Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

প্রশ্ন : ইসলামে দা’য়ীদের দায় ও দায়িত্ব কি?

| প্রকাশের সময় : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

উত্তর : ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলাম কোন নতুন ধর্ম নয়, বরং সৃষ্টির শুরু থেকেই ইসলামের উৎপত্তি। আদম (আ.) ছিলেন এই পৃথিবীর প্রথম মানব এবং ইসলামের প্রথম নবি। আর শেষ নবি হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায়ের মধ্য দিয়ে নবুয়তের অবসান ঘটে। নবীর অবসানে ওলামায়ে কেরামকে নবীর উত্তরসূরী করা হয়েছে। তাদের উপর অর্পিত হয়েছে মহান দায়িত্ব।যুগে যুগে আলিমগণ তাদের দায়িত্ব পালনে ব্রত আছেন। তবে আলিমদের বড় একটা অংশ নিজেদের আলিম বলে দাবি করলেও ইলমের ঘাটতিসহ নানাবিধ ঘাটতি তাদের রয়েছে।যুগে যুগে তারাই ইসলামের খেদমতের নামে দ্বীনের ক্ষতি করে আসছে। ইসলাম কি চায়, তা না বুঝেই নিজের মত করে ধর্মের ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন।বর্তমান সময়ে আলেমদের সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো গণহারে নিজেদের দা’য়ী ইলাল্লাহ বলে দাবি করা। কেউ কেউ বলে থাকেন প্রতিটি মুসলিমই দা’য়ী ইলাল্লাহ।ফলে বহুলাংশে ইসলাম বিকৃত করার দায়ে দায়ি হচ্ছেন। যে দায় তারা অস্বীকার করতে পারেন না।তারা জোর দিয়ে বলেন,’’রাসূল (স.) বলেছেন,তোমরা আমার একটি বাণী হলেও প্রচার কর”। আলোচ্য হাদীসটি সহিহ।হাদিসের আমল অত্যাবশ্যক।কিন্তু এই হাদিসের ভিত্তি মূল কুরআনের সূরা সফের আয়াতটি তারা বলেন না। আল কুরআনের সূরা সফের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা নিজেরা করো না? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ যে, তোমরা এমন কথা বলো যা করো না।’

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের এমন কথা বলা উচিত, যা তারা নিজেরা পালন করে । কিন্তু অনেক আলিমই নিজে আমল না করে মানুষকে আমলের দাওয়াত দিচ্ছে। আসলে উক্ত দাওয়াত ইসলাম ও মানুষের জন্য অকল্যাণকরতো বটেই পাশাপাশি দাওয়াত দানকারীর জন্য ক্ষতিকর বটে। কেননা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আুলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নেক আমল না করে অন্যকে তা করতে উপদেশ দাতার জন্য শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-হযরত উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,’ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে। এর ফলে তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে আসবে। সে এটা নিয়ে বার বার চক্কর দিতে থাকবে, যেভাবে গাধা চক্রের মধ্যে বারবার ঘুরতে থাকে।দোজখীরা তার চারপাশে জড়ো হয়ে জিজ্ঞাসা করবে, হে (অমুক) লোক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি লোকদেরকে সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলতে না? জবাবে সে বলবে, ‘হ্যাঁ’ আমি সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু আমি নিজে তা পালন করতাম না। আমি অন্যদেরকে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলতাম কিন্তু আমি নিজে তা মানতাম না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বর্তমানে চলছে দাওয়াতী ব্যবসা।মাহফিল,ওয়াজ,জলসা,সম্মেলনসহ ইত্যাদি নামে সে ব্যবসা প্রসার ঘটছে।কণ্ঠ ভালোতো,ওয়াজের মাঠে দাওয়াতের ব্যবসা ভালো।রম্য,গুজব,গান,ডং ও খোস গল্পে জমে উঠে ওয়াজের মাঠ। ভন্ড দালাল হুজুরদের কারণে মাহফিলের মত পুণ্য কাজটাও আজ আমাদেরকে বিষিয়ে তুলছে। হক্কানী ওলামায়ে কেরামও আজ অনেকাংশে কথিত মাহফিল জলসার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য পেশ করছে। ওয়াজের মাঠ গুলো আবার রাজনৈতিক মঞ্চেও পরিণত হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে মহিলাদেরকেও অতিথি হিসেবে ওয়াজের মঞ্চে দেখা যায়।আবার কিছু হুজুর ওয়াজের মাঠে ধর্মের নামে রাজনীতি করছে।তারা সিয়াসাতুল ইসলামিয়া নিয়ে দু’কলম পড়াশোনা না করলেও হাবভাবে ধর্মীয় রাজনীতি বিষয়ে জ্ঞানী ভাব তুলে ধরতে ভুল করেননা। না জেনে না বুঝেই কি সব বক্তব্য দেয়,যাহা আসলেই বোধগম্য নয়।অনেক সময় সে সকল বক্তব্য হাস্যকরে পরিণত হয়।আফসোস, ইসলাম কি বলে আর আলিম কি করছে?

আল্লাহ পথের দা’য়ীর প্রথম সম্বল হবে আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীসের ইলমের দ্বারা পাথেয় সংগ্রহ করা। ইলম ব্যতীত দাওয়াত অজ্ঞতাপূর্ণ দাওয়াত। আর অজ্ঞভাবে দাওয়াতের সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি। কেননা একজন দা’য়ী নিজে একজন পথপ্রদর্শক ও উপদেশ দাতা। আর সে দা’য়ী যদি অজ্ঞ হয় তবে সে নিজে পথ ভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথ ভ্রষ্ট করবে।

উত্তর দিচ্ছেন : মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ত্বোহা



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ