Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

গোদাগাড়ী ও রাউজানে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চল এবং রাউজানে আমনের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের ঘরে এখন সুখের হাওয়া বইছে। তারা আশা করছেন, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই তারা যেন ধান সময়মতো ঘরে তুলতে পারেন।
মো: হায়দার আলী গোদাগাড়ী থেকে জানান, রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে রোপা আমনের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে, রোগ বালাই ও পোকা-মাকড় দমন করায় ভালো ফলন হতে পারে। প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন আশা করছেন তারা। মাঠে মাঠে সবুজ আর সোনালী ছোপ, বিকালে হালকা বাতাস, সকালে শিশির ভেজায় দুলছে রোপা আমন ধান। সেই সাথে দুলছে কৃষকের মন। খুশির আনন্দে ঢেউ আছড়ে পড়ছে মাঠে-গ্রামে। কৃষকদের চোখের কোণে খুশির ঝিলিক। দেখছে সোনালী স্বপ্ন। সচ্ছলতার সোপানে দ্রæত পাল্টে যাওয়ার আগমনী বার্তা সুসময়ের হাতছানি। এদেশের কৃষকদের এগিয়ে নিতে কৃষিবান্ধব সরকারের সামগ্রিক সহযোগিতায় কৃষকরা উদ্বেলিত। কৃষকরা প্রচÐ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তারা রোপা আমন ধানের মাঠের দিকে দৃষ্টি রাখছে দিনের বেশিরভাগ সময়। তবে এত খুশির মধ্যেও কৃষকদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে কারণ গত বছর কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পায় নি। একশ্রেণী সরকার দলীয় দুর্নীতিবাজ নেতা-পাতি নেতারা খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে খাদ্য গুদামে গম-ধান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে বলে তারা জানায়। আগামীতে এ কাজটি যেন না হয় তার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রীর আগাম হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তা হলে আমরা ন্যায্যমূল্যে সকরারী গুদামে গম-ধান বিক্রি করতে পারব। গোদাগাড়ী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসমে উপজেলায় ২৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষ হয়েছে। দেশি জাত স্বর্ণা, ভারতীয় জিরাশাইল ছাড়াও বাংলাদেশ ধান গবেষণার (ব্রি) উদ্ভাবিত খরা সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ব্রি-২৮, ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-৫৬, ব্রি-৫৭, ব্রি-৬২ ধান বেশি চাষ করেছে। ধান চাষ নিয়ে কৃষকরা জানায়, এইসব জাতের ধান চাষে সেচ ও রাসায়নিক সার কম প্রয়োজন হয়। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হওয়ায় সহজেই দমন করা যায়। এতে করে গত কয়েক বছর ধরে ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। উপজেলার ভাজন পুরের কৃষক হযরত আলী ১০ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের রোপা-আমন ধানের চাষ করেছে। বিঘা প্রতি ১৯/২০ মণ ধান উৎপাদন আশা করছেন।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বর্গাদার চাষী আলাউদ্দিন জানান, জমিতে আমনের চারা রোপণ করার পর থেকে কৃষি স¤প্রসারণ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রোগ-বালাই ও পোকামাকড় বিশেষ করে বাদামী ফড়িং পোকা সম্পর্কে সচেতন করে কৃষকদের। আমনের জমিতে রোগ-বালাই পোকামাকড় দেখামাত্রই কীটনাশক স্প্রে করে দমন করা হয়েছে। এ জন্য আমনের ফলন পুরোপুরিভাবে পাওয়া যাবে। গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রতি বছর বাদামী ফড়িং পোকা আক্রমণে ধানের অনেক ক্ষতি হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে বাদামী ফড়িং পোকা ও বিভিন্ন রোগ-বালাই দমন পদ্ধতি জানানো ও এ সম্পর্কে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর। বøকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতিদিন এলাকা অনুযায়ী কৃষক সমাবেশ করেছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিকুর রহমান বলেন, এ বছর আমন চারা জমিতে রোপণ করার পর থেকে আবহাওয়া ছিল উপযোগী। সময়মতো সেচ ও সার জমিতে প্রয়োগ করা ছাড়াও রোগ বালাই ও বাদামী ফড়িংসহ পোকামাকড় সম্পূর্ণ দমন করা গেছে। এতে করে এ অঞ্চলে বিগত বছরগুলোর চেয়ে রোপা-আমনের ফলন বেশি হবে। চলতি আমন মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৩১২ মেট্রিক টন। ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে আরো ১৫ হাজার মেট্রিক টন বেশি ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে গোদাগাড়ী, তানোর ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট, নওগাঁর মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরশাসহ গোটা বরেন্দ্র অঞ্চলের রোপা-আমনের ভাল ফলন পেয়ে লাভবান হবে বলে কৃষকরা জানান।
এম বেলাল উদ্দিন রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে জানান, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান পাকতে শুরু করলেও কোথাও কোথাও ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার কৃষকরা। তবে যারা প্রথমদিকে ধান চারা রোপণ করেছেন তারাই মূলত ধান কেটে ঘরে তুলছেন। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে বলে জানিয়েছে কৃষকরা। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উফশী ১১ হাজার ৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় ২৩৫ হেক্টরসহ মোট ১১ হাজার ৩শ’ ১০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর রোগ-বালাই কম হয়েছে। কৃষকরা জানায়, চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠের পর মাঠ পাকা ধানে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে কৃষকরা ধনা কাটতে শুরু করেছে। তারা খুব আনন্দিত এবার ফসল ঘরে তুলতে পেরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খালগুলো খনন করে সেচ সুবিধা, উন্নত চাষাবাদের জন্য যন্ত্রপাতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার-বীজ প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা, স্বল্প খরচে চাষাবাদের জন্য সব অধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদানসহ স্বল্প মূল্যে ৩০টি পাওয়ার ট্রিলার বিতরণ, প্রতিটি ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা দামের ধান কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, রাউজানের সংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী কৃষকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এখানকার কৃষকদের। তিনি আরো বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপণকৃত আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারণকৃত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার ১১ হাজার ৩শ’ ১০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে ও ফলনও ভাল হয়েছে। তিনি আরো জানান, রাউজানের কয়েকটি এলাকার কৃষকরা পাকা বোরো ধান কাটা শুরু করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন