Inqilab Logo

সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পলায়নপর শরণার্থীরা মোরি নদীর ওপারে

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

থাইল্যান্ডের মোরি নদীর ওপারে মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে প্রায় দু’হাজার নারী, শিশু ও পুরুষকে দেখা গেছে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবন যাপন করতে। খবরে বলা হয়, সংঘাত কবলিত মিয়ানমারের হাজারো গ্রামবাসী দেশটির থাই সীমান্তে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী নদীর ধারে অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান নিয়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলার ভয়ে তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। প্রতিরোধ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কায়াহ রাজ্যের রাজধানী লোইকাও, ডেমোসো টাউনে লড়াইয়ে দুই ক্যাপ্টেনসহ অন্তত সরকারের ২৩ সেনা নিহত হয়েছেন। সংঘাতে আহত হন আরও অনেকে। তবে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এ ঘটনা স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। গত বছর মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা যুদ্ধে হাজারো বিদ্রোহী ও বেসামরিক ব্যক্তি মারা যান। এছাড়া মিয়ানমারের অসংখ্য নাগরিক দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন শরণার্থীর জীবন বেছে নিয়েছেন। এখন তারা মিয়ানমারের বিভিন্ন নিরাপদ অঞ্চল ও তার আশপাশের দেশগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। মিয়ানমারের অসংখ্য নাগরিক থাইল্যান্ডেও আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু, থাই শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এ কারণে অনেক বার্মিজ তাদের দেশে ফেরত এসেছেন। তারা মিয়ানমারের থাই সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলার ভয়ে তারা ঘরে ফিরতেও ভয় পাচ্ছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এসব বার্মিজ শরণার্থীদের সাহায্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টাররা জানিয়েছেন, শুক্রবার থাইল্যান্ডের মোরি নদীর ওপারে মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে প্রায় দু’হাজার নারী, শিশু ও পুরুষকে দেখা গেছে অস্থায়ী তাবুতে মানবেতর জীবন যাপন করতে। অপর এক খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেনি আর্মি (কেএ) ক্যাম্পে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। থাই সীমান্তবর্তী পাহাড় হাওয়ে পু লং সীমান্তের ক্যাম্পে শুক্রবার পাঁচবার বিমান হামলা হয়। এমন দাবি করেছেন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল প্রগ্রেসিভ পার্টি (কেএনপিপি) সেক্রেটারি খু ড্যানিয়েল। শুক্রবার মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, বিমান হামলার পর থেকে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জান্তার হামলা থেকে জীবন বাঁচাতে থাই প্রদেশের মায়ে হং সং-এ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় দুইশ গ্রামবাসী। হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হাওয়ে পু লং-এ অতীতেও (কেএ) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর খবর পাওয়া যায়। প্রতিরোধ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কায়াহ রাজ্যের রাজধানী লোইকাও, ডেমোসো টাউনে লড়াইয়ে দুই ক্যাপ্টেনসহ অন্তত সরকারের ২৩ সেনা নিহত হয়েছেন। সংঘাতে আহত হন আরও অনেকে। তবে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এ ঘটনা স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় বসার পর থেকে এ অঞ্চলে আবারও অস্থিরতা বেড়েছে। কারেনি আর্মি (কেএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রতিরোধ বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে তারা মিয়ানমারের জান্তা সেনাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সেক্রেটারি খু ড্যানিয়েল সতর্ক করে বলেছেন, এই রাজ্যে যতদিন জান্তা বাহিনী থাকবে তাদের লড়াই চলবে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন তিনি। আল-জাজিরা, ইরাবতী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ