Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কাজ হয়েছে ৩০ ভাগ

মণিহার-মুড়লী মোড় সড়কের ফোর লেন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ

শাহেদ রহমান, যশোর থেকে | প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

যশোর শহরের মণিহার থেকে মুড়লী মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ কাজ এক বছরেও শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসে। কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরো দেড় বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।
জানা যায়, বিভিন্ন কারণে আটকে আছে এই প্রকল্পের অগ্রগতি। এর মধ্যে সড়কের জমি ব্যক্তি মালিকানায় বরাদ্দ। যশোরে র‌্যাব-৬ এর অস্থায়ী কার্যালয়ের অবৈধ সীমানা প্রাচীর, যশোর শহরের মনিহার এলাকার দুটি বিজয়স্তম্ভের একটি অপসারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়া অন্যতম কারণ।
যশোর শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম পূর্ব বারান্দিপাড়া থেকে মনিহার-মুড়লি মোড় পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের (যশোর-খুলনা) প্রায় তিন কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ পায় ঢাকার আতাউর রহমান খান লিমিডেট ও মাহবুব ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড নামের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ১৯ নভেম্বর দেয়া ওই কার্যাদেশে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির বিষয়ে জানতে চাইলে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব জমি উদ্ধার করতে গেলে আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে ৩০ শতাংশ। বাকি কাজের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মনিহার প্রেক্ষাগৃহের সামনে মুক্তিযুদ্ধের দুটি বিজয়স্তম্ভ রয়েছে। এই বিজয়স্তম্ভের ঠিক সামনেই আরেকটি বিজয়স্তম্ভ। নতুন করে বিজয়স্তম্ভ নির্মিত হলেও মানুষ পুরোনো বিজয়স্তম্ভেই বিজয় দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। নতুন বিজয়স্তম্ভ অপসারণের জন্য যশোর জেলা কর্তৃপক্ষ গত ২১ নভেম্বর সওজ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু এক মাসেও এই বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ সূত্র।
যশোর-নড়াইল সড়কের বিজয়স্তম্ভের দক্ষিণ পাশের ৫ শতক জমি যশোর পৌরসভা থেকে বরাদ্দ নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন শেখ মহব্বত আলী নামের এক ব্যক্তি। এই বিষয়টি কাজে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। মহব্বত আলী বলেন, ‘যশোর পৌরসভা থেকে আমি ওই জায়গা বরাদ্দ নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করে কোকো নামে একটি আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছি। জায়গা ছাড়তে আমার আপত্তি নেই। আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ জন্য আদালতে একটি রিট করেছি।’
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান বলেন, অবৈধভাবে ওই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ, সরকারি বরাদ্দ নেয়া জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় না। জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ওই ভবন ভেঙে ফেলা হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ার আরেকটি সড়ক এর দুই পাশে এলাকার অবৈধ স্থাপনা। অবশ্য অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছে সওজ।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, শহরের বকচর এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের পাশে ভাড়া করা একটি বহুতল ভবনে যশোর র‌্যাব-৬-এর অস্থায়ী কার্যালয়। সওজ বিভাগের জমি দখল করে ভবনের সীমানা প্রাচীরসহ প্রধান ফটক নির্মিত হয়েছে। প্রাচীরটি সরিয়ে নিতে গত ২৯ জুলাই সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি র‌্যাব-৬-এর অধিনায়কের কাছে পাঠানো হয়।
এই বিষয়ে র‌্যাব-৬-এর যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজিউর রহমান বলেন, র‌্যাব কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর অপসারণে আর কোনো বাধা নেই। ভবনের মালিককে নতুন করে নিজের সীমানায় নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করে দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোর বাস মালিক সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান পিন্টু জানান, যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। সড়কটি যশোরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই স্থানীয় বাসসহ দূরপাল্লার অগণিত বাস এই সড়ক দিয়ে যাতায়ত করে।
এই সড়কে হেঁটে পাড় করাই দুর্বিষহ। যে বাসগুলো এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে তা প্রায় সময় রাস্তার মাঝে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। তাই দেরিতে হলেও সরকারের এমন উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এখন শুধু অপেক্ষা সঠিক নিয়মে সড়ক নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন