Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নদী আল্লাহর রহস্যময় ভুবন

প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ফিরোজ আহমাদ

সৃষ্টিকর্তার পরিচয় জানা, বুঝার জন্য পৃথিবীতে নিদর্শন রয়েছে। এরমধ্যে নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর অন্যতম। নদ-নদীর রহস্যময় নিদর্শনের বর্ণনা কোরআনে রয়েছে। নদী-নালা, সাগর-সমুদ্র আল্লাহতায়ালার কুদরতের নিদর্শনের অংশ বিশেষ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি (একই স্থানে) দুটো সাগর এক সাথে প্রবাহিত করে রেখেছেন, একটি হচ্ছে মিষ্ট ও সুপেয়, আরেকটি লোনা ও ক্ষারবিশিষ্ট, উভয়ের মাঝখানে তিনি (আল্লাহ) একটি সীমারেখা বানিয়ে রেখেছেন, (সত্যিই) এটি একটি অনতিক্রম্য ব্যবধান’। (সূরা ফোরকান, আয়াত:৫৩)। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা একসাথে প্রবাহিত হচ্ছে। অথচ এক নদীর পানি অন্য নদীর পানির সাথে মিশছে না। এই দৃশ্য আরিচা ফেরিঘাট পার সময় চোখে পড়ে। তিনটি নদীর ঢেউ ও স্রোতের মধ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহ তা’লার কুদরতের গুপ্ত জগতের জ্ঞান সর্ম্পকে জানতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ তা’লা হযরত মুছা (আঃ) কে দুই সাগরের মিলনস্থলে বসবাসকারী হযরত খিজির (আঃ)-এর সাক্ষাতে বের হওয়ার নির্দেশ দান করেছিলেন। হযরত মুছা (আঃ) এবং হযরত খিজির (আঃ)-এর সাক্ষাতের পুরো ঘটনাটির বিবরণ সূরা কাহাফের ৬০ থেকে ৮২নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, সে বলল (হ্যাঁ), এই তো হচ্ছে সে (জায়গা), যার সন্ধান আমরা করেছিলাম (মাছটি) চলে যাওয়ার জায়গাই হচ্ছে সাগরের সেই মিলনস্থল, অতঃপর তারা নিজেদের পথের চিহ্ন ধরে ফিরে চললো এরপর তারা (সেখানে পৌঁছালে) আমার বান্দাদের মাঝ থেকে একজন (পূণ্যবান) বান্দাকে পেলো, যাকে আমি আমার অনুগ্রহ দান করেছি। হযরত মুছা (আঃ) তাকে (খিজির) বলল, আমি কি তোমার অনুসরণ করতে পারি, যাতে করে আল্লাহ তা’য়ালার কাছ থেকে যে জ্ঞান তোমাকে সেখানো হয়েছে তার কিছু অংশ তুমি আমাকে দেখাতে পারো। (সূরা কাহাফ, আয়াত: ৬৪, ৬৫ ও ৬৬)।
নদী পথ পৃথিবীর প্রথম যোগাযোগ মাধ্যম। যা আল্লাহ তা’লা নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন। মৎস্য আহরণের সুবিধার্থে সমুদ্রকে মানুষের অধীন করে দিয়েছে। যোগাযোগের শুরু থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত নদী পথের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ সবচেয়ে কম। এছাড়া পানিতে কত সংখ্যক প্রাণী বসবাস করে এর সংখ্যা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি যাবতীয় জলযানকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যেন তাঁরই ইচ্ছা অনুযায়ী সমূদ্রে বিচরণ করে বেড়ায় এবং (এ কাজের জন্যে) তিনি নদীনালাকেও তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন’। (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত:৩২)। স্থল পথের বাহন হিসেবে আরবের লোকেরা গাধা ও উটকে ব্যবহার করতো। ভারতবর্ষে স্থল পথের বাহন হিসেবে গরুর গাড়ি ও ঘোড়াকে ব্যবহার করত। একইভাবে অলি আউলিয়াদের অনেকে জলপথের বাহন হিসেবে কুমিরকে ব্যবহার করেছেন। রাজশাহীর শাহ মখদুম রূপোষ (রহ.) অন্যতম। হযরত মোহছেন আউলিয়া (রহ.) নদী পথে একটি পাথরের উপর ভেসে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে এসেছিলেন। হযরত বদর আউলিয়া (রহ.) পানির উপর পাটি বিছিয়ে চট্টগ্রামে আগমণ করেছিলেন। হযরত নূহ (আঃ) কাফেদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নৌকার উপর সাগরের পানিতে ছয় মাস ভেসে ছিলেন। সমুদ্রের মাছ হযরত দাউদ (আঃ)-এর উম্মতদের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল। হযরত মুছা (আঃ) ফেরাউনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নীল নদের উপর দিয়ে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন।
কালের পরিক্রমায় খাল-বিল, নদ-নদী হারিয়ে যাচ্ছে। খাল-বিল এখন দেখা যায় না বললেই চলে। নদীর স্রোত হারিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানার দূষিত বর্জ্যে নদী ও সমদ্রের পানি দূষিত হওয়ার ফলে নদী-নালা ও সমূদ্রে বসবাসরত মাছ ও অন্যান্য প্রাণীদের জীবন আজ সংকটাপন্ন। আমাদের দেশের সকল শহর ও বড় বাজার নদীপথকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। পৃথিবীর বেশিরভাগ সভ্যতাও নদী কেন্দ্রিক। কালের ইতিহাসের স্বাক্ষী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, কর্ণফুলী ও হালদার এতোটাই দূষিত যে পানির দুর্গন্ধে নদীর আশপাশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গড়াই, মধুমতি, গোমতী, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, ব্রহ্মপুত্র, কুমার, তিস্তা নদী ক্রমান্বয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।
দুই নদীর মিলনস্থলে হযরত মুছা (আঃ) কর্তৃক হযরত খিজির (আঃ) সাক্ষাৎ লাভের ঘটনাটি আল্লাহর কুদরতের বড় নিদর্শন। ইতিহাস ও সভ্যতার স্বাক্ষী নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। নদী নাব্যতা রক্ষায় সকলের এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক: ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সূফীতাত্ত্বিক গবেষক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ