Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

কলারোয়া সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালান পণ্যবাহী যান চলাচলে স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা হুমকিতে

প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) উপজেলা সংবাদদাতা

কলারোয়া সীমান্ত পথে প্রকাশ্য দিবালোকে আবারো বেপরোয়া গতির চোরাচলানী পণ্যবাহী যান চলাচলে স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের কেড়াগাছি চারাবাড়ি, কেড়াগাছি রথখোলা, কেড়াগাছি কুটিবাড়ি, কেড়াগাছি গাড়াখালী, দক্ষিণ ভাদিয়ালী, ভাদিয়ালী তেতুলতলা, উত্তর ভাদিয়ালী কামারপাড়া, রাজপুর খা বাগান, চান্দা স্লুইচ গেট, বড়ালী, হিজলদী ভদ্রশাল, হিজলদী শিশুতলা, সুলতানপুর, সুলতানপুর তালসারি, গোয়ালপাড়া, চান্দুড়িয়ায় ঘাট খোলা রয়েছে। কোথাও রাতের আঁধারে আবার কখনো দিনের বেলায় ভারতীয় পণ্য এনে সীমান্তের নো-ম্যানন্সল্যা- সংলগ্ন চোরাচালানি আখড়ায় মজুত করা হয়। পরে এসব পণ্য কখনো মোটরসাইকেলে, ইঞ্জিন ভ্যানে, নসিমনে, মাইক্রো, প্রাইভেটে বা পিকআপে বহন করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে প্রকাশ্য দিবালোকে সীমান্তের কেড়াগাছি ও ভাদিয়ালী থেকে লাঙ্গলঝাড়া হয়ে কলারোয়াগামী সড়কে; বোয়ালিয়া হয়ে কলারোয়া সড়কে; দমদম হয়ে কলারোয়া বা ব্রজবাকসা সড়কে এবং সোনাবাড়িয়া হয়ে বাগআঁচড়া সড়কে চোরাচালানী পণ্যবাহী বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল, নসিমণ ও ইঞ্জিন ভ্যানে ভারতীয় পণ্য বহনে স্কুলগামী শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। এছাড়া চান্দা ও বড়ালী সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পণ্যগুলো একইভাবে বেপরোয়া গতির যানে রামকৃষপুর বা বুঝতলা হয়ে বাগআঁচড়ায় প্রবেশ করে। হিজলদী সুলতানপুর ও চান্দুড়িয়া সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পণ্য ন’কাটির বিলের ভিতরের রাস্তায় বাগআঁচড়ায় প্রবেশ করে। এসব সড়কের পাশে প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু কিশোর এসব রাস্তায় স্কুলে যাতায়াত করে। এসব শিশু কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয় উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে চোরাচালানি পণ্যবাহী বেপরোয়া যানবাহনের বহর। বেপরোয়া দ্রুতগতির চোরাচালানী পণ্যবাহী যানগুলো চলার সময় একটানা বিকট শব্দে হুইসেল বাজায়ে পথচারী জনসাধারণকে আতঙ্কিত করে তোলে। ফলে আতঙ্কে চোরাচালানি পণ্যবাহী বহর যাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী ৫/৭ বছরের শিশুরা আতঙ্কে দুরু দুরু বুকে রাস্তার পাশে যেয়ে কাঁপতে থাকে। রাস্তায় বেপরোয়া গতির দ্রুতগতির চোরাচালানি পণ্যবাহী যানের ভয়ে এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। লাউডুবি গ্রামের শাহিনা পারভীন জানায়, রাস্তায় প্রায়শ চোরাচালানি পণ্যবাহী বেপরোয়া যান চলার কারণে তার সাড়ে ৫ বছর বয়স্ক শিশু কন্যাকে স্কুলে পাঠায়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত উদ্বিগ্ন সময় কাটাতে হয়। এব্যাপারে সোনাবাড়িয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক জানায়, চোরাচালানি পণ্যবাহী বেপরোয়া যান চলাচলে এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয় বাঁশ বেঁধে দেয়ার পরেও স্কুলের বলফিল্ড দিয়ে আকস্মিকভাবে চোরাচালানি পণ্যবাহী বেপরোয়া যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যে কোন সময় মারাত্মক দুঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে এই চোরাচালানের সঙ্গে অসাধু বিজিবি, অসাধু পুলিশ ছাড়াও এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষের আকুতি এবং শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা উপেক্ষিত হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।