Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

অমর একুশে বইমেলা : বসন্তের ধুম লেগেছে

প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইখতিয়ার উদ্দিন সাগর : বসন্তের প্রথম দিনে শিমুল-পলাশের রঙ লেগেছে সবার মনে। ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি মানবপ্রাণেও ছড়িয়ে দিয়েছে ভালোবাসার রঙ। আর সে রঙে রঙিন নগরবাসীর প্রধান পছন্দের জায়গা যেন বইমেলা এলাকা। প্রাণের উৎসবে মেতে উঠতে দিনভর নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী নর-নারী বাসন্তী সাজে হলুদ পোশাকে সজ্জিত হয়ে আসতে শুরু করে প্রাণের এ মেলায়। ঘুরে ঘুরে বই দেখেছেন, কিনছেন। কেউ কেউ আবার ঘুরে বেড়াচ্ছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে।
এদিকে বসন্তের এমন মাতাল সমীরণে তরুণীর পরনে বাসন্তী শাড়ি। মাথায় হরেকরকম ফুলের ব্যান্ড। খোলা চুলে হেঁটে চলে তরুণীর দল। এ এক অন্যরকম আবেশ। তাই ভিন্ন সাজে সেজেছে অমর একুশে বইমেলা। বয়ে চলছে ফাগুনের আগুন বইমেলাতেও।
গতকাল সকাল ১১টায় মেলার ফটক খোলার পর থেকেই রঙিন হয়ে উঠেছিল মেলা চত্বর। শাহবাগ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাংলা একাডেমি থেকে শহীদ মিনার পুরো এলাকাই একাকার হয়ে গিয়েছিল উৎসবে শামিল তারুণ্যের উচ্ছ্াসে। ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ানো প্রজাপতির চাঞ্চল্য নিয়েই তরুণ জুটিরা ঘুরে বেড়িয়েছেন, চত্বর দিয়েছেন মেলার এপারে-ওপারে।
কবির ভাষায়, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত, পাখি ডাকুক আর নাই ডাকুক আজ বসন্ত’। প্রকৃতির নিয়মেই এসেছে ফাল্গুন, ধরায় এসেছে বসন্ত। বসন্ত এসেছে মানুষের মনে। যার বহিঃপ্রকাশ তার উচ্ছ্বাসে। তারই রেশ ধরে বসন্তের প্রথম প্রহর সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বসন্তের শোভাযাত্রা বের হয়। তাতে অংশগ্রহণ করেন উৎসবপ্রিয় তরুণ-তরুণী। ফলে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় টিএসসি থেকে বইমেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত।
এছাড়া গতকাল সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে অন্যান্য দিনের চেয়ে লোকসমাগম বাড়ছে বইমেলায়। সময় অতিক্রম করে প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঘুরাঘুরি মূল উদ্দেশ্য থাকলেও পছন্দের লেখকের বইও কিনছেন অনেকে। এছাড়া ফাল্গুনের প্রথম দিনে স্বরস্বতি পূজা হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পুঁজা শেষে অনেকেই বইমেলায় এসেছে।
বইমেলায় আসা এক নবদম্পতি বলেন, বিয়ের এক বছরপূর্তি হওয়ার পথে। এর মধ্যে ফাগুনের মতো উৎসব পেয়েছি। আবার ভালোবাসা দিবস। আনন্দের বাধ যেন ভেঙ্গে যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, বইমেলাও পড়ে গেল একই দিনে। কত যে উৎফুল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। হলুদ পোশাক পড়ে বের হওয়ার মূল উদ্দেশ্যে ঘুরাঘুরি হলেও কয়েকজন লেখকের বই কিনবো।
বাসন্তী সাজে মেলায় ঘুরতে আসা নীলা বলেন, মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। বসন্তের প্রথম দিন। তাই বাসন্তী সাজে সেজেছি। এতো আমাদেরি উৎসব। আমাদের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।
শিশুকিশোর প্রতিযোগিতা: সকাল ১০টায় অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশুকিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়–য়া, নাট্যজন মাসুম রেজা এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন।
উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন অনিশা দাস, দ্বিতীয় হয়েছেন যুগ্মভাবে আনান আবরার ইসলাম ও রেজা শাওয়াল রিজওয়ান এবং তৃতীয় হয়েছেন সিরাতুল মোস্তাকিম শ্রাবণী। সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন আকিবা আফরোজ রাকা, দ্বিতীয় হয়েছেন তাসফিয়া চৌধুরী এবং তৃতীয় হয়েছেন আদনান বিন আলমগীর।
মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান: বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধচর্চা : অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মেসবাহ কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. মোহাম্মদ সেলিম এবং দিব্যদ্যুতি সরকার। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক প্রফেসর সনৎকুমার সাহা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত কবি কায়সুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নিমাই মন্ডল এবং তামান্না নীপা। সোহেল রহমানের পরিচালনা নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্য সংগঠন ‘শিখর কালচারাল অর্গানাইজেশন’-এর শিল্পীবৃন্দ। এছাড়াও সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী জিনাত রেহানা, বদরুন্নেসা ডালিয়া, শ্যামা সরকার, জয়।
আজকের অনুষ্ঠান: মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা : অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রফেসর বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, প্রফেসর করুণাময় গোস্বামী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন প্রফেসর গোলাম মুরশিদ। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন