Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আত্মসর্পণকারীদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে : মনিরুল ইসলাম

প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : একের পর এক জঙ্গি সদস্যরা আত্মসমার্পন করছেন। যারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে তারাই ফিরে আসছে জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে। এতে করে জঙ্গিদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ -উৎকন্ঠা বাড়ছে, তেমনি যারা ফিরে এসেছেন তারাও অনেকটা হুমকির মুখে আছেন। এমনটি জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আত্মসমর্পণ করায় ইতোমধ্যে তাদের হুমকি দিয়ে লিফলেটও বিতরণ করছে জঙ্গিরা। তবে এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানোর পর অনেকেই সেই সুযোগ নিয়েছে। কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করেছে। এতে করে জঙ্গিদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। সেই সাথে জঙ্গিদের মধ্যে বাড়ছে সন্দেহ আর অবিশ্বাস। তবে যারা আত্মসমার্পণ করছে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের জনসম্মুখে আনা হচ্ছে না। কারণ জঙ্গিরা ইতিমধ্যে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে লিফলেট বিলি করেছে।
সিটিটিসি ইউনিট প্রধান আরো বলেন, যারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং অন্ধাকারের পথ থেকে আরো পথে ফিরে এসেছেন তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আরো যারা আত্মসমর্ফণ করতে যোগাযোগ করছেন তাদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। তাদের নাম ঠিকানা আমাদের কাছে আছে। তবে তারা নাম-ঠিকানা প্রচার করতে চায় না, আমরাও চাই না। গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় একজনের থাকার কথা ছিল। সে আগেই আত্মসমর্পণ করে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ওইসব নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে চাই না।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের ঠেকাতে ইতোমধ্যে লিফলেট প্রচার করছে জঙ্গিরা। ওই লিফলেটে লেখা হয়েছে, যারা দল পরিত্যাগ করবে তারা কাফের ও মুরতাদ। তাদের পরিণাম কাফের-মুরতাদের মতো হবে। গোয়েন্দাদের কাছে এই লিফলেট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহ্বানে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তবে ছেড়ে আসায় ওইসব জঙ্গি সংগঠনই তাদের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের হত্যার হুমকি দিয়ে এরই মধ্যে ছয় পৃষ্ঠার একটি লিফলেট বিলি করছে নব্য জেএমবি। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ওই লিফলেট রয়েছে। তাই আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের জনসম্মুখে আনতে চাইছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাউন্সিলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে আড়ালে স্বাভাবিক জীবন গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সূত্রটি আরও জানায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বেশি সংখ্যক জঙ্গিরা দল ছেড়ে চলে আসছে। তাই তাদের গায়ে লেগেছে বিষয়টি। এখন আত্মসমর্পণকারীদের ফেরানোর চেষ্টা করছে তারা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। নারী জঙ্গি তেমন আত্মসমর্পণ করেনি।
প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাদ্দাম ইয়াসির সজল (৩২), রায়হান আহমেদ (২০) ও মেহেদী হাসান পলাশ (২০) নামের তিন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। এরপর ৫ অক্টোবর বগুড়ার শহীদ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে জঙ্গি আব্দুল হাকিম ও মাহমুদ।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে হাকিম গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি খায়রুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী ছিল। অন্যদিকে, মাহমুদ জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। জঙ্গিদের ভাষায় এটাকে ‘হিযরত’ বলে। তবে চূড়ান্ত হিযরতের আগে সে ফিরে আসে এবং পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে পরিবার সদস্যরা তাকে র‌্যাব-১২ কাছে নিয়ে আসে।
র‌্যাব জানায়, বগুড়াতে যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের প্রত্যেককে পুনর্বাসণের জন্য ৫ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ