Inqilab Logo

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পাল্টে যাচ্ছে কাউখালীর মানচিত্র

সন্ধ্যা নদীতে অব্যাহত ভাঙন স্থায়ী বাঁধের দাবি এলাকাবাসীর

এস এম সোহেল বিল্লাহ, পিরোজপুর থেকে : | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে সন্ধ্যা নদী। যে নদী কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নকে ভাগ করেছে তিনটি ভাগে। ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ড নদীর পশ্চিম পাশে, একটি উত্তর পাড়ে এবং পূর্ব পাড়ে দুইটি ওয়ার্ড। যার মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডটি ফেরিঘাট, সরকারি রাস্তা, বাজার, মাদরাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশ নিয়ে গঠিত। প্রতিনিয়ত ভাঙনে কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি এলাকাটি হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ না দেয়া হলে যতটুকু নদীতে বিলীন হওয়া বাকি আছে খুব শিগগিরই সেটি বিলীন হয়ে যাবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আমড়াজুড়ির অবস্থান সন্ধ্যা নদীর মোহনায় হওয়ায় পানির চাপে মানছে না কোন কিছুই। যার কারণে জিও ব্যাগ স্থাপন করেও সমাধান হয়নি। কাজের অনুমতি পেলে দ্রুত এ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর আমরাজুড়ি ফেরি ঘাট এলাকাটি নদীর মোহনায় অবস্থান করায় প্রতিনিয়ত একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, জমির মালিকরা প্রতিনিয়ত নতুন করে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন। সরকারি রাস্তা, ফেরিঘাট এলাকা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই ভাঙনের কারণে অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে। যেটুকু বাকি আছে সেটুকু নিয়ে নদী রক্ষা বাঁধের আশায় বুক বাঁধছেন নদীভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, আমড়াজুড়ি এলাকাটির ৫০ মিটার জুড়ে বন্যার কারণে নদী তীর ভাঙনের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে নদী তীর রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। জায়গাটি ভাঙনের পরে পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় দোকানদার মো. ইকবাল হোসেন তালুকদার জানান, আমড়াজুড়িবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ নদী ভাঙনের কবলে। ৭০-৭৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের কবলে। মাস ছয়েক আগে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছিল। সেটা টেকেনি এবং ভেঙে নেমে গেছে। এখানে যদি স্থায়ী বাঁধ না দেওয়া হয় সব নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। এখানে স্কুল, মাদরাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও ফেরিঘাট রয়েছে। ৩-৪টি গ্রামের সংযোগস্থল সড়ক ও জনপথের সরকারি রাস্তাটিও ভাঙনের মুখে। স্থানীয় মানুষ ব্যবসামুখী হওয়ায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যাতায়াতের অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এ রাস্তাটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেলে এলাকার মানুষের না খেয়ে মরার অবস্থা হবে।
নদীভাঙনের কবলে পড়া স্থানীয় জমির মালিক হিরেন লাল মৃধা জানান, আমার আড়াই কাঠা জমি নদীগর্ভে ভেঙে নেমে গেছে। নিজের বেশিরভাগ জমি নেমে গেছে বাকি আছে অল্প একটু। স্থানীয় বাজারের জন্য দান করা শিশির প্রফেসরের এক বিঘার উপরে জমি নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে। নদী রক্ষা বাঁধ হলে স্থানীয় জমিগুলো নদীগর্ভে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। নদী ভাঙতে ভাঙতে রাস্তা ও বাড়িঘর নদীর সাথে মিলে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, পিরোজপুরের কাউখালীর আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট এলাকার ৫০ মিটার ২০২১ সালের বন্যায় ভাঙনের মুখে পড়ে। সেখানে নদী তীর রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে পানির চাপে ও ঢেউয়ের কারণে তীরটি আবারো ভেঙে নেমে যায়। জায়গাটি ভাঙনের পরে পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাউখালীর মানচিত্র
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ