Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যা গ্রেফতার ২

প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকসেবী মেয়ের জামাইয়ের দাবিকৃত জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় শাশুড়ি আলাতুন নেছা (৭০) কে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই বৃদ্ধ শাশুড়ির মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত আলাতুন নেছা ওই এলাকার রেজাউর রহমানের স্ত্রী। গ্রেফতারকৃতরা হলো গন্ধর্বপুর এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে আতাবুর রহমান ও করম আলীর ছেলে সানাউর হোসেন সানু। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১০ বছর আগে গন্ধর্বপুর এলাকার রেজাউর রহমানের মেয়ে মাজেদা বেগমের সঙ্গে একই এলাকার মৃত খোরশেদ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকাসহ আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে বর্ষা নামে একটি মেয়ে সন্তান হয়। তোফাজ্জল হোসেন একজন জামদানি তাঁতি ছিলেন। সন্তান জন্ম হওয়ার পর মেয়ের সুখের চিন্তা করে বাবা রেজাউর রহমান ও মা আলাতুন নেছা বাড়ি থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ও ১৭ শতাংশ কৃষি জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয় মাজেদা বেগমকে। জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার পর থেকেই ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে জামাই তোফাজ্জল হোসেন। আর জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় প্রায় সময়ই স্ত্রী মাজেদা বেগমের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘন ঘন নির্যাতন করায় মাজেদার বাপের বাড়ি থেকে ৪ লাখ টাকাও দেয়া হয় তোফাজ্জল হোসেনকে। বেশ কয়েক দিন ধরে আবারো ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য মাজেদা বেগমের উপর নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো তোফাজ্জল হোসেন। বাবা রেজাউর রহমান ও মা আলাতুন নেছা মেয়ের উপর নির্যাতন সয্য করতে না পেরে মাজেদা বেগমকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। আহত মাজেদা বেগম জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে মাজেদা বেগম ও তার মা আলাতুন নেছা ও মেয়ে বর্ষা ঘুমন্ত অবস্থায় কৌশলে দরজা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তোফাজ্জল হোসেনসহ সহযোগী আতাবুর রহমান, সানাউর হোসেন সানু, মাসুদ ওরফে টুনুসহ ৬/৭ জনের একদল। পরে অন্ধকারের মধ্যেই মা আলাতুন নেছার মুখ চেপে ধরে এলোপাতাড়িভাবে ছুড়িকাঘাত শুরু করে তোফাজ্জলসহ তার লোকজন। এসময় সজাগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়ে দেন মাজেদা বেগম। পরে মাজেদা বেগমকেও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। এক পর্যায়ে মাজেদা বেগম ও মেয়ে বর্ষা আত্মচিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আতাবুর রহমান ও সানাউর হোসেন সানুকে আটক করে জনতা। বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত মাজেদা বেগম ও তার মা আলাতুন নেছাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আলাতুন নেছাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, তোফাজ্জল হোসেনসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন