Inqilab Logo

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কাজে আসছে না কোটি টাকার বাঁধ

বাঁকখালী রাবার ড্যামের পাশে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ ইউনিয়নবাসী

কক্সবাজার জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

কক্সবাজার শহরের পিএমখালী এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়া এলাকার বাঁকখালী নদীতে কক্সবাজার জেলায় স্থাপিত রাবার ড্যাম অকেজো হওয়াতে কৃষকদের মাঝে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ কোনো কাজে আসছেনা। যথা সময়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চরম হতাশ জেলার ৫ ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। তাদের দাবি, সরকারি টাকা লুটপাট করার জন্য নামে মাত্র বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরও অসময়ে বাঁধ নির্মাণ করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও শুষ্ক মৌসুমে পানি না পেলে কার স্বার্থে বাঁধ নির্মাণ ? পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়াপাড়ার কৃষক সিরাজুল্লাহ বলেন, আমি ৭ একর জমিতে পানির অভাবে কোন ধরনের চাষাবাধ করতে পারছি না। মনে করেছিলাম দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলে পানি পাব, সে আশায় শীত কালিন সবজি হিসাবে বাধাকপি, ফুলকপি, শীম চাষ করেছিলাম কিন্তু এখন পানির অভাবে সব গাছ মরে যাওয়ার অবস্থা। রাবার ড্যাম যখন অকেজো হয়ে পড়েছিল তখন আমরা বেশ কয়েকবার উপজেলা প্রকৌশল অফিসে দরখাস্ত করেছিলাম বিকল্প বাঁধ দিয়ে হলেও চাষাবাদের জন্য পানির ব্যবস্থা করতে। গত বছরও সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল কিন্তু যখন আমাদের পানি প্রয়োজন তখন পানি পাইনি। ফলে অনেক জমি চাষাবাদ ছাড়াই ছিল। চলতি বছরও একই অবস্থা। মূলত ঠিকাদার ফারুকের চরম অবহেলার কারণে কয়েক হাজার কৃষককে না খেয়ে থাকতে হবে।

চান্দের পাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী বলেন, এগুলো একটা সিন্ডিকেট। মূলত সাধারণ মানুষের মাথা বিক্রি করে সরকারি টাকা লুটপাট করার জন্য সব প্রকল্প। তা না হলে কখন পানি দরকার সেটা সরকারি কর্মকর্তারা জানেনা। এখন শীতকালিন সবজি চাষের সময় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া ধান চাষাবাদ করার জন্য পানি প্রয়োজন। যদি মানুষের উপকারে না আসে তাহলে সেই প্রকল্প কেন।

রামু কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, বাঁকখালী রাবার ড্যামে পানি ধরে না রাখলে এখানে পানি থাকে না। আর পানি না থাকলে কিভাবে চাষাবাদ করবো। তাই চলতি বছরও আমার ২ একর জমি খালী পড়ে আছে। এ বিষয়ে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, সরকার জনগণের জন্য সব কিছু করে কিন্তু তার কিছুই জনগণ পায় না। সব আগেভাগেই ভাগ হয়ে যায়। আমি দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। পিএমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, পানির অভাবে বর্তমানে অসংখ্য জমি খালি পড়ে আছে। অসময়ে বাঁধ করে সেটা কার জন্য ? তাই বাঁধ নির্মাণে কোন অনিয়ম হলে তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে ঠিকাদার ফারুক বলেন, আমি ৩ দিন আগে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করেছিলাম। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আবার বালুর বস্তা সরে গেছে। তাই এখন আবার করা হচ্ছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। আর বাজেট বরাদ্ধ ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা সেটা সবাই জানে।

সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, এগুলো পানির কাজ তাই কখন কি হয় কেউ জানেনা। তবে কয়েকদিন আগে শেষ হয়েছিল সেখানে কিছুটা সমস্যা হওয়াতে এখন আবার করতে হচ্ছে। একই দফতরের প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, কাজের গুণগত মান যাচাই করার জন্য কমিটি আছে। আর কাজ দ্রুত শেষ করে মানুষ যাতে পানি পাই সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাঁকখালী রাবার ড্যামের পাশে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ