Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ইসি গঠনে মন্ত্রিসভায় খসড়া আইন গৃহীত

সার্চ কমিটি হবে ৬ সদস্যের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইন-২০২২’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আইনের খসড়ার বিষয়ে সচিব বলেন, এই আইনটা খুবই ছোট। এখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ প্রদানের নিমিত্তে একটা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে, যেটা অন্যান্য আইনে যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই।

এ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করে সুপারিশ করবে প্রেসিডেন্ট এই সুপারিশের আলোকে নিয়োগ প্রদান করবেন। আগের নির্বাচন কমিশনগুলো এই আইনে অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান সচিব। আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভেটিং শেষে সংসদে পেশ হলে নতুন কমিশন এই আইনের আওতায় হতে পারে।

সার্চ কমিটি সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া আইনে সার্চ কমিটি হবে ছয় সদস্যের। প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, পিএসসি চেয়ারম্যান মনোনীত একজন পিএসসি সদস্য, অডিটর অ্যান্ড কম্পোটোলার জেনারেল একজন এবং প্রেসিডেন্ট মনোনীত দুইজন বিশিষ্ট নাগরিক। এ ছয়জনকে নিয়ে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করবে।

এ আইনের খসড়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা এবং অযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, সিইসি বা ইসি হিসেবে নিয়োগ পেতে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ৫০ বছর হতে হবে, সরকারি-আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগে কমপক্ষে ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল জানান, এখন লবণ চাষের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোর অনেকগুলোতে ট্রেডিশনাল সিস্টেমে হচ্ছে, সেটা একটা মডিফিকেশন দরকার। মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, পায়রায় বেশকিছু জায়গা ডেভেলপমেন্ট কাজে নিয়েছি। সেজন্য নতুন নতুন জায়গায় উদ্ভাবন করা এবং নতুন টেকনোলজির মাধ্যমে আরও প্রোডাক্টটিভিটি ইফেকক্টিভ এবং বড় করার জন্য নীতিমালা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, ২০২০-২৫ মেয়াদি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে আমরা লবণ উৎপাদনের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করব এবং আমাদের লবণের ঘাটতি হবে না। এজন্য কতগুলো কাজ করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০২০-২৫ পর্যন্ত বার্ষিক লবণের খাত ভিত্তিক লবণের চাহিদা নিরূপণ, পরিবেশবান্ধব উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, লবণ চাষীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অপররিশোধিত লবণের মান এবং মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ঈদুল আযহার সময় চামড়াগুলো যেন সংরক্ষণ করতে পারি, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণের ব্যবস্থা করতে হবে। গুণগত মান নিশ্চিত, আয়োডিন ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধে ভোজ্য লবণে আয়োডিনের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, আপদকালীন সময়ের জন্য বাফার স্টক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য লবণ শিল্প জরিপ করতে হবে। তার ফলের ভিত্তিতে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সব রকমের বৈষম্য নিরসন করা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। তারই আলোকে এই আইন নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইনের আলোকে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন- জাতীয়, বিভাগীয় এবং জেলা বা যে পর্যায় পর্যন্ত সরকার চায়। তারা মনিটর করবে হিউম্যান রাইটসের কোনো ভায়েলেশন হচ্ছে কি-না। এখানে একজন সভাপতি থাকবেন। আইনমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং লেজিসলেটিং বিভাগের একজন যুগ্মসচিব সেটার সদস্য সচিব হবেন। এভাবে নিচের দিকে যতগুলো প্রশাসনিক ইউনিট আছে সেখানে সরকার যে রকম প্রয়োজন মনে করবে, সে রকম কমিটি করে দেবে। বিভিন্ন সময়ে সভাপতি সময় নির্দিষ্ট করে মনিটরিং-মিটিং করবেন।

বৈষম্যবিরোধী একটা সেল গঠন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে সেল বৈষম্যবিরোধী কার্যাবলি প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার প্রদানের জন্য বৈষম্যবিরোধী জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি গঠন করবে। তারা জনগণের মধ্যে একটচা সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে যে কোনোভাবেই কোনো রকমের বৈষম্য করা যাবে না। যদি কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করে তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা কমিটি ঘটনা তদন্ত করবে। জেলা কমিটি প্রতিকার প্রদানে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারী বিভাগীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দায়েরের ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করবে।

বিভাগীয় কমিটি ব্যর্থ হলে ৪৫ দিন পরে জাতীয় কমিটি তদন্ত করে একশন নেবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করলে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা ডিসপোজাল করতে হবে। যদি ৯০ দিনের মধ্যে না পারে তাহলে সর্বোচ্চ ১৫ দিন বৃদ্ধি করে সেই মামলা শেষ করে দিতে হবে। আইনে একটি বিধি করার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেই বিধি অনুযায়ী বৈষম্যের বিষয়গুলো হ্যান্ডেল করা হবে।



 

Show all comments
  • মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:৫৭ এএম says : 0
    সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল করুন রাষ্ট্র পতি পদ্ধতি করা জরুরি হয়েছে,রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে আমি এক জন পার্থী আছি।
    Total Reply(0) Reply
  • MD Sajib Bhuyan ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২০ এএম says : 0
    সব মন্ত্রীসভার ইচ্ছার প্রতিফলন হবে ত রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করে এই চা চক্রের নাটকের কি প্রয়োজন?
    Total Reply(0) Reply
  • Soayeb Mansur ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২২ এএম says : 0
    এই আইন কার্যকর হলেও কাজ হবে না।প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করে নির্বাচন দিলে।যেই আসুক নির্বাচন কমিশনে।কোন লাভ হবে না, যে লাউ সেই কদু ই থাকবে।
    Total Reply(0) Reply
  • MD Rukon Miah ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২২ এএম says : 0
    এই টা দেশের জনগনের সাতে তামাশা চারা আর কিছু নাই
    Total Reply(0) Reply
  • Enjam Ullah ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২৩ এএম says : 0
    Free fare nirbachan detay hobay
    Total Reply(0) Reply
  • Raihan Khan ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২৪ এএম says : 0
    এদের মধ্যে যে ভাব টা দেখলাম দেশ টা ওদের বাবার যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে কিন্তু আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে সে যাই হোক তার সাস্তি হবে
    Total Reply(0) Reply
  • Akhlas Mollik ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২৪ এএম says : 0
    তোরা যে যা বলিস ভাই,, আমার সোনার হঢ়িন চাই. বিসয়টাকি,,,এরকম ?
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Noor ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২৪ এএম says : 0
    চোরে চোরে মসত ভাই তুমি যাও আমি আই
    Total Reply(0) Reply
  • ফায়েজুর রহমান ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২৫ এএম says : 0
    সরকার সংলাপের নামে খেলা করতেছে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসি গঠন

২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ