Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

৮০ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না

করোনায় মৃত্যু ৫০ বছর বয়সিরাও পাবেন বুস্টার ডোজ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল সোমবার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে এক প্রশ্নের জবাবে ওই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, এই সময় করোনায় মৃতদের ৮০ শতাংশ টিকা নেননি। বাকি ২০ শতাংশের নানা ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ ছিল। তবে এখনো কেউ ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না, সে তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে নেই। জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো বন্ধ করা হয়নি। সেগুলো প্রস্তুত আছে। শনাক্তের হার কমে আসায় শয্যাগুলো অন্য রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে এখন সংক্রমণ বাড়ছে। তাই আবারও সেগুলো সংযুক্ত করা হবে। সব হাসপাতাল তৈরি আছে।
তিনি বলেন, এখন দেশে সামগ্রিক সংক্রমণের সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি। সংক্রমণের আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে টেস্ট বাড়ছে। হাসপাতাল প্রস্তুত, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। সচেতনতার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য ডিজি আরো বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগম বন্ধ করতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক বিধি মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে দ্রুততার সাথে টিকা নিতে হবে।

বুস্টার ডোজ প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, আমরা বয়স্ক ও ফ্রন্টলাইনারদের বুস্টার ডোজের টিকা দিচ্ছি। বুস্টার ডোজের বয়সসীমা ৫০ বছর করা হয়েছে। টিকা কার্যক্রমকে বেগবান করতে আমরা আরও পদক্ষেপ নিয়েছি।
তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও দেশে সংক্রমণের হার দুই শতাংশের নিচে ছিল। সেটা গতকাল সোমবার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই সংক্রমণ অনেকখানি বেড়ে গেছে। এই আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য অশুভ ইঙ্গিত। আমরা যদি এটাকে প্রতিহত করার কাজগুলো শক্তিশালী না করি, তাহলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনার নতুন যে ধরন ওমিক্রনে সংক্রমণ আগের থেকে বেড়েছে। কিন্তু আমাদের জনমনে এরকম একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ওমিক্রন সংক্রমিত হলে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ওমিক্রনে খুব বড় ধরনের সমস্যা হয় না। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত ডেলটায় আক্রান্তের হার সর্বাধিক। ওমিক্রন বাড়ছে, তবে সেটা ডেলটার মত নয়।

ডিজি বলেন, ঢাকায় ওমিক্রন বাড়ছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে অন্যান্য শহরে ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। অন্যান্য শহরে যেটা বাড়ছে, তা হচ্ছে ডেলটা ভাইরাস। এর আগে আপনারা সবাই দেখেছেন ডেলটার ভয়াবহতা কেমন ছিল।

করোনাভাইরাসের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে লকডাউন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি? এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিজি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, লকডাউন দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবন ও জীবিকার বিষয়টি ভাবতে হয়। সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে আমরা সেদিকে লক্ষ রাখছি। সমস্ত কিছু বিচার বিশ্লেষণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত লকডাউনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি করা না হয় যে লকডাউন দিতেই হয়। আমরা যদি আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বজায় রাখতে চাই, আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাই, গত দু’বছর আমরা যে কঠিন অবস্থা পার করেছি, সেই অবস্থায় যদি আবার না যেতে চাই, তাহলে আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে মাস্ক পড়তে হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তাই আসুন আমরা সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ এবং অংশগ্রহণ করাও পরিহার করি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ