Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ০১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

নাটোরের উত্তরা গণভবন নামকরণের সুবর্ণজয়ন্তি

ফুলে ফুলে শোভিত অঙ্গন

নাটোর জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৮ এএম

নাটোরের প্রিয়দর্শন দীঘাপতিয়া রাজবাড়ির ‘উত্তরা গণভবন’ নামকরণের ৫০ বছর সুবর্ণজয়ন্তি পূর্ণ হয়েছে গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি । এ উপলক্ষ্যে উত্তরা গণভবনকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ফুরে ফুলে সুশোভিত হয়ে আছে সর্ম্পূণ রাজবাড়ির অঙ্গন। তবে করোনার কারণে আয়োজন ছিল সীমিত। উত্তরা গণভবন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাটোর দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে ‹উত্তরা গণভবন› নামকরণ করেন। এর একমাস পর বঙ্গবন্ধু উত্তরা গণভবনের মূল প্রাসাদের ভেতরে মন্ত্রীসভার একটি বৈঠকও করেন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে উত্তরা গণভবনে মন্ত্রীপরিষদের বৈঠক হয়। সেই থেকেই উত্তরা গণভবন ঢাকার বাহিরে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বাসভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, সজিব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ এই গণভবনে সফরে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জানা যায়, নাটোর ছিল বঙ্গবন্ধুর অনেক পছন্দের জায়গা। নাটোরকে নিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি নাটোরকে উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র করতে চেয়েছিলেন। দেশের দ্বিতীয় রাজধানী করার স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি। নাটোরের স্থানীয় রাজনীতিকেও বঙ্গবন্ধু গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে উত্তরা গণভবনে সফরকালে রাজবাড়ি চত্ত্বরে একটি হৈমন্তী গাছ রোপন করেছিলেন। ১৯৬৪ সালের ৮ মে নাটোর মহকুমা আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি ছিলেন। শুধু তিনি একাই নন, ওই সময়ের আওয়ামী লীগের খ্যাতনামা নেতাদেরকেও তিনি নাটোরে উপস্থিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও সম্মেলনে ছিলেন মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ, মতিয়ার রহমান, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, কামরুজ্জামানসহ অনেকে। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নাটোর পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি জানান, বঙ্গবন্ধুর কিছু প্রিয় মানুষ ছিলেন নাটোরে। তাদের টানে তিনি প্রায়ই ছুটে আসতেন। তাদের একজন ছিল আমার বাবা শংকর গোবিন্দ চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু তাকে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। নাটোরে তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন সাবেক এমপি মরহুম সাইফুল ইসলাম, সাবেক যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান রেজা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মজিবর রহমান সেন্টু, আওয়ামী লীগের রমজান আলী প্রাংসহ অনেকে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো.শামীম আহমেদ জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি দীঘাপতিয়া রাজবাড়িকে ‘উত্তরা গণভবন’ নামকরণ করেন। এরপর থেকেই গণভবনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মর্যাদা পায়। তার স্মৃতিবিজাড়িত স্থানে আবারো ছোট আকারে হলেও যেন একটি মন্ত্রীপরিষদের বৈঠক করা যায়, সেজন্য জেলা প্রশাসক হিসেবে সরকারের কাছে আবেদন জানাবো।
জানা যায়, এই গণভবনটি ৪২ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের উপরে সন্তুষ্ট হয়ে দিঘাপতিয়া পরগনা উপহার দেন। দিঘাপতিয়া রাজবংশের ও জমিদারীর গোড়াপত্তন ১৭৬০ সালে হয় রাজা দয়ারামের হাত ধরে। বিশালাকার এ রাজবাড়িতে রয়েছে দিঘী, বাগান, ইটালিয়ান গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, নতুন সংগ্রহশালাসহ দেশ-বিদেশের হরেক ও বাহারি রকমের গাছের মেলা। পুরো গণভবনের চারপাশে উচু দেওয়ালে ঘেরা। নাটোর শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তরে ইতিহাসখ্যাত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি তথা ‘উত্তরা গণভবন’ অবস্থিত। বর্তমানে এ গণভবন জনপ্রিয় এক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। যদিও করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ কয়েক মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। এ গণভবন প্রাঙ্গনে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত মনোরম ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। যেখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির নানা উদ্ভিদ। গণভবনের সামনের মাঠে ফুটেছে দৃষ্টিনন্দন গাদা ও গ্লাডিওলাস ফুল। গণভবনে ঢুকলেই যেন পর্যটকদের ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নাটোরের উত্তরা গণভবন নামকরণের সুবর্ণজয়ন্তি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ