Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

হুতিদের অমার্জনীয় ধৃষ্টতা

প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

পবিত্র মক্কা শরীফকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা বিশ্ব মুসলিম মানসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশের তরফে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুদ্ধরত হুতি বিদ্রোহীরা ব্যালাস্টিক ধরনের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক এই ক্ষেপণাস্ত্র পবিত্র মক্কা নগরীতে আঘাত হানার আগেই ৬৫ কিলোমিটার দূরে আকাশেই একে ধ্বংস করে দেয় জোট বাহিনী। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। হুতি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছে। তবে বলেছে, তাদের লক্ষ্য মক্কা ছিল না। তাদের একথার সত্যতা নিরূপণের কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবতা তো এই যে, মক্কা শরীফ অভিমুখী ওই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আকাশেই অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে। মক্কা শরীফ অভিমুখে কেউ বা কোনো পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, এ এক অসম্ভব, অস্বাভাবিক ঘটনা। এটা নিশ্চিত ভাবেই বেপরোয়া দুঃসাহস ও স্পর্ধার পরিচায়ক। কোনো মুসলিম গোষ্ঠী বা শক্তি কেন, কোনো অমুসলিম গোষ্ঠী বা শক্তিও এ ধরনের ঘটনা ঘটাবার চিন্তা করতে পারে না। অথচ হুতিরা সেটাই করেছে যদিও তারা মুসলিম পরিচয়ধারী। সঙ্গত কারণেই এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। সউদী আরবসহ উপসাগরীয় দেশসমূহ, মিশর, তুরস্ক, জর্দান, পাকিস্তান প্রভৃতি মুসলিম দেশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সউদী আরব, ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব-আমিরাত এ ঘটনার জন্য ইরানকেও দায়ী করেছে। ইরান হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থক ও মদদাদাতা দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সউদী আরবের শূরা কাউন্সিল এ হামলাকে পৃথিবীর পবিত্রতম স্থানে ইরানী প্রতিনিধিদের ‘নৃশংস হামলা’ বলে মন্তব্য করেছে। সউদী আরবের একজন শীর্ষ স্থানীয় স্কলার বলেছেন, পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হামলা ভয়াবহ অপরাধ এবং এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ইরানের উচ্চাশার নতুন প্রমাণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান আদৌ মুসলিম দেশ কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, ইসলামের প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস আছে এমন কেউ এ ধরনের হামলা চালাতে পারে না। আমরাও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
সউদী আরবের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদীনা বিশ্বের সব মুসলমানের কাছে সর্বাধিক সম্মানিত স্থান। এই দুই নগরী বিশ্ব-মুসলিমের কাছে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। মহাসম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ এই দুই নগরীর প্রতি কেউ অসম্মান প্রদর্শন করবে, তাদের মর্যাদা ক্ষুণœ করবে, বিশ্ব মুসলিম তা কখনোই বরদাশত করবে না, করতে পারেনা। অতীতে কখনো কখনো নগরীদ্বয় হিংসা ও হামলার শিকার হয়েছে বটে, তবে এর হোতারা কখনোই রেহাই পায়নি। তুর্কী খেলাফতের অবক্ষয়ের সময় আরব ভূখ-ে বিশৃংখলা দেখা দিলে মক্কা-মদীনার শান্তি-স্বস্তি হুমকির মুখে পড়ে। বিশ শতকের শুরুর দিক পর্যন্ত এ অবস্থা বহাল থাকে। ১৯৩২ সালে সউদী বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সউদ আরব ভূখ-কে একত্রিত করে একটি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। এর ফলে দীর্ঘ বিশৃংখলার যুগের অবসান ঘটে। সেই থেকে এ পর্যন্ত কেউ পবিত্র মক্কা ও মদীনার প্রতি আঙুল তোলার, তাদের সম্মান ও মর্যাদা হানি করার সাহস দেখতে পারেনি। এই প্রথম হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তাদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের পরিচয় দিয়েছে। কে না জানে, বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সউদ থেকে বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং সউদী রাজ প্রতিনিধিরা পবিত্র মক্কা ও মদীনাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বরাবরই সউদী বাদশাহ এই দুই নগরীর খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সউদী রাজবংশের শাসনে গোটা সউদী আরব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
এটা বিশ্বমুসলিমের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগের বিষয় যে, শান্তি ও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা অভয় নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হুতিরা শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে আসছে। তারা গত বছরের প্রথমদিকে ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর অনুগত সেনাদের সমর্থনে ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা দখল করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদীকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সেই থেকে সেখানে যুদ্ধ চলছে হুতি বিদ্রোহী ও মনসুর হাদীর সমর্থকদের মধ্যে। এই যুদ্ধে ইরান হুতিদের সমর্থন করছে। অন্যদিকে মনসুর হাদীকে সমর্থন দিচ্ছে সউদী আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো। এ ব্যাপারে সউদী আরবের নেতৃত্বে আরব জোট বাহিনীও গড়ে উঠেছে। ইয়েমেনে সুন্নী শাসনের অবসান ঘটিয়ে হুতি শিয়াদের শাসন প্রতিষ্ঠাই হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য। তারা এখন সউদী আরবকেও তাদের আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ তারই সাক্ষ্য দেয়। সংঘাত, সংঘর্ষ বা যুদ্ধ যাই হোক, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদীনা তার বাইরে থাকবে, এটা তর্ক ও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। কাজেই হুতিরা যা করেছে তা অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবেই গণ্য। যারা তাদের সমর্থন ও সহায়তা করছে তারাও এর দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। পবিত্র মক্কা ও মদীনা নগরীর শান্তি, নিরাপত্তা সুরক্ষা করা সউদী আরব তো বটেই, বিশ্বের সব মুসলিম দেশেরও দায়িত্ব। আমরা আশা করবো, সউদী আরব পবিত্র নগরী দ্বয়ের নিরাপত্তা জোরদার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে মুসলিম বিশ্বকে তার সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে। হুতি ও তাদের সহযোগী ও সহায়তাকারীরাও পবিত্র মক্কা মদীনার মর্যাদার কথা স্মরণ করে সংযম প্রদর্শন করবে, আর কখনো যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক হবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

 

 

 

 



 

Show all comments
  • রাসেল ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০২ পিএম says : 0
    আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
    Total Reply(0) Reply
  • Sultan ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০৪ পিএম says : 0
    jara ai kaj korese tara musolman hote pare na
    Total Reply(0) Reply
  • Jesmin ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০৪ পিএম says : 0
    পবিত্র নগরী মক্কা ও মদীনা বিশ্বের সব মুসলমানের কাছে সর্বাধিক সম্মানিত স্থান।
    Total Reply(0) Reply
  • karim ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ২:৩৯ পিএম says : 0
    অন্যের অমংগল করলে নিজের অমংগল আল্লাহই ঘটান।
    Total Reply(0) Reply
  • বারি ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ৪:৩১ পিএম says : 0
    মক্কা ও মদিনার খাদেম সৌদি বাদশা।ইয়েমেনে তারা আক্রমনকারির ভূমিকায় যাওয়ার পূর্বে এরকম কিছু ঘটার ব্যপারে তাদের ভাবা দরকার ছিল।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হুতিদের অমার্জনীয় ধৃষ্টতা
আরও পড়ুন