Inqilab Logo

বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিবাহিত হওয়া কি অপরাধ

ঢাবির ছাত্রী হল

রাহাদ উদ্দিন : | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন নাহার হল ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের দুই বিবাহিত ছাত্রীর সিট কেটে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে ছাত্রীদের হলে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের থাকার বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা উঠে এসেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন ‘ বিবাহিত হওয়া কি অপরাধ’। তাদের প্রশ্ন-বিবাহিত শিক্ষকরা যদি অবিবাহিত ছাত্রীদের হলে হাউজ টিউটর হিসেবে থাকতে পারে তবে বিবাহিত ছাত্রীরা কেন হলে থাকতে পারবে না?
বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যাপারে আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের এক বিবাহিত ছাত্রী সিট নিয়ে হাউজ টিউটরের হনেস্তার শিকার হন। অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকা হলেন অদিতি শামস ও ইলা ইসমাইল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি বিবাহিত হওয়ার কারণে হল থেকে আমার সিট কেটে দিয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে হলে থাকার অনুমতি চেয়ে আমি প্রভোস্ট ম্যাম বরাবর একটি আবেদনপত্র লিখি। কারণ বর্তমানে আমার পরীক্ষা চলছে।
তিনি বলেন, আবেদনপত্র নিয়ে অফিসে গেলে অদিতি শামস ম্যাডাম বিভিন্ন উদ্ভট ভুল ধরে তিনবার আমার আবেদন পত্র ছিড়ে ফেলেন। এবং নতুন করে লিখতে বাধ্য করেন। আমাকে এমনকি বসতেও দেওয়া হয়নি।
তারা আমাকে দিয়ে নিজেদের মনমতো একটা মিথ্যা আবেদনপত্র লিখে নিয়ে সেখানে সাইন করতে বলেন এই মর্মে যে, আমি হল খোলার এক মাস পর হলে উঠেছি। এটা আমার প্রথম অপরাধ। নতুন হাউজ টিউটরকে চিনতে না পারা আমার দ্বিতীয় অপরাধ। হলে উঠার দু’দিনের মধ্যে খাতায় সাইন না করাটা আমার তৃতীয় অপরাধ। এ বিষয়ে এক মাস আগে আমার নাম কেটে দেওয়ার বিষয়টা জানালে তারা বলে, ও তুমি এত নিয়ম মানো আর এই নিয়ম মানো না। আমাদের না বলে সাংবাদিকদের বলো, ভিসির কাছে যাও? এসময় অদিতি শামস ম্যাডাম ধমক দিয়ে বলেন, তোমার সাথে অনেক নরম সুরে কথা বলেছি। আর কোন নরম করে কথা হবে না। তুমি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছো। এটা করে কি নিজের জন্য ভালো করছো? এতে তোমার মানসম্মান থাকবে? এখন তুমি মুখ দেখাবা কেমন করে? তুমি রন্ধুবান্ধবের সাথে চলবা কেমনে? তোমার মানসম্মান তো শেষ!
ওই ছাত্রী আরও বলেন, নাম কেটে (সিট বাতিল) দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সেটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা আমার নামের পাশের ক্রস চিহ্নকে স্টার বানায়ে আমাকে বলে তোমার নাম কোথায় কাটছি? যে নাম কাটা নিয়ে এত ঝামেলা, লাফালাফি করছো তা তো আমরা কাটিনি।
এ ঘটানার প্রতিবাদে শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি তাসনিম আফরোজসহ বেশ কয়েকটি হলের সাবেক ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত ছাত্রীদের হলে থাকার প্রচলিত নিয়ম বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে হলে সিট দেওয়া হয়না এমন নিয়ম অনেক শিক্ষার্থীই জানে না দাবি করে তারা বলেন, কাগজে কলমে লিখা থাকলে ও এ নিয়ম আগে মানা হতো না। ছাত্রীদের স্বামী ঢাকা বা দেশের বাইরে থাকলে সে ছাত্রীকে হলে থাকতে দেওয়া হতো। কিন্তু সম্প্রতি এ নিয়ে হাউজ টিউটররা ঝামেলা করছেন।
তারা বলেন, বিবাহিত শিক্ষকরা যদি অবিবাহিত ছাত্রীদের হলে হাউজ টিউটর হিসেবে থাকতে পারে তবে বিবাহিত ছাত্রীরা কেন হলে থাকতে পারবে না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা প্রতিষ্ঠান, কোনো হেরেমখানা তো না যে এখানে কেবল কুমারী মেয়েরাই থাকবে!
তারা বিশ্বদ্যিালয়ের ভিসি বরাবর ৪ দফা দাবি সম্বলিত একটি আবেদন পত্র প্রেরণ করেন। তাদের দাবিগুলো হলো, বিবাহিত ছাত্রীদের হলে থাকার যে বিধিনিষেধ এবং তাদের জন্য প্রচলিত যে নিয়ম তা বাতিল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার্থে সকল ছাত্রী হলে স্থানীয় অভিভাবকের স্থলে জরুরী যোগাযোগ শব্দের প্রবর্তন। আবাসিক শিক্ষক ,কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের দ্বারা যেকোনো ধরণের হয়রানি এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহাল করা এবং জরুরী প্রয়োজনে তাদেরকে হলে অবস্থান করতে দেওয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবির ছাত্রী হল
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ