Inqilab Logo

সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বাসন্ডা বেলীসেতু পুনর্বাসনসহ পিরোজপুর বাইপাস নির্মিত না হওয়ায় সমাপ্তপ্রায় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর সুফল সুদূর পরাহত

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:৫৮ এএম

চট্টগ্রাম-বরিশাল-মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেকুঠিয়াতে হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মান কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রায় ৩০ বছরের পুরনো ‘বাসন্ডা বেলী ব্রীজ’ পূণর্বাশন সহ রাজাপুরÑবেকুঠিয়া এবং পিরোজপুর বাইপাস সড়ক নির্মিত না হওয়ায় মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এমনকি এসব সমস্যার সমাধান না হলে বেকুঠিয়ায় নির্মানাধীন ‘৮ম বাংলাদেশÑচীন মৈত্রী সেত’ু কতটা কার্যকরি ভ’মিকা রাখবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সড়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। এমনকি নির্মনাধীন মৈত্রী সেতুটির ডিপিপি’তে ‘পিরোজপুর বাইপাস’ নির্মান প্রকল্পটিও অন্তভর্’ক্তির বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ইতোপূর্বে দাবী জানালেও তা আমলে নেয়নি সড়ক অধিদপ্তর। তবে গত ৫ বছরে এ লক্ষে একটি সমিক্ষা সম্পন্ন হলেও সে আলোকে পরবর্তি কোন পদক্ষেপও গ্রহন করা হচ্ছে না। এমনকি রাজাপুর থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত সড়কটি আজ পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক দুরের কথা আঞ্চলিক মহাসড়কেও উন্নীত হয়নি। অথচ এ সড়কের ওপরই চট্টগ্রাম-বরিশাল ও খুলনা বিভাগ সহ দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দরের সড়ক যোগাযোগ নির্ভরশীল।
কিন্তু মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মানের বিষয়টি এখনো চরম অনিশ্চয়তায় থাকায় আগামী জুলাইতে বেকুঠিয়াতে ৮ম মৈত্রী সেতুটি চালু হলে পিরোজপুর শহরে ভয়াবহ যানযট সৃষ্টির আশংকা করছেন সড়ক বিশেষজ্ঞগন। কারণ সুদুর চট্টগ্রামÑলক্ষ্মীপুরÑভোলাÑবরিশাল ও ঝালকাঠী থেকে মোংল, বেনাপোল ও ভোমড়া বন্দর সহ সমগ্র খুলনা বিভাগের যানবাহন সমুহ বেকুঠিয়া সেতু পার হয়ে পিরোজপুর শহরের মধ্যে দিয়েই চলাচল করতে হবে। বেকুঠিয়াতে ৮ম মৈত্রী সেতুটির সংযোগ সড়ক পিরোজপুর শহরের মধ্যবর্তি সড়কের সাথেই সংযুক্ত।
অথচ সেতুটির পশ্চিম প্রান্তের দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি পিরোজপুর শহরের বাইরে বলেশ^র সেতুর সংযোগ সড়কে সংযুক্ত করলেই এ সমস্যার সমাধান মিলত বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক অধিদপ্তরের একাধীক দায়িত্বশীল সূত্র। এজন্য মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মান করলেই সমাধান মিলবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
অপরদিকে ঐ মহাসড়কের ঝালকাঠী ও বেকুঠিয়ার মধ্যবর্তি সড়কের বাসন্ডা নদীর ওপর প্রায় ৩০ বছরের পুরেনো বেলী সেতুটি ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরের বার বার মেরামত করে কোটি টাকার ওপরে ব্যায় করা হলেও এখন তাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অতি সম্প্রতি বরিশাল জোনের বিভিন্ন সড়ক বিভাগ থেকে বেলী সরঞ্জাম সংগ্রহ করে বেলী সেতুটি মেরামত করা হলেও তা কতটা টেকসই হবে সে বিষয়ে কোন নিশ্চয়তার কথা বলতে পারেননি সড়ক অধিদপ্তরের কেউ।
তবে বরিশাল সড়ক সার্কেলের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রায় ৪শ ফুট দীর্ঘ ‘বাসন্ডা সেত’ুর বিদ্যমান কাঠামোর ওপর ‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ পদ্ধতির সেতু নির্মান সম্ভব কিনা সে বিষয়ে ডিজাইন সার্কেলে তথ্য উপাত্ত পাঠান হয়েছে। সেখানের সিদ্ধান্তের ওপরই পারবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করা হতে পারে। তবে এ সেতুটি এখনো কোন প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপরে স্বল্প ব্যায়ে শুধু ডেকস্লাব নির্মানের মাধ্যমে সেতুটি পূণর্বাশন করা হলে তা ১৮Ñ২০ মাসের মধ্যেই সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান সেতুটির পাশে ফেরি সার্ভিস চালু বা আরেকটি বেলি সেতু নির্মান করে সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। কিন্তু ৪ শতাধীক ফুট দৈর্ঘের ‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ টাইপের নতুন সেতু নির্মানে নুন্যতম ৩শ কোটি টাকা ব্যায় হবে। সে লক্ষে নতুন ডিজাইন ও ডিপিপি প্রস্তুত করে তা অনুমোদন, দরপত্র আহবান সহ কাজ শেষ করতে নুন্যতম ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল। পুরো বিষয়টিই সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানা গেছে।
একইভাবে রাজাপুর থেকে বেকুঠিয়ায় মৈত্রী সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারে দীর্ঘ দিনের পুরনো ছোট ও মাঝারী আরো ৫টি বেলী সেতু এ সড়কে প্রায়শই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তবে ইতোমধ্যে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের অধীন ২টি সেতু আরসিসি’তে পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। আরেকটিও দরপত্র আহবন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে ঐ ১২ কিলোমটার সহ পিরোজপুর প্রান্তের বলেশ^র সেতু পর্যন্ত আরো প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক এখনো জেলা সংযোগ সড়কের মর্যাদায় থাকায় তেমন কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রসস্ত মাত্র ১৮ ফুট।
ইতোমধ্যে বরিশাল সড়ক জোন থেকে বরিশাল Ñ ঝালকাঠী Ñ পিরোজপুর Ñ বাগেরহাট Ñ খুলনা মহাসড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করনের প্রস্তাব মন্ত্রনালয় অনুমোদন করলেও বিষয়টি চুড়ান্ত অনুমোদনে খুব শিঘ্রই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠান হবে বলে জানা গেছে। অনুমোদনের পরে এ সড়কের পরিপূর্ণ পূণর্বাশন সহ তা জাতীয় মহাসড়কের পর্যায়ে রক্ষনাক্ষেন করা হবে বলেও জানিয়েছে একাধীক সূত্র।
তবে বরিশালÑমোংলাÑখুলনা মহাসড়কটি কবে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হবে এবং বাসন্ডা সেতুর পূণর্বাশন বা পূণঃ নির্মান সহ পিরোজপুর বাইপাাস নির্মানের পরে ‘৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটির সুফল মিলবে তা বলতে পারেন নি সড়ক অধিদপ্তরের কেউ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ