Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

প্রযুক্তির উৎকর্ষ নানামুখী পরিবর্তন আনছে

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৫ এএম

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অকল্পনীয়, যা পানি, স্থলে, আকাশে ও মহাকাশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে মানুষ, প্রাণীকুল ও জীব বৈচিত্র্যে নবদিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। তাই নবআবিষ্কৃত এসব বিষয় নিয়ে ব্যাপক প্রচার ও আলোচনা হওয়া দরকার। তাহলে মানুষের জানতে, বুঝতে ও ব্যবহার করতে সুবিধা হবে। স্থান সংকুলানের অভাবে এক নিবন্ধে সবকিছু আলোকপাত করা সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েকটি নিবন্ধের দরকার। তাই আজকের নিবন্ধে শুধুমাত্র প্রযুক্তির সাম্প্রতিক উদ্ভাবন নিয়ে আলোকপাত করবো। অতি সম্প্রতি প্রযুক্তির উৎকর্ষের প্রধান উদাহরণ হচ্ছে, একই বাস রেললাইন ও সড়কে চলবে। এটি আবিষ্কার করেছেন জাপানের প্রযুক্তিবিদরা।এ ব্যাপারে খবরে প্রকাশ, বিশ্বে প্রথম সড়ক ও রেললাইনে চলার বাস তৈরি করেছে জাপান। যার নামকরণ করা হয়েছে, ‘ডুয়েল মোড ভেহিকল’ বা ডিএমভি। গত ২৫ ডিসেম্বর এর যাত্রা শুরু হয়েছে।ডিএমভির গতিবেগ ঘণ্টায় রেললাইনে ৬০ ও সড়কে ১০০ কিলোমিটার। এটি সর্বোচ্চ ২১ জন যাত্রীবহনে সক্ষম। সড়ক থেকে রেললাইনে চলাচলের উপযোগী হতে এর সময় লাগে মাত্র ১৫ সেকেন্ড। সুইচের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে ইস্পাতের চাকা। যখন বাসটি রাস্তা থেকে রেললাইনে যায় তখন টায়ারের চাকাগুলো ভেতরে চলে যায় আর রেলের চাকা বেরিয়ে আসে। তখন স্বাভাবিকভাবেই চলতে পারে।

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ গত ২৫ ডিসেম্বর মহাকাশে যাত্রা করেছে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে চেপে। এতে রয়েছে সাড়ে ছয় মিটার প্রশস্ত সোনালি আয়না। এটি পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে প্রতিস্থাপিত হবে। জেমস ওয়েব মহাবিশ্বে আলো বিকিরণকারী যেকোনো নিকটবর্তী নক্ষত্র ও ছায়াপথের ছবি ধারণ করবে। এই টেলিস্কোপটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগের অর্থাৎ বিগব্যাংয়ের পরপরই সৃষ্ট আদি নক্ষত্রের তথ্য অনুসন্ধান করা। এ বস্তুগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকেই জীবনের জন্য প্রযয়োজনীয় প্রথম ভারী পরমাণুগুলো সৃষ্টি হয়। যেমন কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার সৃষ্টির জন্য এগুলো দায়ী। এই টেলিস্কোপটি কোনো গ্রহ বাসযোগ্য কি না তা বুঝতে সাহায্য করবে। এটি তৈরি করতে একসঙ্গে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকৌশলীরা। এটি আগের যেকোনো টেলিস্কোপের চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী। সৌরশক্তি সঞ্চয় করে পানি ও বায়ু দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবিষ্কার করেছে ইসরাইলের অগউইন্ড এনার্জি কোম্পানি।

সৌর প্যানেলের অতিরিক্ত শক্তি মজুদ রেখে মাটির নিচে থাকা ট্যাংকের বায়ুঘনীভূত করা হয় পানির সাহায্যে। সেই বায়ু টারবাইনে দিয়ে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।

যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওয়ানওয়েব সম্প্রতি ৩৬টি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে। স্টারলিংক ইন্টারনেট সার্ভিসের মতো বিশ্বব্যাপী উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে। এটি তাদের অষ্টম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। ইতোমধ্যোই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আলাস্কা, উত্তর ইউরোপ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও কানাডা এর গ্রাহকের তালিকাভুক্ত হয়েছে।

মহাকাশেও সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস রুশ নভোচারি আলেকজান্ডার মিসুরকিনকে সংস্থাটির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মিসুরকিন সয়ুজ এমএস ২০ যানে মহাকাশে গেছেন। তিনি মহাকাশকেন্দ্রের জীবন ও কর্মের খবর পাঠাবেন তাসের হেড অফিসে। পরে তাসের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত ছবি, খবর ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে। তিনিই হলেন মহাকাশের প্রথম সাংবাদিক।

‘জীবন্ত’ রোবট-জেনোবটস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। আফ্রিকান নখযুক্ত ব্যাঙের (জেনো পাস লেভিস) স্টেম সেল থেকে এটি তৈরি করা হয়েছে। তিন হাজার কোষ ব্যবহার করে তৈরি গোলক আকৃতির এবং এক মিলিমিটারের চেয়েও কম প্রশস্তের এই রোবট বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তবে, জীবন্ত রোবটগুলো পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এগুলো সহজে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায় এবং বৈজ্ঞানিক নীতি-নৈতিকতা মেনেই তৈরি করা হয়েছে।

‘ইনোমেক’ নামের জুতা আবিষ্কার হয়েছে, যা পায়ে দিয়ে পথ চলতে পারবে অন্ধরাও! এ জুতা আবিষ্কার করেছে অস্ট্রিয়ার টেক-ইনোভেশন। এই জুতা পায়ে দিলে তা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে অ্যাকোস্টিক ও ভিজুয়াল সতর্কতা সংকেত দেবে। এ ছাড়া, এই জুতায় আছে একটি অন্তর্নিমিত ব্যাটারি, একটি প্রসেসিং ইউনিট এবং বেতার সংযোগ। জুতাগুলোর সামনের অংশে আছে পানি ও ধুলা প্রতিরোধী আবরণ। এটি উন্নতমানের চামড়া দিয়ে তৈরি। একটি ইএসবি-সি ক্যাবল ব্যবহার করে এটি রি চার্জ করা যায়।

চাঁদ ও মঙ্গল মিশনের জন্য চীন একটি শক্তিশালী পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করছে। এটি এক মেগাওয়াট বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম। নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে যে ডিভাইস স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে, এটি তার চেয়ে শতগুণ বেশি শক্তিশালী। চাঁদ বা মঙ্গলে মানববসতি স্থাপনের অভিপ্রায় ও চাহিদা পূরণ করবে এই চুল্লি। চলতি দশকের শেষের দিকে এটি তৈরি হবে।

বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক, স্বয়ংক্রিয় ও পরিবেশবান্ধব মালবাহী সামুদ্রিক জাহাজ, ‘ইয়ারা বার্কল্যান্ড’ গত ১৯ নভেম্বর উন্মোচন করেছে নরওয়ে। ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৩,২০০ টন ধারণ ক্ষমতার এই জাহাজ আগামী ২ বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করবে।

যুক্তরাজ্যের রোলস-রয়েস গত ১৬ নভেম্বর বিশ্বের সর্বাধিক দ্রুত গতির বৈদ্যুতিক বিমানের পরীক্ষা চালিয়েছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৮৭.৪ মাইল। এই বিমানটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ৭,৫০০ ফোন চার্জ করার জন্য পর্যাপ্ত। সংস্থাটির প্রধান বলেছেন, আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র জুড়ে পরিবহনকে কার্বনমুক্ত করতে আমাদের যে নতুন প্রযুক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষা রয়েছে, এটি সেই উচ্চাকাক্সক্ষাকে সমর্থন করবে।

পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের এখন আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, রুশ, ফার্সি, টার্কিশ, চাইনিজ, বাংলা ও হাউসাসহ বিশ্বের মোট ১১টি ভাষায় ইসলামী বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহায়তা করছে টাচ স্কিন রোবট। ২১ ইঞ্চির এই রোবটটি স্মার্ট স্টপেজ সিস্টেম অনুসরণ করে সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে চলাফেরা করতে পারে।
বিশ্বে প্রথম স্বয়ংক্রিয় রোবট বোট চালু করেছে নেদারল্যান্ডসের এআইএএমস। এতে ওঠার পর গন্তব্যের নাম লিখলেই পৌঁছে যায়। অন্য কোনো নৌযানের সাথে সংঘর্ষের শঙ্কাও নেই। এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ডাস্টবিনের কাছে হাজির হয়। এরপর রোবট ডাস্টবিন থেকে সেগুলো স্থানান্তর করে বোটে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের বেলুন আবিষ্কার করেছে ইসরাইলের হাই হোপস ল্যাবস। এই বেলুন অপেক্ষাকৃত কম খরচে বায়ুম-লের ওপরের স্তর থেকে ঘনীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ করে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসবে। তারপর সেটি রিসাইকেল করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, দুই বছরের মধ্যে তারা বড় আকারের বেলুন তৈরি করবে। তখন দিনে প্রতিটি বেলুন এক টন করে কার্বন শোষণ করবে। চালকবিহীন ড্রোন এখন সামরিক খাতের অন্যতম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিন দিন এর ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।উপরন্তু ড্রোন কৃষি কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আদালতে অভিযুক্তকে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসিকিউটর পাঁচ বছরের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। ২০১৫-২০২০ সালে ১,৭০০ মামলা চালানো হয়েছিল। তখন প্রযুক্তিটি অপরাধের অভিযোগ শনাক্ত করতে ও অভিযুক্তকে চাপপ্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছিল। এটি ৯৭% নির্ভুলভাবে অভিযোগ চাপাতে পারে। এটি মৌখিক বর্ণনায় কাজ করে। অবশ্য বিশ্বব্যাপীই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। জার্মানির অনেক প্রসিকিউটর মামলা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ছবির সত্যতা যাচাই ও ডিজিটাল ফরেনসিকের মতো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশিরাও নবতর প্রযুক্তি আবিষ্কারে পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান শাওন সৌর বিদ্যুৎচালিত নৌযান, হোভারক্রাফট আবিষ্কার করেছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এটি তিনজন যাত্রী বহনে সক্ষম। সি-প্লেনের আদলে এর অবকাঠামো ফাইভার ও এলুমিনিয়ামের। এটা চালাতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি দরকার। শাওন এর আগে জ্বালানি ও চালকবিহীন গাড়ি ও বাতাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেশকিছু প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে।

বাংলাদেশি স্টার্ট আপ সোলশেয়ারের প্ল্যাটফর্ম ‘সোলবাজার’ সোলবক্স মিটার স্থাপন করে গ্রামের বাড়িতে স্থাপিত সোলার প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্যত্র বিক্রি করছে।সংস্থাটি এ পর্যন্ত ১০০টি মাইক্রো গ্রিড স্থাপন করে তাদের ডিভাইস স্থাপন করেছে। সোল বাজার ব্রিটেনের দ্য আর্থ শট পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে এবার। সংস্থাটি ইলেকট্রিক বাইক, ইলেকট্রিক রিকশাতেও এই সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

কালুরঘাটে নতুন সেতুর আধুনিক নকশা প্রণয়ন করেছে বোয়ালখালীর সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা। এ নকশায় ফুটপাতসহ চার লাইন বিশিষ্ট এই সেতুতে সড়ক, রেললাইন, সৌর বিদ্যুৎ, সিসিটিভি ক্যামেরা, যান চালকের ডাটা সংরক্ষণ, গাড়ির গতি পর্যবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে।

একই গাছে পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রজাতির ১০ রকমের ফল ফলিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন অস্ট্রেলিয়ার হুসাম সারাফ। কলম করার মাধ্যমে তিনি এটি ঘটিয়েছেন। তার বাগানে সাদা ও হলুদ রঙের নেকটারিনস, সাদা ও হলুদ রঙের পিচ, এপ্রিকট, পিচকটস, কাঠবাদাম, চেরি এবং লাল ও সোনালি রঙের পাম ফলে।

চীনের বুলেট ট্রেনে এবার পাখা গজাচ্ছে। উদ্দেশ্য, ওজন কমিয়ে গতিবেগ বাড়ানো। চীনা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্রেনের ক্যারেজে পাঁচ জোড়া ছোট ডানা যোগ করলে সেগুলো লিফট হিসেবে কাজ করবে এবং ট্রেনের ওজন কমে আসবে এক-তৃতীয়াংশ। তখন এর গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ চালিত যান ও উড়ন্ত যান তৈরির প্রচ- প্রতিযোগিতা শুরু করেছে বেশিরভাগ বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তন্মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ চালিতও রয়েছে।

কেয়ামতের সময় বা পৃথিবীর শেষের দিনগুলোতে যে যে ঘটনা ঘটবে তা ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপে বসানো হচ্ছে বিশাল ‘ব্ল্যাক বক্স’। তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এটি তৈরি করেছে পুরু ইস্পাত দিয়ে। এতে সহায়তা করেছে, ‘ক্লেমেঙ্গার বিবিডিও’ ও ‘দ্য গ্লুসোসাইটি। এটি বিমানের ব্ল্যাক বক্সের মতো। কোনোভাবেই ধ্বংস করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ব্ল্যাক বক্স বানানো হয়েছে অনেকটা নরওয়ের ‘ডুম্সডে ভল্ট’-এর আদলেই। যেখানে পৃথিবীর শেষের দিনের জন্য বানানো হয়েছে সুবিশাল দুর্গ। যার ভেতরে মজুত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণে নানা ধরনের শস্যবীজ। আর তাতে নিয়মিত প্রয়োজনীয় শস্যবীজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মহাসাগরগুলোর উপরিতল উঠে আসায় বিভিন্ন দেশ, মহাদেশ ডুবে শস্য উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়।

এ ধরনের আরও অনেক প্রযুক্তি রয়েছে, যা অতি সম্প্রতি আবিষ্কার হয়েছে, যার অন্যতম হচ্ছে ৫জি। ৫জি বিশ্বে নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। তেমনি রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বহু কর্মে। উপরন্তু এই দু’টি প্রযুক্তি মানুষের সমান্তরাল হয়ে উঠছে বিভিন্ন কর্মে। এসব প্রযুক্তির ব্যয় কম ও উৎপাদনশীলতা ব্যাপক হওয়ায় যে যত ব্যবহার করছে সে তত লাভবান হচ্ছে। তবে এতে বেকারত্ব বাড়ছে। শিশুরাও গেম প্রযুক্তিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। উপরন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।তবুও প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। তাই টেক ব্যবসায়ীদের সম্পদ ক্রমান্বয়ে স্ফীত হচ্ছে। এ খাতে বাংলাদেশও এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে আইসিটি খাতে রপ্তানি আয় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে বলে তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৯ ডিসেম্বর। যা’হোক, প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের শেষ কোথায় তা বলা কঠিন।তবে, অনুমেয়ে, অকল্পনীয় আরো অনেক কিছু উদ্ভাবন অপেক্ষা করছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রযুক্তির উৎকর্ষ
আরও পড়ুন