Inqilab Logo

সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ধীরগতির কাজে জনদুর্ভোগ

চট্টগ্রামের পোর্ট কানেকটিং রোড ও বহদ্দারহাট-কালুরঘাট সড়কে বেহাল দশা

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

পোর্ট কানেকটিং রোডের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পাঁচ বছরেও শেষ করা যায়নি। এরমধ্যে কাজ ফেলে পালায় ঠিকাদার। চট্টগ্রাম নগরীর লাইফ লাইন খ্যাত এই সড়কের এখনও বেহাল দশা। তীব্র যানজট সড়কে। চট্টগ্রাম বন্দরমুখী আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ১৫ থেকে ২০ হাজার ভারী যানবাহনের ভারে সড়কটিতে নিত্য যানজট হচ্ছে। ধুলা-বালুতে নাকাল গণপরিবহনের যাত্রী আর আশপাশের বাসিন্দারা। একই অবস্থা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে কালুরঘাট সড়কেও।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়ক সম্প্রসারণ কাজ। এতে লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামের সাথে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং বহদ্দারহাট হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে সংযোগ সৃষ্টিকারী এ সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক হয়ে কালুরঘাট ভারী শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য এবং কাঁচামাল আনা-নেয়া করা হয়।

বন্দরনগরীর ব্যস্ততম এই দুটি সড়কের কয়েকটি অংশে একপাশ বন্ধ রেখে অন্যপাশে যানবাহন চলছে। এতে সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছ্।ে এর প্রভাবে আশপাশের সড়কেও বিস্তৃত হচ্ছে যানজট। যানজটের সাথে ধুলা-বালুতে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েছে। বায়ু দূষণের মারাত্মক শিকার হচ্ছেন আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দরা। সড়কে চলাচলকারী এবং দুই পাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কবে এমন ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে তা বলতে পারছেন না কেউ। যদিও প্রকল্পের পরিচালকেরা দ্রæত কাজ শেষ করার কথা বলছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ও পণ্যবাহি গাড়ি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহনের জন্য তৈরি হয় পোর্ট কানেকটিং সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক হয়ে হাজার হাজার পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করে। নগরীর বন্দর-নিমতলা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটির সম্প্রসারণ কাজ চলছে। জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘সিটি গভর্ন্যান্স’ প্রকল্পের আওতায় এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। এরমধ্যে প্রকল্পের কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় কয়েকটি ঠিকাদার। কাজের শুরু থেকে দু’পাড়ের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের মুখোমুখী হতে হয়। দ্রæত কাজ শেষ করতে স্থানীয়রা দফায় দফায় সমাবেশ, মানববন্ধন করেন। সরকারের মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও এ কাজে ধীরগতিতে কয়েক দফায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরও কাজ চলে সম্ভুক গতিতে।

গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের নয়াবাজার মোড় থেকে সাগরিকা পর্যন্ত একপাশ বন্ধ রেখে উন্নয়ন কাজ চলছে। একপাশে চলছে যানবাহন। ভারী যানবাহন আটকে সড়কে তীব্র যানজট। যে অংশে কাজ চলছে সেখানে খোঁড়াখুঁড়িতে ধুলা-বালুতে সয়লাব আশপাশের এলাকা, দোকানপাট, বসতবাড়ি। নিমতলা থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত সড়কের দুইপাশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তবে নিমতলা থেকে বড়পোল পর্যন্ত সড়কের দুইপাশ দখল করে আছে শত শত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক না টার্মিনাল। যানবাহন চালকেরা বলছেন, সড়ক নির্মাণের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিতেই সেখানে টার্মিনাল বানিয়ে নিয়েছেন গাড়ি চালকেরা। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়ে তীব্র যানজট হচ্ছে।
প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব ইনকিলাবকে বলেন, কয়েক দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখন দ্রæতগতিতে কাজ চলছে। যেসব ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারাও কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন আর কোন সমস্যা নেই। নির্মাণ সামগ্রী ব্যয় বাড়ায় প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে।

এদিকে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে বহদ্দারহাট-কালুরঘাট সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। পাঁচ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখনও সে কাজ শেষ হয়নি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে বিগত ২০১০ সাল থেকে বেহাল অবস্থা চলছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে সড়কের বুকে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদও করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবির মুখে সড়কটি কিছুটা সংস্কার করা হয়।

এরপর ২০১৬ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেয়া হয়। সড়কের মাঝখানে পাইপ লাইন স্থাপন শেষ হওয়ার পরও ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু করেনি সিটি কর্পোরেশন। ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। বহদ্দারহাট মোড়ের নিকটবর্তী পেপসি মোড় থেকে শুরু করে হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত সড়কের একপাশ এখনও বন্ধ। সড়ক বন্ধ করেই চলছে সংস্কার কাজ। সড়কের পাশে নালার সংস্কার কাজ করছে সিডিএ। চট্টগ্রাম নগরীর পানিবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অংশ হিসাবে এসব খাল সংস্কার কাজ চলছে প্রায় চার বছরের বেশি সময় ধরে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা বলছেন, সড়কের পাশে নালার সংস্কার শেষ না হওয়ায় সড়কের কাজ আটকে আছে। আর এ কারণে কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তার একপাশ বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট হচ্ছে। ধুলা-বালুতে বেহাল অবস্থা পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের। বছরের পর বছর সড়কটিতে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। বর্ষায় কাদাপানি আর অন্য সময়ে ধুলা-বালুতে সয়লাব হচ্ছে পুরো এলাকা।
প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, সড়কটির সম্প্রসারণ কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। সিডিএর পানিবদ্ধতা প্রকল্পের নালা সংস্কার কাজ শেষ হলেই বাকি অংশের কাজ শেষ করা যাবে। তিনি আশাবাদী আগামী ফেব্রæয়ারির মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ