Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

পাস-ফেলের খবর ফলাও করে প্রচারে ভাবমর্যাদা নষ্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস-ফেলের খবর ফলাও করে প্রচার করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষায় পাস-ফেলের প্রশ্ন নেই। বরং এই খবর প্রচার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট হয়। গতকাল (রোববার) জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়ার পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক আমাকে বলেছেন, নীলক্ষেতের ফুটপাতে অনেক ধরনের বই বিক্রি হয়- গান, জারি, নাচ, ছড়া, কবিতা নানা ধরনের বই। তারা নিজেরোও এসব বই দেখেন নাই। কয়েকটা বই তুলে নিয়ে এসে ওই বইয়ের লেখককে- ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন দেয়, আর এসব প্রশ্নের উত্তর তারা (শিক্ষকরা) নিজেরাও জানেন না। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় তো পাস-ফেলের কোন বিষয় না, এখানে তাদের উদ্দেশ্য থাকে ৩৯ জনকে বাদ দেয়া, একজনকে রাখা। কিন্তু পরবর্তীতে পাস-ফেলের খবর প্রচার করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমদের ভাবমর্যাদা নষ্ট করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তেব্যর কোন ভিত্তি নেই জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী। আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী কার কাছে বা কোন শিক্ষকের কাছে এমন অসত্য তথ্য শুনেছেন তা স্পষ্ট করেননি। আমরা একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অর্জনের যোগ্যতা যাচাই করি। আমরা যে প্রশ্ন করি তা টেক্সবুক থেকে করে থাকি। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কোনো গাইড বইয়ের সঙ্গে যদি মিলে যায়, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।” এ বিষয়ে নাহিদ বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষা পরিবারের মাথার উপরে, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা যাই বলবেন সেটাকে মূল্য দেব, গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব। আমি মনে করি তারা বলতে পারেন, আমাকে ডেকে নিয়েও বলতে পারেন। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই কথাটা বাড়াতে চাই না। “যে পয়েন্টের উপর বলেছেন, আমার একটা উদাহণের খÐিত অংশ নিয়ে বলেছেন। আমি বলেছিলাম, কথাটা চালু হয়ে যাচ্ছে যে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষায় সবাই ফেল করে বা বেশিরভাগ ফেইল করে। এটা আমি বলেছিলাম- এটা পাস বা ফেলের প্রশ্ন না। পাস-ফেলের প্রশ্ন আসে এসএসসি-এইচএসসিতে।” নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় নাহিদ বলেন, “এখানে শিক্ষার্থীর ভাষা, তার ব্যাখ্যা করা, তার বিশ্লেষণ করা, সৃজনশীলভাবে জিনিসটা লিখতে পারা, লিখতে পারছে কি না, ব্যাখ্যা করে লিখতে পারছে কি না, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস সবকিছু নিয়েই মূল্যায়ন করা হয়। সেই পরীক্ষা প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে হয়। আর ওই (ভর্তি) পরীক্ষা এক ঘণ্টার। এখানে শুধু টিকমার্ক দিয়ে উত্তর দেয়, বাছাই করা হয়, সেখানে কিন্তু পাস-ফেলের পরীক্ষা নয়, এটা একটা বাছাই পরীক্ষা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ফলাও করে প্রচার করে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’ মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, যদি পাস করার যোগ্য না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তো ভর্তি করাও উচিত নয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা যখন দেশের বাইরে ভর্তি হতে যাবে, তখন তাদের বলা হবে- ‘তোমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করে না, বলে ফেল, তাহলে আমি কেন ভর্তি করব?’ যখন কেউ আমাদের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতেও যাবে, তখন বলবে- ‘তোমার তো ওইসব পর্যায়গুলোতে পাস করার যোগ্যতাই নাই’। আমাদের পরীক্ষা, ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা ও তাদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেবে। এজন্যই বিষয়টি এভাবে প্রচার না করতে বলেছিলাম।” শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তার কথায় শিক্ষকরা যদি আহত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ‘অবশ্যই দুঃখিত’।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ