Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অনুমতি ছাড়াই হল সম্মেলন করছে ঢাবি ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতিতে সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে ঢাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের হল সম্মেলন চলতি মাসের ৩০ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল শাখার নেতাকর্মীদের নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন সফল করতে ইতোমধ্যে কমিটিও গঠন করেছে তারা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির ফলে মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো প্রোগ্রামেই ১০০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৮টি হলে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীর সংখ্যাই তিন শতাধিক। এছাড়াও অতিথি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অন্তত ৫০০ জন নিয়ে সম্মেলন করার পরিকল্পনা করছে ঢাবি ছাত্রলীগ। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে কোন প্রকার সভা সমাবেশ করার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন বলেন, এখনো অনুমতি নেয়া হয়নি কিন্তু অনুমতি নিয়েই হল সম্মেলন করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেভাবে সম্মেলন করা যায় আমরা সেভাবেই করব।
এ বিষয়ে জানতে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাইকে আছেন বলে ফোন রেখে দেন। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ মেনে শুধু টিকা সনদধারীরাই সম্মেলনে যোগ দিত পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। আমরাও রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত আসলে বরাবরের ন্যায় গণমাধ্যমে জানিয়ে দিই। আমরা আলাদাভাবে কোনো ছাত্রসংগঠনের জন্য বলছি না, বরং সবার জন্যই একই আদেশ- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কোনো সভা- সমাবেশ করা যাবে না। তারা ইতোমধ্যে জায়গা নির্ধারণ করেছে এবং অন্তত ৫০০ লোকের সমাগম হবে জানালে প্রক্টর বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা হয়নি। আমাদের থেকে কোনো অনুমতিও নেয়নি এবং অনুমতি দেওয়ার ও কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.মো.আখতারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের কাজ করবে। যখন যেখানে যাদের অনুমতি দরকার তাদের থেকে অনুমতি নিবে এটাই প্রত্যাশিত। তবে তিনার থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার থেকে অনুমতি নেওয়া লাগবে কেন! যাদের থেকে অনুমতি নেওয়া লাগবে তাদের থেকেই নিবে।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৩ ডিসেম্বর কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি নতুন কমিটি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ