখলের জন্য গত ছয়দিন ধরে এ লড়াই চলছে। ইরাকের সরকারি বাহিনী কারাকোশ নামের একটি শহর দখল করে সেখানে তাদের পতাকা তুলেছেন। ইসলামিক স্টেটের দিক থেকে ইরাকী এবং কুর্দী বাহিনীকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। মসুল পুনর্দখল করার অভিযান চালানো হচ্ছে দুদিক থেকে। দক্ষিণ দিক থেকে ইসলামিক স্টেট অবস্থানগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে ইরাকের সরকারি বাহিনী, আর পূর্বদিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারা। এর মধ্যেই মসুলের ২০ মাইল দক্ষিণে কারাকোশ শহরে ঢুকেছে ইরাকি বাহিনী। সেখানে তারা ইরাকি পতাকাও উড়িয়েছে। তবে শহরটি প্রায় জনশূন্য। এখান থেকে মসুলের দিকে যাবার পথে মাইন পেতে রেখেছে আই এস যোদ্ধারা। তাছাড়া তারা ইরাকী সৈন্যদের ওপর আত্মঘাতী আক্রমণও চালাচ্ছে। আইএস যোদ্ধারা মসুলের দক্ষিণ দিকের একটি সালফার কারখানায় আগুন লাগিয়ে দিলে বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে আত্মরক্ষা করতে নিকটবর্তী একটি ঘাঁটির মার্কিন সৈন্যদের গ্যাস মুখোশ পরতে হয়। ইরাকে এখন ৪ হাজার ৮শ’র অধিক মার্কিন সেনা রয়েছে এবং মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা মসুল অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছেন। এ বছরে তিনবার ইরাক সফর করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টার। এসব সফরে ইরাকি নেতা ও কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশ কার্টারের ইরাক সফরের লক্ষ্য হচ্ছে তুরস্ক যাতে মসুল অভিযানে একটা ভূমিকা রাখতে পারে তার ব্যবস্থা করা। এ্যাশ কার্টার ইরাকী প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদী ও সামরিক কমান্ডারদের সাথেও বৈঠক করবেন। এ্যাশ কার্টার এর আগেই তুরস্কের নেতাদের সাথে একটি বৈঠক করেছেন। কয়েকদিন আগেই তুরস্ক বলেছে যে, ইরাকের এই অভিযানে তারাও শামিল হতে চায়। তবে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ইরাকের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ হিসেবে গত বছর উত্তর ইরাকের একটি ঘাঁটিতে সুন্নি মুসলিম যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছিল শত শত তুর্কী সৈন্য। এর পর থেকে ইরাক ও তুরস্কের মতপার্থক্য সবার নজরে আসে। মসুল পুনর্দখলের অভিযান নিয়ে সুন্নি তুর্কিদের ভয় রয়েছে যে, এর নেতৃত্বে আছে শিয়া মুসলিম এবং কুর্দিরা। তুরস্কের কথা হলো, সিরিয়া এবং ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের সাথে তুরস্কের ভেতরকার কুর্দি জঙ্গি পিকেকের সম্পর্ক আছে। অন্যদিকে তুর্কি সেনাবাহিনী উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে বাগদাদে উগ্র শিয়ারা বিক্ষোভও করেছে। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন