Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

স্লোগান ও ফুল দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ ভাঙচুর

বগুড়া ও কিশোরগঞ্জে আহত ২৮ : বাস-মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

বিজয় দিবস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রæপসহ ও আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ায় সেøাগান দেয়া নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ১০টির বেশি মোটরসাইকেল। এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলই স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু-গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে একটি বাস। অন্যদিকে, বাজিতপুরে শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বগুড়া ব্যুরো জানান, গতকাল সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা’র নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। এর আগে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে যান। শ্রদ্ধা নিবেদনের অর্পনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সেøাগান দিলে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা তড়িঘড়ি করে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে বাসস্ট্যান্ডে ফিরে একটি হোটেলে বসে নাস্তা করছিলেন। একই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে আসেন এবং দলীয় সেøাগান দিতে থাকে। অন্যদিকে হোটেলে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরাও দলীয় সেøাগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় কমপক্ষে ১০টির বেশী মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংর্ঘষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৩ জন আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
জানতে চাইলে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের উপর হামলা করেছে। এতে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্জন করেছি।
অপরদিকে, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির লোকজন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সেøাগান দিয়ে হোটেল থেকে আওয়ামী লীগ অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। তিনি বলেন বিএনপি বহিরাগত লোকজন এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিজয় দিবসের পরিবেশ নষ্ট করেছে। এ কারণে আমরা উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ, পাকুন্দিয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু-গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে ইট-পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়।
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে যান। এ সময় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস সেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ার জাহান জানান, ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৯ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বাসে আগুন দেয়। পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, বাজিতপুরে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা দিকে পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় বিএনপির ১০ জন আর আওয়ামী লীগের ৫ জন আহত হয়েছেন। আহত বাজিতপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহŸায়ক রিপন মিয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহŸায়ক মো. সোহেল, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহŸায়ক পারভেজ আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য হৃদয় আহমেদ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে পৌর শহরের রেজু মার্কেট থেকে উপজেলা বিএনপি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি সিনেমা রোড ও বাঁশমহল হয়ে টিঅ্যান্ডটি সড়ক অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা আসে। শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আশরাফ। প্রথমে দুই পক্ষ উত্তেজনাকর ¯েøাগান দেয়। পরে দুই পক্ষই পরস্পরের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। পরে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। অন্তত আধাঘণ্টা এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ গিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরে সেটি বাঁশমহল ও চালমহল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। চালমহল এলাকায় পৌর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ বিজয়ের দিনে বাজিতপুরে বিএনপির শোভাযাত্রা থেকে কুরুচিপূর্ণ সেøাগান দেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করেছে আমাদের নেতাকর্মীরা। তখন সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের শোভাযাত্রায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ছিল। আজকে আমাদের শোভাযাত্রায় অনেক মানুষ হবে এই তথ্য আগে থেকেই আওয়ামী লীগের জানতো। তাই আমাদের শোভাযাত্রায় ঝামেলা করার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের। তবে মো. মনিরুজ্জামান কুরুচিপূর্ণ সেøাগান দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাজিতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় দুটি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে পরিস্থিত স্বাভাবিক রয়েছে।

 



 

Show all comments
  • jack ali ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:২৯ পিএম says : 0
    Very good news.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিজয় দিবস

১৮ ডিসেম্বর, ২০২১
১৮ ডিসেম্বর, ২০২১
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন