Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এতটা আলোচিত কেন?

প্রকাশের সময় : ২৯ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হোসেন মাহমুদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৮ নভেম্বর। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো দেশের নির্বাচন নিয়ে বিশে^ এতটা আগ্রহ দেখা যায় না। এবারে সে আগ্রহের পরিমাণ অনেক বেশি। এর কারণ এবারের দুই দলের দুই প্রার্থী। একজন হলেন  ডেমোক্রেট দলের হিলারি ক্লিনটন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ আট বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি ছিলেন। পরে তিনি বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সির মেয়াদে বেশ কয়েক বছর (২০০৯-২০১৩) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনিই প্রথম ফার্স্টলেডি যিনি কোনো সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আরেকজন হচ্ছেন ধনী ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি নানা কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদায় নিজেকে সর্বনি¤œস্থানে স্থাপন করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দু’জনেই বহু পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। তিন দফা বিতর্ক হয়েছে দু’জনের। তিনটিতেই জয়ী হয়েছেন হিলারি। ১৯ অক্টোবর শেষ বিতর্কে দেখা গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে শান্ত স্থির থাকলেও শীঘ্রই পরিস্থিতি পাল্টে যায়, তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন ও নিজের স্বভাবে ফিরে যান। সে তুলনায় হিলারি ছিলেন বরাবরই শান্ত, নিজের মেজাজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। শেষের এ বিতর্কটি হিলারির চেয়ে ট্রাম্পের জন্য ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ট্রাম্প এ বিতর্কে নিজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হন। এই বিতর্কে পররাষ্ট্র নীতি, সুপ্রিম কোর্ট, মার্কিন বাজেট ঘাটতি বা গর্ভপাতের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। বিতর্কের পর ২১ আগস্ট পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ৪১.৯ শতাংশ আর হিলারির প্রতি জনসমর্থন ৪৮.১ শতাংশ অর্থাৎ ট্রাম্পের চেয়ে ৬.২ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। যুক্তরাজ্যের দি গার্ডিয়ান পত্রিকার রাজনৈতিক কলামিস্ট জিল আব্রামসন এ বিতর্কের পর লেখেন, হিলারি যখন ধৈর্য দেখিয়ে নিজের অবস্থান সুসংসহত করেছেন, তখন ট্রাম্প নিজেকে একজন যোগ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরার সেরা সুযোগটিও হেলায় হারিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, হিলারি স্পষ্টতই জানেন, আরো একবার ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তিনি।
এ বিতর্কে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়া বিষয়ে তার বক্তব্য। এ বিতর্ককালে সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী না হলে সে ফলাফল নাও মেনে নিতে পারেন। তার এ কথা শ্রোতা-দর্শকদের হতবাক করে। তার আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এ রকম মারাত্মক মন্তব্য করেননি। শুধু এ বিতর্কেই নয়, পরদিন এক সমাবেশেও তিনি একই কথা বলেন যে বিজয়ী হলে তিনি ফলাফল মেনে নেবেন। তার ভাষায়, নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার তার আছে। অনেকের মতে, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। ট্রাম্প সে ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার সমর্থকরাও মনে করেন যে তিনি বিতর্কে প্রথম দিকে ভালোই করছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে শেষ মুহুর্তে সব গুবলেট করে ফেলেন।
বস্তুত, আগে থেকেই ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাবি করে আসছেন। তিনি বলেন, কারচুপির মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য গণমাধ্যম ও বৃহৎ পুঁজি প্রতিষ্ঠানগুলো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
এ প্রেক্ষাপটে হিলারি ট্রাম্পকে মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করার চেষ্টা করেছেন। শেষ বিতর্কের দু’দিন পর হিলারি এক সমাবেশে বলেন, নির্বাচনের ফলাফলকে শ্রদ্ধা করবেন, এই কথা বলতে অস্বীকার করার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছেন।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে, আগে ও পরেও ট্রাম্পের নানা রকম কথাবার্তা যেমন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে একই সাথে তার প্রতি জনসমর্থনও বেড়েছে। ১৪-২০ অক্টোবর পর্যন্ত জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যায় যে হিলারির সাথে ট্রাম্পের পিছিয়ে থাকার ব্যবধান হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে তিনি নির্বাচনে যে কারচুপির আশংকা ব্যক্ত করেছেন অনেকেই প্রথমে তার সমালোচনা করেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে তার দলের অনেকে এ কথায় প্রভাবিতও হয়েছেন এবং মনে করছেন যে হিলারিকে জয়ী করতে নির্বাচনে কারচুপি হতেও পারে। জরিপে আরো দেখা গেছে, হিলারি নির্বাচনে জয়ী হলে ৫০ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকই তা মেনে নেবেন না। আর ৭০ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক মনে করেন যে শুধু কারচুপি হলেই হিলারি জয়ী হতে পারেন। এ থেকে বোঝা যায়, এবারের নির্বাচন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রার্থীর কারণে মার্কিন ভোটদাতাদেরও বিভক্ত হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ২৪ অক্টোবর সিএনএন/ওআরসির সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ ভোটার হিলারিকে এবং ৪৪ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ হিলারি ৫ শতাংশ বেশি সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে এবিসির সর্বশেষ জরিপে বলা হয়েছে, হিলারির প্রতি সমর্থন ট্রাম্পের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। হিলারিকে সমর্থন করেছেন ৫০ শতাংশ ও ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন ৩৮ শতাংশ ভোটার।  জানা গেছে, ট্রাম্প তার পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করেছেন, তবে এর জন্য দায়ী করেছেন তথ্য মাধ্যমকে। তিনি বলেছেন, পত্র-পত্রিকায় তার পিছিয়ে থাকার কথা বলা হলেও আসলে তিনি এগিয়ে আছেন। নিজের সমর্থকদের মধ্যেও তার সমর্থন কমেনি।
লক্ষণীয় যে ট্রাম্প শুরু থেকেই তার নির্বাচনী প্রচারণার মুখ্য বিষয় করেন অভিবাসী ও মুসলমানদের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বিরোধী। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী আসা রুখতে তিনি প্রেসিডেন্ট হলে দু’দেশের সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা করেন।  অন্যদিকে তিনি প্রেসিডেন্ট হলে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানান। তিনি মুসলমানদের সন্ত্রাসী বলেও আখ্যায়িত করেন। তার এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে মার্কিন মুসলমানরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা জোর প্রতিবাদ জানান। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও হিলারি ক্লিনটনও তার এ কথার নিন্দা করেন ও প্রতিবাদ জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শে^তাঙ্গ প্রাধান্য প্রসারের পক্ষে।  এসব কথা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শে^তাঙ্গদের সমর্থন বৃদ্ধি করেছে। শে^তাঙ্গদের বেশিরভাগই অভিবাসন বিরোধী। তারা মনে করে যে ট্রাম্প তাদের মনের কথাই বলেছেন। জরিপে দেখা যায়, বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত শে^তাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে শিক্ষিত শে^তাঙ্গদের মধ্যে হিলারির প্রতি সমর্থন ট্রাম্পের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি দেখা গেছে।
জানা গেছে, ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবেও হিলারি এগিয়ে আছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপের ভিত্তিতে তৈরি ইলেকটোরাল মানচিত্র বলে যে এই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে হিলারি পাবেন ৩২৩টি ও ট্রাম্প পাবেন ১৮০ ভোট। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট। এর পাশাপাশি আগাম ভোটের হিসাবেও হিলারির এগিয়ে থাকার কথা জানা যাচ্ছে। আগাম ভোট দেয়া শুরু হয়েছে অনেক রাজ্যেই। ৬৫ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েও ফেলেছেন। ভোটাররা কাদের ভোট দিয়েছেন তা জানার কোনো উপায় নেই। তবে উভয় দলই ব্যালট সংগ্রহের হিসেব দিয়েছে। এতে দেখা যায় যে ডেমোক্রেট ভোটাররা আগাম ভোটে বেশি সংখ্যায় অংশ নিয়েছেন। জনমত জরিপে দেখা যায়, ‘ব্যাটলউন্ড স্টেট’ বলে পরিচিত ৮টি রাজ্যে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারির সমর্থন ১৯ পয়েন্ট বেশি। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও মিশেল ওবামা আগাম ভোট ব্যবস্থার সুযোগ নিতে ডেমোক্রেটদের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন।    
ট্রাম্পের তুলনায় হিলারির অতীত বর্ণাঢ্য। তারপরও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তিনি যে খুবই যোগ্য তা অনেকেই মনে করেন না। কিন্তু তিনি যে ট্রাম্পের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী তাতে কোনো দ্বিমত নেই। ডেমোক্রেট দলের মধ্যে তাকে নিয়ে কোনো রকম বিরোধ বা অস্বস্তি নেই। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামা হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে জোরশোরে প্রচারণায় নেমেছেন। মার্কিন জনগণের মধ্যে মিশেল ওবামার একটি পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। তা হিলারির জন্য সহায়ক হয়েছে। এমনকি মার্কিন খ্যাতনামা ও খ্যাতনা¤œী চিত্রতারকাদের এক বিরাট অংশ তার পক্ষে প্রচারে অবতীর্ণ হয়েছেন। সে তুলনায় ট্রাম্প তার নিজের দলের সমর্থন পেতেই ব্যর্থ হয়েছেন। তার পক্ষ ত্যাগ করেছেন দলের অনেকেই। রিপাবলিকান সমর্থকদের বেশ কিছু লোকের ভোট তিনি পাবেন না। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠবে, রাশিয়ার সাথেও সম্পর্ক গভীর হবে এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হবে বলেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে তার সুবিধা হবে বলে মনে করছেন। তিনি মার্কিন নির্বাচন দেখার জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাতে চেয়েছেন যদিও যুক্তরাষ্ট্র সে অনুমতি দেয়নি। ট্রাম্প নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা অশালীন ও তাতে তার সম্পর্কে নারী ভোটারদের বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা একাধিকবার বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। সব মিলিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প সম্পর্কে সার্বিক সমর্থন না থাকলেও এত কিছুর পরও রিপাবলিকান দলসহ জনসমর্থনে তিনি হিলারির চেয়ে যে ভীষণভাবে পিছিয়ে আছেন তা নয়। এতে বোঝা যায় যে বিশেষ করে মার্কিন শে^তাঙ্গ প্রাধান্য বজায় রাখার যে দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করেন শে^তাঙ্গ ভোটারদের তা বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা যায়। জর্জ বুশ ২০০০ সালে প্রথম দফা নির্বাচিত হন। তারপর ৯/১১-র পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রথমে আফগানিস্তানে ধ্বংসলীলা চালান। তারপর মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবার বড়ে যুক্তরাজ্যকে সাথে নিয়ে ইরাক দখল করে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ইরাকে ধ্বংসের আগুন জ¦লে, রক্তের বন্যা বয়ে যায়। বুশের ইরাক দখল এবং হত্যা ও ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যাপক প্রতিবাদ ওঠে। এরমধ্যে ২০০৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে সেই খুনী বুশই বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হন। বুশের সে জয়লাভ শান্তিকামী বিশ^কে অবাক করেছিল। এ প্রশ্ন উঠেছিল যে তবে কি সংখ্যাগষ্ঠি মার্কিন ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রকে এক যুদ্ধবাজ ও পরদেশ দখলকারী শক্তি হিসেবেই দেখতে চায়? সে জন্যই কি তারা খুনী, রক্তলোলুপ, নৈতিকতা বোধহীন জর্জ বুশকেই ফের জয়ী করল? কোনো সন্দেহ নেই, সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিকামী ও নীতিবাদী মানুষদের পরাজয় ঘটেছিল। সে কথা ভাবলে এবারের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় নিশ্চিত, সে কথা বলা এখন পর্যন্ত সম্ভব নয় যদিও হিলারির জয়লাভের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচন ও জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণে বিশে^ বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। জর্জ বুশের আমলে সন্ত্রাস দমনের নামে বিশে^ নিজেকে জঘন্য যুদ্ধবাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল আমেরিকা। বারাক ওবামা তার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সে যুদ্ধবাজ ইমেজের কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। তাতে হিলারি ক্লিনটনেরও একটি ভূমিকা ছিল। ট্রাম্প যদি নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে আবার সে ইমেজ ফিরে আসবে বলে ধরে নেয়া যায়। আর হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে তিনি ওবামার অনুসৃত ধারাটিই অনুসরণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্থান ও শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তরকালে বিশ^শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার। নব্বই দশকের শুরুতে মহাশক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের ফলে সে দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের একার উপর বর্তায়। রুশ ভল্লুকের হারানো নখর আবার গজিয়ে উঠেছে। আফগানিস্তান ও ইরাকের বেলায় নিশ্চুপ থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার ঘটনায় গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে রাশিয়া। তার পাশাপাশি অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে পাঞ্জা লড়ার দিকে পা ফেলছে সে। ভূরাজনীতিতে আজ তাই শুধু বিস্ময়কর ও ক্রমাগত পরিবর্তনের ¯্রােত বইছে। আরো আছে আইএসের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী শক্তির মোকাবেলা। এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের বোঝা কে বইবেন, হিলারি না ট্রাম্প তার পরিষ্কার জবাব পেতে আমাদের আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
লেখক : সাংবাদিক
h_mahmudbd@yahoo.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।