Inqilab Logo

সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

এজেন্সি বিপাকে : কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি : ওমরা যাত্রীর মোফা ইস্যু হচ্ছে না

প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শামসুল ইসলাম : জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সউদী সরকার বাংলাদেশী ওমরা যাত্রীদের মোফা ইস্যু করছে না। ওমরার নামে সউদী মানব পাচারের দরুণ বিগত ১০ মাস যাবত ওমরা বন্ধ থাকায় ধর্মপ্রাণ ওমরাযাত্রীগণ চরম হতাশায় ভুগছেন। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে। প্রায় ১৫টি বৈধ ওমরা এজেন্সি সউদী হজ মন্ত্রণালয়ে ২ লাখ সউদী রিয়াল থেকে ৫ লাখ সউদী রিয়াল ক্যাশ গ্যারান্টি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ২ লাখ সউদী রিয়ালের সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা (৪৪ লাখ টাকা) জমা দিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশী ওমরা যাত্রীদের মোফা চালু করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। হাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুজদালেফা এভিয়েশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হেলাল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, মক্কা-মদিনায় ওমরা যাত্রীদের জন্য লাখ লাখ রিয়ালের হোটেল ভাড়া করে ওমরা চালু না হওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনি ওমরা চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোড়ালো উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। মক্কাস্থ সউদী হজ মন্ত্রণালয়ের ওমরা বিভাগের ডিজি মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনের কনসাল হজ মোঃ জহিরুল ইসলামকে জানিয়েছেন, সউদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশী ওমরা যাত্রীদের মোফা ইস্যুর সিস্টেম বন্ধ রয়েছে। ওমরা বিভাগের ডিজি সউদী ওমরা ডেপুটি মিনিস্টার ড. ইছারেওয়াজের সাথে সাক্ষাৎ করে ওমরা ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরামর্শ দেন। গতকাল কনসাল হজ মোঃ জহিরুল ইসলাম ওমরা বিভাগের ডিজির দপ্তরে তার সাথে দেখা করতে গেলে এ পরামর্শ দেন। কনসাল হজ মোঃ জহিরুল ইসলাম রাতে টেলিফোনে ইনকিলাবের সাথে আলাপকালে এতথ্য জানান। আগামী রোববার সউদী ওমরা ডেপুটি মিনিস্টার ড. ইছারেওয়াজের সাথে তার দপ্তরে বাংলাদেশী ওমরা ভিসা চালু নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে কনসাল হজ জহিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যতীত মুসলিম উম্মাহ’র জন্য ওমরা চালু করেছে সউদী সরকার। প্রতি বছর ওমরা মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ওমরা পালন করতে সউদী যেতেন। চলতি বছর সউদী সরকার ওমরা যাত্রীর কোটা বৃদ্ধি করে ৬০ লাখ-এর স্থলে ১ কোটি ২০ লাখ নির্ধারণ করেছে। ওমরার নামে মানব পাচারের অভিযোগে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে সউদী সরকার। এতে গত মাহে রমজানেও হাজার হাজার প্রকৃত ওমরা যাত্রী ওমরা পালনের জন্য মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা করতে ১১ হাজার ৪৮৫ জন সউদী আরব গিয়ে ফেরত আসেনি। ওমরার নামে সউদীতে মানব পাচারের সাথে জড়িত ওমরা এজেন্সিগুলোকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রায় ৩শ’ ওমরা এজেন্সির মধ্যে সউদী আরবে ওমরার নামে মানব পাচারের অভিযোগে ৯৫টি ওমরা এজেন্সি’র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রী। যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এমন প্রায় ৭০টি ওমরা এজেন্সিকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আল-মাহমুদ ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কবীর খান জামান ,গত ৩ জানুয়ারী সউদী ওজারাতুল হজ-এ সউদী সরকারের অনুকূলে ২ লাখ সউদী রিয়ালের ক্যাশ গ্যারান্ট্রি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে ২ লাখ রিয়ালের ব্যাংক গ্যারান্ট্রিসহ ওমরার মোফা ইস্যুর লক্ষ্যে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওজারাতুল হজ জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া না হলে বাংলাদেশের মোফা চালু হবে না। গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে ওমরা ভিসা খুলে দেয়ার বিষয়টি অবহিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সবুজ আহমেদ এক চিঠিতে ওমরা ভিসা চালুর বিষয়টি ধর্ম সচিব চৌধুরী মোঃ বাবুল হাসানকে নিশ্চিত করেছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় ১৪৩৭ হিযরী সনের ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তড়িঘড়ি করে প্রাথমিকভাবে ৭০টি ওমরা এজেন্সির তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সউদী রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রেরণ করেছে। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে উল্লেখিত ৭০টি ওমরা এজেন্সি’র তালিকা প্রেরণ করা হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ৯ ডিসেম্বর এক সার্কুলারে পুরাতন হজ ও ওমরা লাইসেন্সের মালিকদের জামানতের (যাদের ১০ লাখ টাকা জামানত ছিল) অংক ১০ লাখ টাকার স্থলে ২০ লাখ টাকা বৃদ্ধি করেছে। ওমরার নামে মানব পাচারের অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ৯৫টি হজ এজেন্সিকে গত ১৮ নভেম্বর শাস্তি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে যে সব ওমরা এজেন্সি’র ২/১ জন যাত্রী ওমরা করতে গিয়ে দেশে ফিরেনি তাদের লাইসেন্সও বাতিল, জরিমানা ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সউদী সরকারের ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী ওমরা যাত্রী ১% ওমকুফ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ওমরা এজেন্সিগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তাদের শাস্তি লাঘবের জন্য আপীল করেছে। এদের অনেকের শুনানিও নেয়া হয়েছে। ৬৯টি হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ছাড়াও সেগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা করা হয়। শুধু জরিমানা করা হয়েছে ২৬টি এজেন্সিকে।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশী ওমরা ভিসা খুলে দেয়ার সউদী দূতাবাসের চিঠি পেয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আল্লাহপাকের কাছে শোকরিয়া আদায় করে সউদী সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ধর্মমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, আগামীতে ওমরার নামে কেউ মানব পাচারের চেষ্টা করলে তাদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে। সউদী দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশী ওমরা ভিসার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা অবহিতকরণের পর ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সউদী সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ওমরার নামে মানব পাচারের দরুণ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরা যাত্রীদের একটি অংশ ওমরা করতে গিয়ে দেশে ফেরত আসেনি। যার সংখ্যা ১১,৪৮৫ জন। এ প্রেক্ষিতে সউদী সরকার গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশের ওমরা পালনে ইচ্ছুক ওমরাহ যাত্রীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যু করেনি। ওমরার নামে কিছু ওমরা এজেন্সি মানব পাচারে জড়িত। বিষয়টি ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং অনাকাক্সিক্ষত।
ঐ সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী ঘোষণা দেন, যে সকল ওমরা এজেন্সির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই তারা ওমরা কার্যক্রম চালাতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৭০টি অনুমোদিত ওমরা এজেন্সির প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যেসব ওমরা এজেন্সির কারণে দেশের সুনাম বিনষ্ট হয়েছে কিংবা যারা ওমরার নামে মানব পাচারে জড়িত ছিল তাঁদেরকে ইতোমধ্যে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়ী এজেন্সিগুলোকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে। ওমরার নামে কেউ যেন মানব পাচারে জড়িত না হয় সেজন্য আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং এর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদিকে, অদ্যাবধি ওমরা চালু না হওয়ায় অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ওমরা চালুর জন্য মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে আবেদন নিবেদন করছেন। অনেক ওমরাযাত্রী ওমরা চালুর খবর নেয়ার জন্য প্রতিদিন ওমরা এজেন্সিগুলোতে যোগাযোগ রাখছেন। সউদী বাংলা এয়ার সার্ভিসেস লিঃ (১২১৯)-এর এমডি আলহাজ আহসান উল্লাহ এতথ্য জানান। তিনি অবিলম্বে ওমরা চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রগতি ট্রাভেলসের (৫২) সিইও সৈয়দ গোলাম সারোয়ার ইনকিলাবকে বলেন, ৮৮ লাখ টাকার সউদী সরকারের ক্যাশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্যারান্ট্রি জমা দেয়ার পরেও ওমরা চালু না হওয়ায় এজেন্সি’র মালিকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনিও ওমরা চালুর ব্যাপারে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এজেন্সি বিপাকে : কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি : ওমরা যাত্রীর মোফা ইস্যু হচ্ছে না
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ