Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সাইবার অপরাধীর হাতিয়ার স্মার্টহোম ডিভাইস

প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শওকত আলম পলাশ

জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালাতে ‘স্মার্টহোম’ বা বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাশপয়েন্টের বিশ্লেষকরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন। বিবিসি থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার প্রায় একই সময় একাধিক সাইবার হামলায় বেশকিছু ওয়বসাইটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, ডোমেইন নেম সিস্টেমকে (ডিএনএস) লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার হামলার কারণে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু না! বিশ্বের জনপ্রিয় একাধিক ওয়েবসাইটে হামলার জন্য ‘স্মার্টহোম’-সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করেছে সাইবার অপরাধীরা। বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট কিন্তু সাধারণ এসব ডিভাইস ব্যবহার করে অসাধারণ এ হামলায় সফল হয়েছে হ্যাকাররা। ওই হামলার কারণে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার, অনলাইন মিউজিক স্ট্রিমিং সেবা স্পটিফাই ও সংবাদভিত্তিক সোস্যাল সাইট রেডিটসহ আরো কয়েকটি জনপ্রিয় সাইটের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
ফ্ল্যাশপয়েন্ট জানায়, ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার ও বাসাবাড়ি বা অফিসের ওয়েবক্যামের নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইবার অপরাধীরা। পরবর্তীতে এ ধরনের ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ ডিভাইস ব্যবহার করেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা হয়েছিল। অর্থাত্ সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো ডিভাইসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সাইবার হামলা পরিচালনা সম্ভব। জানা যায়, ওয়েবক্যামের মতো সাধারণ ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিতে যে ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তা কয়েক লাখ ডিভাইসকে আক্রান্ত করেছে। ডিএনএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ডাইন। সাম্প্রতিক হামলায় সাইবার অপরাধীরা এ প্রতিষ্ঠানকেই লক্ষ্য করেছে। ডিএনএস সার্ভিসকে সাধারণত এক ধরনের ইন্টারনেট ফোনবুক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডিএনএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষার ইন্টারনেট অ্যাড্রেস দেয়া হয়। ওয়েব অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয় এ ধরনের সেবাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিএনএস প্রতিষ্ঠান ডাইনে হামলার জন্য ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অব সার্ভিস (ডিডিওএস) আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অর্থাৎ বহুল প্রচলিত টুলের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা গোপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ক্ষতিকর ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সুবিধামতো ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেয়। মজার বিষয় হলো, এ ধরনের সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো থেকে শুরু করে গ্রাহক তথ্য হাতিয়ে নেয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টিই ঘটে গোপনে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রয়ান ক্রেবস বলেন, চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি ‘স্মার্টহোম’-সংশ্লিষ্ট ডিভাইস এ ধরনের হামলার সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এ ধরনের ডিভাইসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং এগুলোর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড সহজেই বের করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইস ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও এ ধরনের একটি সাইবার হামলা পরিচালনা করা হয়। সে ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয়টি ঘিরে জন হপকিন্স ইনফরমেশন সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ম্যাথু গ্রিন বলেন, একযোগে অসংখ্য ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস নিয়ে থাকলে আপনাকে ঘিরে সাইবার অপরাধীদের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।