Inqilab Logo

বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

তওবা করে ফিরে এলে শিরকেরও ক্ষমা হয়

মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ | প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

জন্মগতভাবে হোক আর স্বভাবগতভাবে হোক আমরা সব সময় সরল পথ এড়িয়ে বক্রপথে গমন শ্রেয় মনে করি। একটি কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুর সম্মুখে একপ্রান্তে একগ্লাস পানি আর অন্যপ্রান্তে এক চিলতে আগুন দেয়া হলে রঙ্গের দিক থেকে স্বর্ণোজ্জ্বল সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে শিশুটি আগুন হাত দিবে নিশ্চিত। বিষয়টি এমন যে, জন্মগতভাবে মানবজাতির বেড়ে ওঠা হয় ভুল সমূদ্রে ডুব সাতার কেটে। সুরা বাকারার ৩৫ নং আয়াতে মহান আল্লাতায়ালা স্পষ্ট করেন যে;গ্ধআমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি তোমার স্ত্রীসহ জান্নাতে বসবাস কর এবং যথা ইচ্ছা আহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না; হলে তোমরা অনাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।গ্ধমহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে মাতা হাওয়া (আঃ) তার সঙ্গীনিরুপে সৃষ্টি করতঃ চিরন্তন আবাসস্থল হিসেবে জান্নাতে বন্দোবস্ত করে কঠোরভাবে বারণ করে দিলেন যে একটি গাছের নিকট না যেতে এবং ঐ গাছের নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ না করতে। কিন্তু ইবলিশের ধোকায় পড়ে মহান রবের কঠোর হুকুমদারি অমান্য করে আদম ও হাওয়া গাছটির ফল ভক্ষন করে একটি অকৃতজ্ঞ মানবজাতির অধ্যায়ের সূচনা স্বরূপ জান্নাত থেকে বিতারিত হয়ে মর্তে পতিত হলেন। এখান থেকেই মানবজাতির ভুলের উৎপত্তি, যা চলবে কেয়ামত পর্যন্ত । মানুষকে বিভ্রান্তির মায়াজালে ফেলে পাপাচার্যে লিপ্ত হতে প্রকাশ্যে কাজ করছে শয়তান নামক ইবলিশ। পথভ্রষ্ট ও অহংকারি ইবলিশ আদম জাতিকে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষতিসাধনের দর্পণ মহান আল্লাহর নিকট থেকে চেয়েই এনেছে। মহান আল্লাহ ইবলিশের চাওয়া মঞ্জুর করেন যার পরিপ্রেক্ষিতে শয়তান মানুষকে ধোকা, কুমন্ত্রণায় ঘোরে মহান আল্লাহর দেখানো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখে চলেছে অহংকার ও দাম্ভিকতার সাথে। যেমন পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে;-(শয়তান বলল) “আমি মানুষের কাছে আসব ওদের সামনে থেকে, ওদের পেছন থেকে, ওদের ডান দিক থেকে এবং ওদের বাম দিক থেকে। আপনি দেখবেন ওরা বেশিরভাগই কৃতজ্ঞ না। [আল-আ’রাফ ৭:১৭]মানব জাতির রক্তে মিশে প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে শয়তান মানবজাতিকে গোমরাহন্তর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে মুখাপেক্ষী করে দুনিয়ার মোহে এমনভাবে মত্ত রাখবে যাতে করে বেশির ভাগ মানুষই আল্লাহর সৃষ্টি, মহিমা, গৌরব, আলাহর কৃপা, দান অস্বীকার করে শয়তানের দেখানো পথেই চলতে বাধ্য থাকবে। মহান আল্লাহ যিনি যুল জালালি ওয়াল ইকরাম যার অর্থ হচ্ছে; মহা মর্যাদাবান, মহা মহত্ত্ব, মহা সম্মানিত, মহা মহিমাবান, মহা দয়াবান, মহা দানশীল, মহা গর্ব, মহা দাম্ভিক ও মহা অহংকারী। আবার মহান আল্লাহ হচ্ছেন আত তাওয়াব ও গাফুরুর রহিম অর্থাত, তওবার তওফিক দানকারী, কবূলকারি ও পরম ক্ষমাশীল। সুতারাং যাকে খুশি তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে খুশি তিনি শাস্তি দিবেন। মহান আল্লাহ কতোটা মহত্ব ও দয়াশীল যার বহু সোনালী দৃষ্ঠান্ত এসেছে হাদিসে।যেমন;আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃনবী (সাঃ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে, নিরানব্বইটি মানুষ হত্যা করেছিল। অতঃপর বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞেস করল, আমার তওবা কবুল হবার আশা আছে কি? পাদরী বলল, না। তখন সে পাদরীকেও হত্যা করল। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হল এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেল। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেল। মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফেরেশতামন্ডলী তার রূহকে নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। আল্লাহ্ সামনের ভূমিকে আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও এবং পশ্চাতে ফেলে স্থানকে (যেখানে হত্যাকান্ড ঘটেছিল) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর ফেরেশতাদের উভয় দলকে নির্দেশ দিলেন- তোমারা এখান থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ কর। পরিমাপ করা হল, দেখা গেল যে, মৃত লোকটি সামনের দিকে এক বিঘত বেশি এগিয়ে আছে। কাজেই তাকে ক্ষমা করা হল।( বুখারী ৩৪৭০ ও মুসলিম ৭১৮৪)। প্রিয় বন্ধুসকল,আপনি যতো কঠিন মাপের পাপে লিপ্ত হোন না কেনো ভয় পাবার কিছুই নেই। অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসে তওবা করলে অবশ্যই আমাদের রব ক্ষমা করবেন। একশটি মানুষ হত্যার পর যদি ব্যাক্তিটি ক্ষমাযোগ্য হয়ে থাকে তবে আপনার-আমার পাপ অতি নগণ্য। আর যা হোক মহান আল্লাহ তায়ালার সন্নিকটে দ্বিতীয়বার একইপাপের পুনরাবৃত্তি ঘটবেনা এই মর্মে তওবা করে ফিরে আসতে হবে যেমনটি অনুশোচনায় বিদ্বগ্ধ বণী ইসরাইলের লোকটি মহান আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত চিত্তে ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য দিকবিদিক ছুটেছিলো। পাপ যত বৃহৎ ও কঠিন হোক ক্ষমাও তত নিকটবর্তী তবে তওবা করতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে;গ্ধনিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশী স্থাপনকারিকে ক্ষমা করবেন না এবং তদ্ব্যতীত যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যে কেহ আল্লাহর অংশী স্থির করে সে মহাপাপে আবদ্ধ হল। (নিসা-৪৮ নং আয়াত)।গ্ধআয়াতের ব্যাখ্যা হলো,আল্লাহর সাথে শিরক বা অংশীদার করা ব্যাতীত সকল পাপীষ্ঠকে তিনি ক্ষমা করে দেন। আবার হতে পারে পাপের আকৃতি অনেক বড় ,হতে পারে যেনা, ব্যাভিচার, অত্যাচারী, খুন, খারাপি সহ পর্বত সমান, কিংবা মেঘমালা পর্যন্ত ছুঁয়ে গেছে এমন পাপ, তওবা করে ফিরে আসলে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন এমন ভাবে খুশির সংবাদ দিয়েছেন আমাদের রাসূল (সাঃ)।আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি , বারাকাতময় আল্লাহ তা’আলা বলেন; ্রহে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ্র পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিসর গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আসো এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হবো।(তিরমিজি - ৩৫৪০)। শিরক ব্যতিরেকে সকল পাপ মার্জনীয়। তাহলে শিরক সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যাবশ্যকীয় নয় কি? মুসলমান হিসেবে আমরা মনে করি ইহুদী,খ্রীস্টান, হিন্দু, বৌদ্দ সহ পৃথিবীর সকল ধর্মালম্বীরা কেবলমাত্র শিরকে লিপ্ত থাকে,তারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করেনা,আল্লাহর স্ত্রী সন্তান হিসেবে মরিয়ম ঈসাকে শরীক করে, আল্লাহর সত্ত্বার বিকল্প হিসেবে একাধিক দেব দেবীর পূজা করে, আল্লাহকে স্বল্পভাবে মানে বা একদম মানে না বলে তারা শিরকের অন্তর্ভূক্ত হবে। আমরা মুসলমান এক আল্লাহকে বিশ্বাস করি সুতারাং তার সাথে আমাদের শিরক করা হয়না। দেখা যাক কোরআন কি বলে! সূরা ইউনুসের ১০৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে-গ্ধতুমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডেকো না, যে তোমার কোন উপকারও করতে পারে না ক্ষতিও করতে পারে না। যদি তা করো নিশ্চয়ই তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।গ্ধ আমরা মুসলমানদের ভিতরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিতে প্রচলন রয়েছে সেটি হচ্ছে পীর আউলিয়া, দরবেশরা হাজির নাজির,তারা মৃত অথবা জীবিত অবস্থায় গায়েবী জানেন। সেকারনে কোনো সমস্যাজণিত কারণে তাদের সাহায্য চাওয়া হয়। এমনকি কবর বা মাজারে হাত উত্তোলন করে সাহায্য যাওয়া হয়, মাজারে সিজদা দেয়া হয়। যেমনসূরা আন আম›-এর ৫৯ আয়াতে বলা হয়েছে;গ্ধতাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবিকাঠিসমূহ, তিনি ব্যতীত কেউ তা জানে না।গ্ধএমনকি রাসূল (সাঃ) গায়েব জানতেন না।তার কাছে সব খবর আসতো ওহীর মাধ্যমে।হাদীসে আছে আয়িশা (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বলে মুহাম্মাদ (সাঃ) স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন, চক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (সাঃ) গায়েব জানেন, সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেন, গায়িব জানেন একমাত্র আল্লাহ্। [ বুখারী - ৭৩৮০ ]সুতারাং আদম (আঃ) থেকে অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরিত হয়েছেন যাদের মধ্যে কেউ গায়েব জেনেছেন এমন প্রমান কোরআন হাদিসে মেলেনি এমনকি যেখানে রাসূল (সাঃ) স্বয়ং গায়েব জানতেন না, কোনো কিছু জানার জন্য প্রতীক্ষা করতে হতো জিব্রাইল (আঃ) না আগমন পর্যন্ত। সুরা বাকারার ১৬৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে;গ্ধমানুষের মধ্যে এমন অনেক আছে যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে নেয় এবং তাদেরকে আল্লাহর ভালবাসার মত ভালবাসে। আর যারা ঈমানদার তাদের সবচেয়ে বেশি ভালবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্যই।গ্ধকিছু মুসলিম নামধারী অজ্ঞ,মূর্খতার,গোড়াঁমি বা একতরফার কারনে কোরআন হাদিস সঠিক চর্চ্চা না করে কিংবা একদম না পড়ে শুধুমাত্র শোনা কথায় অন্যের উপর নিভরশীল হয়ে পীর,আউলিয়া,দরবেশদের শানে অতিমাত্রা ভক্তি প্রদর্শনের নামে মহান আল্লাহকে তুচ্ছ করে শিরকী করে যাচ্ছে।মনে রাখতে হবে মুক্তি দেয়ার মালিক আল্লাহ এবং কিয়ামতের মাঠে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হবে একমাত্র রাসূল (সাঃ) কে। অন্য কাউকে নয়। সুতারাংআল্লাহর নিজ সত্ত্বার সাথে, ইবাদত, তাঁর যে কোন গুনবাচক নাম, তাঁর বিধান ও পছন্দের সাথে,সম্মান ও ইজ্জতের সাথে, দয়া, করুনা, অনুগ্রহ, তাঁর আনুগত্যে ও মান্নত করার ক্ষেত্রে এবং পশু যবেহ করার ক্ষেত্রে শিরকী করাকে শিরকী আকবার বা বড় শিরক বলা হয়।এ অবস্থায় কোনো মুসলিম নামাজ, রোজা সহ সকল ইবাদাত করেও মৃত্যুবরণ করলে সরাসরি জাহান্নামে যাবে। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে; ্রনিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ সাথে শির্ক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন। জাহান্নামই তার আবাসস্থল। আর জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।)[সূরা মায়িদা, আয়াত: ৭২]এই ধরনের শিরকে পিছনের সম্পূর্ন আমল নষ্ট হয়ে ইহুদি,খ্রীস্টান,হিন্দু, বৌদ্দদের সমতূল্য হয়ে কাফির হয়ে যায়।হাদিসে এসেছে যে নবী (সাঃ) বলেছেন “যে ব্যক্তি (শিরক) এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে, সে আল্লাহ সাথে অপর কোন সমকক্ষকে ডাকে সে অগ্নিতে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে।”[সহিহ বুখারী ৪৪৯৭ ও সহিহ মুসলিম ৯২]আর শিরকে আসগর ছোট খাটো শিরক যা কবিরা গুনাহ নামে পরিচিত।এতে পেছনের সব আমল নষ্ট হয়না। এগুলো হচ্ছে গোপন শিরক বা ছোট শিরক যেমনঃ মানুষকে দেখানো বা প্রদর্শনের জন্য ইবাদত করা,আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম কাটাা এগুলো রিয়া বা লৌকিকতা। রাসূল (সাঃ) বলেন;গ্ধআমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরককে ভয় পাচ্ছি। জিজ্ঞেস করা হলো ছোট শিরক কি? উত্তরে তিনি বলেন, তা হচ্ছে ‘রিয়া’ বা লৌকিকতা”। এগুলোর জন্য পূনরাবৃত্তি ঘটবেনা এ মর্মে অনুতপ্ত হয়ে গভীরভাবে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন ইনশাহআল্লাহ।হযরত ইবাদা বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, গোনাহ থেকে তওবাকারী গোনাহ করে নাই ব্যক্তির মত হয়ে যায়। [সুনানে ইবনে মাজাহ-৪২৫০]তাহলে কি শিরকে আকবার বা বড় শিরক ক্ষমার অযোগ্য?তওবা করলে ক্ষমা হয়না? অবশ্যই হয়। কোনো কাফির আজকের এই মুহূর্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলে তার পিছনের সকল শিরকী মাফ করা হয়। একজন মুসলিম যখন অনুধাবন করতে সক্ষম হবে যে সে শিরকী আকবারের মতো বড় শিরক করে ফেলছে এখন সে তওবা করবে।মহান আল্লাহ তার গাফুরুর রহমান নামের উছিলায় তাকেও ক্ষমা করে দিবেন। কারন সেও সদ্য মুসলিম গ্রহনকারীর মতো। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ কাফিরদের সুসংবাদ দান করেন এই বলেগ্ধনিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা (শিরক) থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।গ্ধ আল্লাহ আমাদের সকলকে বোঝার মতো তৌফিক দান করুন।

লেখকঃ সাংবাদিক,গবেষক ও সাবেক প্রভাষক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন