Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি জঙ্গলে

মিয়ানমারে সেনা-বিদ্রোহী লড়াই, থাই সীমান্তে হাজারো মানুষ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পূর্বাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যের জঙ্গলে একটি গোপন শিবিরে প্রস্তুতি চলছে। এ প্রস্তুতির কিছু ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে এক ফিটনেস কোচ ও অন্যান্য সাধারণ মানুষকে সশস্ত্র গেরিলাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত জঙ্গলে অস্থায়ী তাঁবুতে এই প্রশিক্ষণ নিতে আসা নবীনরা শিখছে কী করে রাইফেল চালাতে হয় এবং বোমায় বিস্ফোরক ব্যবহার করতে হয়। রয়টার্স কয়েকজন তরুণ-তরুণীর বিরল ছবি তুলেছে। এই তরুণ-তরুণীরা জানিয়েছে, গেরিলা যোদ্ধা হওয়ার জন্য তারা শহরের চাকরি ছেড়েছে। টি-শার্ট, রঙচঙে পোশাক ছেড়ে তারা পরেছে সেনাদের পোশাক। তাদের ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ নেওয়া হয় সেপ্টেম্বরে। জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নেওয়া দল এবং দেশব্যাপী অন্যান্য সিভিল ডিফেন্স ফোর্স সম্পর্কে সামরিক জান্তা সরকারের মুখপাত্রের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশিক্ষণ নিতে আসা কয়েকজন বলেছেন, তারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। কারণ, সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ করেও নতুন শাসকদেরকে টলানো যায়নি; বরং এই শাসকরা উল্টো বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস-দমনপীড়ন চালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এক ফিটনেস প্রশিক্ষক বলেন, “হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়াটাই এখন আমাদের জন্য একমাত্র পথ।” তার সারা পিঠে আছে ট্যাটু। তাতে লেখা, “নেতৃত্ব দেওয়ার স্বাধীনতা।” সেইসঙ্গে আঁকা আছে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির অবয়ব। গত ফেব্রুয়ারিতে অভ্যূত্থানের পরপরই সুচিকে আটক করে সেনাবাহিনী, এরপর বিক্ষোভে উস্কানি এবং করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ লংঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সামরিক আদালত তাকে শাস্তিও দিয়েছে। সু চির মামলার এই রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দিত হয়েছে। তবে মিয়ানমার জান্তা বলছে, সু চির সাজাই প্রমাণ করে যে কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, এবং বিচার ব্যবস্থায় ‘কোন পক্ষপাতিত্ব’ নেই। মিয়ানমারের অন্যতম সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠী ‘কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ (কেএনইউ) বেসামরিক নাগরিকদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই গোষ্ঠী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্নতা প্রকাশ করেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সেস’ এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দেশজুড়ে আরও এমন শত শত প্রতিরোধ গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। প্রশিক্ষণের এক আয়োজক বলেছেন,তাদের প্রশিক্ষণ দলে তরুণ বয়সী শতাধিক মানুষ যোগ দিয়েছে এবং প্রতিদিনই নতুনরা আসছে। তবে রয়টার্স নিরপেক্ষ সূত্রে এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সন্ধ্যার এক সময়ের বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, এ সময় প্রশিক্ষণ নিতে আসা যোদ্ধারা ক্যম্পফায়ারে চারপাশে বসে গিটার এবং বেহালা বাজিয়ে ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে। জঙ্গলের শিবিরে আসার পর সাবেক একজন প্রশিক্ষক বলেছেন, ৩ লাখ প্রশিক্ষিত সদস্যের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার কথা ভেবে তিনি শঙ্কিত হয়েছেন। কিন্তু প্রতিরোধ লড়াই করাটাই একমাত্র পথ বলে স্বীকার করেন তিনি। “আমার দেশের মানুষের সুরক্ষায় আমার প্রাণ চলে গেলেও তা নিয়ে আমি গর্বিত হতে চাই,” বলেন তিনি। এদিকে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের মুখে শত শত শিশুসহ আড়াই হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ এবং একটি ত্রাণ সংগঠন একথা জানিয়েছে। বাস্তুচ্যুত এই মানুষেরা থাইল্যান্ডের মায়ে সোত শহরে জড়ো হয়েছে। গত কয়েকদিনে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের পর এই বিপুল সংখ্যক মানুষ পালিয়ে এসেছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের উপ গভর্নর। গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভ-আন্দোলনে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছাড়াও পল্লী অঞ্চলগুলোতে মাঝেমধ্যেই জান্তা-বিরোধী মিলিশিয়া এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। কারেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মতো এমন আরও জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের সঙ্গেও সময় সময় সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই হচ্ছে। থাই ‘তাক’ প্রদেশের উপ গভর্নর সোমচাই বলেন, সীমান্তের থাইল্যান্ড অংশে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২,৫০৩ জন। আর এদের মধ্যে ৫৪৫ জনই শিশু বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ড-ভিত্তিক মিয়ানমারের শরণার্থী অধিকার সংগঠন ‘এইড অ্যালায়েন্স কমিটি’র কর্মকর্তা ইয়ে মিন। ফোনে তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি, থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছি।“ মিন জানান, বাস্তুচ্যুত এই মানুষদের বেশিরভাগই এসেছে মিয়ানমারের কারেন রাজ্যের ‘লে কে ক’ এবং এর আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে। মিয়ানমারের ওই অঞ্চলে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ)। রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ