Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বন্দুকযুদ্ধে পেশাদার মাস্টার কিলার দেলু নিহত

প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার : র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার দেলোয়ার হোসেন দেলুর ‘মাস্টার দেলু’ উপাধির বিস্তারিত জানালেন র‌্যাব-১১’র সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ র‌্যাব-১১ প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান তিনি। র‌্যাবের সিইও বলেন, মাস্টার দেলু অস্ত্র তৈরি ও যে কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে ‘মাস্টার প্লান’ এর মাধ্যমে সফল করার কারণেই তার নাম মাস্টার দেলু হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা ছিলো। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। রবিবার ভোর পৌনে ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মা স্ট্যান্ড এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাঈল হেসেনের বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, ডাকাত সর্দার, মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরফে ‘মাস্টার দেলু’ (৪০)। এসময় নিহত মাস্টার দেলুর ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেইসাথে দেলুর কাছে থাকা ৪টি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার কৃতরা হলেন, জেলার ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ তরুণ সংঘ এলাকার বশির মিয়ার ছেলে ফয়সাল হোসেন (২৮), শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার খেজুরতলা এলাকার মৃতঃ মঞ্জু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (২৭) ও জেলার সোনারগাঁ থানার মৃতঃ এবিএম নরুল হুদা বেনুর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে শিহাবুল আলম শিহাব ওরফে আরিফ (৩৪)।
র‌্যাবের সিইও লেঃ কর্নেল কামরুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ডাকাত সরদার মাস্টার দেলু গোদনাইল বার্মাস্ট্যান্ড এলাকায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন এর বাড়ির ২য় তলায় সহযোগীসহ অবস্থান করছে। রাত তিনটার দিকে র‌্যাব বাড়িটি গিয়ে ফেলে। এসময় মাস্টার দেলু র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে একটি কক্ষে দেলু গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলুকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় র‌্যাব ১১’র দুই সদস্য এসআই আশরাফুল ইসলাম ও কনেস্টেবল শহীদ আহত হন। তাদের নারায়ণগঞ্জ ৩’ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। র‌্যাবের সিইও আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৪টি পিস্তল, ৪টি ম্যাগজিন, ৮ রাউন্ড গুলি, ১৩টি খালী খোসা, ১টি চাকু, ১টি চাপাতি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ও নগদ ৩ লাখ ১ হাজার ৩০০ টাকাসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। নিহত মাস্টার দেলু মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার আলদী বাজার এলাকার মৃতঃ মজিদ ব্যাপারীর ছেলে। নারায়ণগঞ্জ ১’শ শয্যা হাসপাতাল মর্গে দেলুর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করতে আসা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল ইসলাম জানান, দেলুর দেহে কয়টি গুলি লেগেছে তা লাশের ময়না তদন্ত শেষে জানা যাবে। জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মা স্ট্যান্ড এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাঈল হোসেনের বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাট বাসা ৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় দেলুর সহযোগী আক্তার হোসেন। এরপর গত ২৫ অক্টোবর স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের ৫/৬ জন সদস্য নিয়ে ভাড়াকৃত ঐ বাসায় উঠে মাস্টার দেলু। বাড়ির বর্তমান মালিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পুনর্বাসন সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন জানান, র‌্যাব-১১ এর সাথে ৩০ অক্টোবর দিবাগত রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাস্টার দেলু নিহত হবার পর আমি ঘটনা জানতে পারি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক অভিযানে মাস্টার দেলু’র সাথে কয়েক দফা গোলাগুলি হয়। কিন্তু গোলাগুলির পরে দেলুর স্ত্রীসহ সহযোগীরা গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই দেলু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গত একমাসে দেলুর ৩৬ জন সহযোগী ছাড়াও সম্প্রতি মাসদাইরে এক সহযোগী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ডিবিতে গ্রেফতার হয়। মাদক, সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, নারী নির্যাতন অস্ত্র আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায় নিহত এই পেশাদার কিলার মাস্টার দেলু’র বিরুদ্ধে কমপক্ষে ডজনখানেক মামলা রয়েছে বলে প্রশাসনের বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ