Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী

খুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সন্ত্রাসীরা তৃণমূল রাজনীতি সরগরম

প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ.টি.এম. রফিক, খুলনা থেকে ঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতেই প্রচার-প্রচারণায়, আর্শীবাদ প্রার্থনা ও দলীয় সমর্থন পেতে সরগরম ‘ভিলেজ পলিটিক্স’। আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা জানান দিতে মাঠে নামছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও। প্রতিদিনই নিজ নিজ এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। আবার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের নামও রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়। চলছে গ্রাম্য রাজনীতির পরস্পারিক কাঁদা ছোড়াছুড়িও। এ অবস্থায় তৃণমূল রাজনীতি দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রথম দফায় খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৭টিতে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন খুলনার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রæয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, খুলনা বিভাগে ২৫৫টি ইউনিয়নে প্রথম কিস্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশের ও স্থানীয়দের সূত্রমতে, খুলনা জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের চেয়াম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল। ফিল্মি স্টাইলে প্রকাশ্যে পিটিয়ে একাধিক হত্যার পরও বীরদর্পে দম্ভোক্তি করার কারণে এলাকাবাসীর কাছে তিনি ‘ফাঁটা কেষ্ট’ নামেই বেশি পরিচিত। সর্বশেষ, ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি রাতে ইয়াছিন মোলাকে পিটিয়ে হত্যা করার পর নতুন করে সমালোচনায় ঝড় উঠে ‘ফাঁটা কেষ্ট’কে ঘিরে। হত্যাকাÐের পর মামলা হয়; গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে যান তিনি। তবে হত্যাকাÐের প্রতিবাদ ও চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঐক্যবন্ধ রূপসাবাসী দীর্ঘদিন আন্দোলনে করেছিল। পাঁচটি হত্যা মামলাসহ অন্তত দেড় ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। পুনরায় ভোট প্রার্থনায় জনসংযোগ করছেন। শুধু রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল-ই নন!
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র বলছেন, মাঠ পর্যায়ের কাজ এখনো চলছে। ইতিমধ্যে জানা গেছে, খুলনার ৯টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের অন্তত ২০/২২ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। শতাধিক মেম্বর প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধীরাও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশনই প্রার্থিতার বৈধতার নিয়ে দেখবেন। এ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ছাড়া কিছুই করার থাকছে না পুলিশের। এর বেশি আর কিছু জানাতে অপারগকতা প্রকাশ করছেন পুলিশের সূত্রগুলো। তবে যেকোনো পরিস্থিতি প্রতিরোধে সতর্কাবস্থায় থাকবে খুলনা জেলা পুলিশ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা পারস্পারিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছেন। অনানুষ্ঠানিক জনসংযোগ, প্রচার-প্রচারণার ও ঘরোয়া বৈঠকে একে অন্যের সমালোচনা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে একাধিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কাবস্থায় না থাকলে এসব এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যেই প্রতিটি ইউনিয়নে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চলানো হবে। তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনা মাথায় রেখেই র‌্যাব পুলিশ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সতর্ক নজরদারী করছে। সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সতর্কতামূলক তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দারা। বেশ কিছু এলাকায় নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাতের আশঙ্কা আঁচ করা গেছে। পুলিশ বলছে, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের হাতে। এলাকায় তাদের অবস্থান ও তৎপরতার ব্যাপারেও খোঁজখবর রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের তৎপরতা দেখেই সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যমতে, সন্ত্রাসী গ্রæপগুলো প্রার্থীদের পক্ষেই বেশি তৎপরতা চালাবে।
খুলনা জেলা পুলিশ (গোয়েন্দা) পরিদর্শক ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুলনাতে যদিও নেই। তবুও আমার মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। সন্ত্রাসীরা যাতে অঘটন ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে-সেদিকে সতর্ক রয়েছি।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। এক্ষনি সাত দিনের একটি বিশেষ অভিযান চলমান। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে কিছু নয়। কোনো সন্ত্রাসী বা হত্যা মামরার আসামিরা প্রার্থী হবে কি; হবে না সেটা দেখবে নির্বাচন কমিশন। তবে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সন্ত্রাসীরা তৃণমূল রাজনীতি সরগরম
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ