Inqilab Logo

সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আড়াই হাজার কোটি টাকা মূলধন কমল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

২০২২ সালের প্রথম তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কমেছে। অবশ্য আগের তিন সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আগের তিন সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ২৩ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে। অর্থাৎ বাজার মূলধন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। একইভাবে বাজার মূলধন কমলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমে যায়।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি এ সপ্তাহে ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৮টির। আর ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স কমেছে ৭৮ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগে বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৩৪৯ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট।
প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি টানা তিন সপ্তাহ বাড়ার পর ইসলামী শরিয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও এ সপ্তাহে কমেছে। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭৭ দশমিক ২৮ পয়েন্ট।
বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও বছরের প্রথম তিন সপ্তাহ টানা বাড়ার পর এ সপ্তাহে কমেছে। গত সপ্তাহে সূচকটি কমেছে ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১০২ দশমিক ৮০ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ১৪৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৮ হাজার ২৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ৯৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪৭ কোটি ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ১৭১ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাওয়ার গ্রিড।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে-এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, আরএকে সিরামিকস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ফরচুন সুজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, ফু-ওয়াং ফুড এবং ওরিয়ন ফার্মা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ