Inqilab Logo

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

৪০ দেশের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন

তুরস্কের নাগরিকসহ গ্রেফতার দুই

বিশেষ সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, সৌদি আরব ও স্পেনসহ ৪০টি দেশের নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাংলাদেশে আসেন তুরস্কের নাগরিক হাকান জানবুরকান (৫৫)। বাংলাদেশে আসার পর একটি ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে গিয়ে কার্ড ক্লোনিং স্কেমিংয়ের মাধ্যমে শতাধিকবার টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্যর্থ হন। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান-১ থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। এ সময় তার সঙ্গে গ্রেফতার হন বাংলাদেশের নাগরিক মো. মফিউল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিভিন্ন মডেলের ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১৫টি ক্লোন কার্ডসহ মোট ১৭টি কার্ড জব্দ করা হয়। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, গ্রেফতার তুরস্কের নাগরিক গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন। এরপর গত ২-৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথে গিয়ে কার্ড ক্লোনিং স্কেমিংয়ের মাধ্যমে শতাধিকবার টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। ইস্টার্ন ব্যাংক অ্যান্টি ফেমিং টেকনোলজি ব্যবহার করায় অ্যালার্ম সিস্টেমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে। ফলে তারা হ্যাকারদের হাত থেকে স্কেমিং রোধ করতে সক্ষম হয়। এই নাগরিক একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান সিটিটিসির প্রধান।
তিনি আরো বলেন, এর আগে ২০১৬, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালেও বাংলাদেশে আসেন হাকান জানবুরকান। তখনও তার উদ্দেশ্য ছিল বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়া। সে সময় বাংলাদেশে এসে তার সহযোগী গ্রেফতার মফিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই মফিউল ইসলামের ভাই একই অপরাধে গ্রেফতার হয়ে ভারতে জেলে রয়েছেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর তুরস্কের ওই নাগরিক বাংলাদেশে এসে পল্টনে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। এরপর ২-৪ জানুয়ারি ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে গিয়ে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে টাকা ওঠানোর চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তুরস্কের নাগরিক জানান, ভারতের আসামে পল্টন বাজার পুলিশ স্টেশনে এটিএম স্কেমিং মামলায় দুই বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। তখন তারা ভারতের বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে প্রায় ১০ লাখ রুপি আত্মসাৎ করেন। ভারতের জেলে থাকার সময় আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ প্যান্ট হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পালিয়ে যান তুরস্কের নাগরিক। পরবর্তীতে এক ভারতীয় ব্যক্তির সহায়তায় দুই লাখ রুপির বিনিময়ে সিকিম হয়ে নেপাল পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নিজ দেশে ফিরে যান এবং নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন। এচক্রে একাধিক বাংলাদেশি, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো, ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। কার্ড ক্লোনিং অপরাধে আরও কারা জড়িত এসব বিষয় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।
কোনো ভিসায় হাকান জানবুরকান বাংলাদেশে এসেছিলেন- জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তিনি ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ৪০ দেশের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ