Inqilab Logo

শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

মস্কোপন্থিকে ইউক্রেনে বসানোর চক্রান্তে পুতিন : যুক্তরাজ্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৬ এএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সেদেশের সরকারে ‘মস্কোপন্থি কাউকে বসানোর ষড়যন্ত্র’ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যতিক্রমী এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্রেমলিনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক এমপি ইয়েভেন মুরায়েভের নামও প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের আরও চারজন রাজনীতিবিদের নাম বলেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর, যারা রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ রেখে আসছে বলে যুক্তরাজ্যের ভাষ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এর মধ্যে কয়েকজন আছেন, যারা ইউক্রেন আক্রমণের পরিকল্পনায় কাজ করা রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন। ইউক্রেনে যে কোনো মুহ‚র্তে রুশ হামলার আশঙ্কার কথা গত কয়েক দিন ধরেই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখ সেনা সমাবেশ করেছে, তবে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তাদের ভাষ্য। যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর হুঁশিয়ার করেছেন, রাশিয়ার কোনো বাহিনী ইউক্রেন সীমান্ত অতিক্রম করলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আজ যে তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে, তা ইউক্রেনকে ধ্বংস করার পরিকল্পনায় রাশিয়ার কর্মকাÐ এবং ক্রেমলিনের চিন্তাভাবনাকেই সামনে এনেছে। “রাশিয়াকে অবশ্যই এ ধরনের কর্মকাÐ থামাতে হবে, আগ্রাসন ও অপপ্রচার বন্ধ করে ক‚টনীতির পথ অনুসরণ করতে হবে।” ইউক্রেনবাসীরা সেদেশের রুশপন্থি প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করার পর রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। তখন থেকেই রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের এলাকাগুলোর কাছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাশিয়া-সমর্থিত বিদ্রোহীদের যুদ্ধ চলে আসছে। পশ্চিমা এবং ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলা বলে আসছে, এ বছরের শুরুর দিকেই কোনো এক সময় আরেকটি হামলা বা অভিযানের পরিকল্পনায় আছে মস্কো। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, “যুক্তরাজ্য এবং আমাদের অংশীদাররা বারবার বলেছে, ইউইক্রেনে রাশিয়ার যে কোনো সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটলে কৌশলগত বিশাল ভুল হবে, যার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।” অনদিকে হামলা পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বেশ কিছু দাবি করেছেন। এর মধ্যে ইউক্রেনকে নেটো জোটে না নেওয়ার দাবি রয়েছে। তা ছাড়া, নেটো যাতে সামরিক মহড়া না চালায় এবং পূর্ব ইউরোপে অস্ত্র সরবরাহ না করে সেটিও চান পুতিন। ইউক্রেন সরকারে নেতৃত্ব দিতে মস্কোপন্থিদের বসানোর পরিকল্পনার অভিযোগের জবাবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইটে বলেছে, “ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে।” এই ‘উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং ফালতু আলাপ বন্ধ করার’ আহŸান জানিয়েছে রাশিয়ার সরকার। ক্রেমলিনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম আসা মুরায়েভ একটি মিডিয়া কোম্পানির মালিক। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় পার্লামেন্টে আসন হারান তিনি। অবজারভার পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বিভ্রান্ত’ বলে তার মনে হচ্ছে। “বিষয়টি যৌক্তিকও নয়। রাশিয়ায় আমি নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, সেখানে আমার বাবার ফার্মের টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।” মস্কোপন্থি আরও যে চার ইউক্রেনিয়ান রাজনীতিবিদের নাম ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যে এসেছে, তাদের একজন মাইকোলা আজারভ। রুশপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আজারভ রাশিয়ায় পালিয়ে যান, যেখানে তাকে নির্বাসিত পুতুল সরকার হিসাবে দেখা হত। ‘আত্মসাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগে ইউক্রেন সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারি করেছিল মাইকোলা আজারভের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সাবেক উপ-প্রধান ভলোদিমির সিভকোভিচের নামও এসেছে। রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে এ সপ্তাহে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যরা হলেন- সেরহি আরবুজভ এবং আন্দ্রি ক্লুয়েভ, তারা দুজনেই প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের অধীনে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিবিসি।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুতিন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ