Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা হাওয়ায় বিপর্যস্ত জীবন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হওয়ায় মাঘের শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির কারণে আলু ক্ষেতে ছত্রাক আক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ফসলেও পোকার আক্রমণের বিষয় নিয়ে কৃষক চিন্তিত।
গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা ১১টা নাগাদ অনেক এলাকায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের বৃষ্টি শুরু হয়। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী বিভাগের তাড়াশে ১৭ মিলিমিটার। অন্যদিকে বদলগাছিতে ১১, দিনাজপুরে ৭, ঈশ্বরদীতে ৬, টাঙ্গাইলে ৪, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা ও নিকলিতে ২ এবং সৈয়দপুর, খুলনা, রাজশাহী ও বগুড়ায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, গতকাল সকাল ৭টা থেকে রাজশাহীতে একটানা বৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই রাজশাহীতে মাঝারি বৃষ্টি। সূর্য ঢাকা পড়েছে মেঘের আড়ালে। সকালে রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট, নিউ মার্কেট, সাহেববাজারে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রাস্তায় মানুষের চলাচল ও গাড়ি চলাচল ছিল অনেক কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। বৃষ্টির পর আবারো রাজশাহীতে জেঁকে বসতে পারে শীত। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে তীব্র শীতের পর গত মঙ্গলবার থেকে শীত কমে আসতে শুরু করে। তবে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ার কারণে আবারো শীত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে শীতল বাতাসের ঝাপটায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বগুড়ার জনজীবন। টানা এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহের পর গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছিল। এতে জনজীবনে স্বস্তি এসেছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর ফের বেড়েছে শীত। শীতে মানুষের একদম জবুথবু অবস্থা। সকাল থেকেই বৃষ্টি আর শীতল বাতাসের ঝাপটায় অধিকাংশ মানুষই ঘর থেকে বের হতে পারেনি। রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। বাজার হাটেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল না।
খুলনা ব্যুরো জানায়, মাঘের বিদায় ক্ষণে খুলনায় হঠাৎ বৃষ্টি আবারো বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। একইসাথে বাড়িয়েছে দুর্ভোগ। গতকাল সকালে আকাশে তেমন মেঘের আনাগোনা ছিল না। বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে অন্ধকার নামতে শুরু করে। আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। সাড়ে ১১ টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রথমে হালকা বৃষ্টি হলে খানিক পরে তা মুষল ধারায় রূপ নেয়। অসময়ের বৃষ্টিতে পুরো নগরী সিক্ত হয়ে যায়। এরপর অবিশ্রান্তভাবে বৃষ্টি হতে থাকে, কখনো মুষলধারায়, কখনো গুঁড়িগুঁড়ি।
রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানায়, দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আর প্রচণ্ড হিমেল হাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে বইতে থাকে উত্তরের হিমেল হাওয়া। এতে শীতের মাত্রা বেড়ে যায় অনেকগুণ। কনকনে বাতাস আর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরুতে পারেনি। মাঝে মাঝে দমকা বাতাসও বয়ে চলেছে রংপুর মহানগরীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে। ফলে সকাল থেকে রংপুর শহর ও শহরতলি এলাকায় রিকশা-অটোরিকশা চলাচল একেবারেই কমে যায়। প্রচণ্ড হিমেল হাওয়ার কারণে দিনভর ঘরের মধ্যে গায়ে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে থাকে মানুষ। তাছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিড়ম্বনা আরো বেড়ে যায়।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানায়, গুঁড়িগুঁড়ি বৃৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়ে। গতকাল ভোর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়, থেমে থেমে মেঘের গর্জন বর্ষার আমেজ নিয়ে আসে প্রকৃতিতে। বৃষ্টির কারণে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। কয়েক ঘণ্টা টানা বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতে পারেনি। বিশেষ করে দিনমজুর, মিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিকরা ঘর থেকে বের হতে পারেনি। রাস্তাঘাটে যানবাহন ও লোক চলাচল ছিল কম। বিপাকে পড়েছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল রিকশা ও ভ্যান চালকসহ নিম্নআয়ের মানুষেরা।
এদিকে বৃষ্টির কারণে আলু ক্ষেতে ছত্রাক আক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় আলুতে লেট ব্রাইট বা ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার শিবরাম গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে তার আলু ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির কারণে মড়ক আরো বাড়ে কি-না এই নিয়ে চিন্তিত তিনি।
নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা জানায়, গত এক সপ্তাহ কুয়াশার পর গতকাল ভোর থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় নীলফামারীতে। যা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই জেলার বেশিরভাগ উপজেলার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা জানায়, মাঘ মাসের প্রায় টানা কয়েক দিনের মাঝারি ও মৃদুু শৈত্যপ্রবাহ শেষ হতে না হতেই বৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ার কবলে পড়েছে পঞ্চগড়ের জনজীবন। গতকাল ভোর থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এরপর দিনভর অবিরাম কখনো হালকা, মাঝারি এবং কখনো ভারি বৃষ্টি ও তার সাথে বইছে কনকনে হিমেল হাওয়া। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ফলে রাস্তাঘাটে যানবাহন এবং জনচলাচল অনেকাংশ কম। এ অবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলা সংবাদদাতা জানায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার সর্বত্র গতকাল ভোর রাত থেকে দিনভর বৃষ্টি হয়। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করায় মানুষ ও প্রাণীকূল দুর্ভোগে পড়ে। এলাকার অনেক রাস্তায় পানি জমে চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। হাট-বাজারে মানুষের আনাগোনা অনেকাংশ কমে গেছে। শীতের তীব্রতা অনেকাংশ বেড়ে গেছে।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা সংবাদদাতা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শীতকালীন এ সময়ে আচমকা বৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। শীতে হতদরিদ্র দিনমজুর নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে! চলতি বোরো মৌসুমে হিমেল হাওয়া ও বৃষ্টিতে থেমে গেছে কৃষির চাকা। লেবার সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে বোরো চাষের কার্যক্রম। তার পরেও জীবন-জীবিকার তাগিদে কনকনে শীতে ও বৃষ্টিতে ভিজে চালিয়ে যাচ্ছে কৃষিতে সেবাদানকারী দিনমজুরেরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ