Inqilab Logo

শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও সুফল নেই

প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আইয়ুব আলী : চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও সুফল মিলছে না। প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কাঁচা বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী চক্র পণ্যের দাম ইচ্ছেমতো বাড়াচ্ছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় পণ্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নগরীর কাজির দেউড়ি বাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, কর্ণফুলী বাজার, স্টিল মিল বাজার, ইপিজেড বাজার, পাহাড়তলী বাজার, আতুরার ডিপো বাজার, ফইল্যাতলী বাজার, ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার, বিবিরহাট বাজার, কর্ণেলহাট বাজারসহ নগরীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ করে চাকরিজীবীসহ স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে। খুচরা ও পাইকারী বাজারের মধ্যে ব্যাপক ফারাক। নেই কোন মূল্যতালিকা।
এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার জানান, সম্প্রতি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনমনে নাভিশ^াস উঠেছে। জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের নির্দেশে ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মমিনুর রশিদের নেতৃত্বে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পাইকারী ও খুচরা বাজারে পণ্যের মূল্য মনিটরিং শুরু করা হয়। তিনি জানান, নগরীর কর্ণেল হাট ও পাহাড়তলী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চালের আড়তগুলোতে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা হলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দোকানে কোন মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা হয়নি এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদও দেখাতে পারেনি দোকানীরা। এ দুটি বাজারে চালের মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল পর্যায়ে আসলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেশি। আড়তের সাথে পাইকারী ও খুচরা দোকানে তরিতরকারির (সবজি) মূল্য দোকান, বাজার ও প্রকারভেদে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। সাধারণ জনগণের ভোগান্তি রোধে নগরীর পাইকারী ও খুচরা বাজারের আড়তসহ প্রত্যেক দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদপত্র সাথে রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যরোধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করলেও লাগাম টেনে ধরতে পারছে না কতিপয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের। বাজার সূত্রে জানা যায়, যে মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যতক্ষণ চলে ততক্ষণ বাজার দর স্বাভাবিক থাকে। অভিযান শেষ হলে আবার বাজার দর পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়। গত সোমবার নগরীর কাজির দেউরী বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে মুরগী বিক্রেতা আব্দুল মালেক ও মোহাম্মদ ইদ্রিসকে ওজনে কারচুপির অপরাধে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ২ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ত্রুটিযুক্ত পাল্লা ও বাটাখারা জব্দ করা হয়। চকবাজার এলাকায় ইসলামিয়া স্টোরে মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ও অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি ও ক্রয় রসিদ দেখাতে না পারার অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। একই মার্কেটে ওজনে কারচুপির অপরাধে মুরগী বিক্রেতা শামসুল হক ও কাইয়ুমউদ্দিনকে যথাক্রমে ২ হাজার ও ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয় এবং ত্রুটিযুক্ত পাল্লা ও বাটখারা জব্দ করা হয়। নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় মেসার্স কে বি সল্ট মিলসকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লবণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লেবেলবিহীনভাবে লবণ বাজারজাতকরণের অপরাধে ২০ হাজার টাকা এবং সী গার্ড সল্ট ক্রাসিং ইন্ডাস্ট্রিকে বিধিমোতাবেক ভোজ্য লবণ প্যাকেটজাত না করে প্যাকেটবিহীনভাবে বাজারজাত করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়।
গত মঙ্গলবার নগরীর স্টিলমিল বাজারে সব্জির আড়তে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে মূল্যতালিকা না থাকা, অতিরিক্ত মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি ও ক্রয় রসিদ দেখাতে না পারায় কুমিল্লা সবজি বাজারের স্বত্বাধিকারী মইনউদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা ও মায়ের দোয়া সব্জি বিতানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কাওসারকে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের জলদাখানায় গরু জবাই না করে অবৈধভাবে বাজারের মধ্যে গরু জবাই ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে গোশত বিক্রেতা মোহাম্মদ আলীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। এছাড়া নগরীর ইপিজেড বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দ্রব্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রেয়াজউদ্দিন বাজার ও ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ চৌমুহনীস্থ চউক কর্ণফুলী মার্কেটে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ৪টি মুদি দোকান, ২টি চিংড়ি মাছের দোকান ও একটি মুরগি ফার্মকে ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসন। একই সাথে চিংড়ির মাথার ভেতরে বিষাক্ত জেলি ঢুকিয়ে বিক্রির অপরাধে ১৫ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করে তা গাড়ির চাকায় পৃষ্ঠে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফোরকান এলাহি অনুপম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফোরকান এলাহি অনুপম জানান, যতদিন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে না ততদিন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসবে। এতে জনগণ উপকৃত হবে। ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম জনগণকে ভোগান্তিতে না পেলে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শনসহ ওজনে কম না দিয়ে পণ্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ