Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

কর্ণফুলী গ্যাসের পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

পেট্রোবাংলার অধীন ‘কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি:’র তৎকালীন পরিচালক আনিছউদ্দিন আহমেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম বাদী হয়ে রোববার এ মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আনিছউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী কামরুন নাহার পলি, ঠিকাদার নেছার আহমেদ এবং নূর মোহাম্মদ। তাদের বিরুদ্ধে কেনাকাটার নামে ক্রয়নীতি লঙ্ঘন করে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫৩ টাকা আত্মসাৎ এবং ৯ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মো. আনিছ উদ্দিন আহমেদ ২০১১ সালের ২১ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি:’র তৎকালীন ব্যবস্থাপক (পুর-নির্মাণ) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে অত্র প্রতিষ্ঠানেরই নিবন্ধিত ঠিকাদার ‘মেসার্স নেটকো কনস্ট্রাকশন’র মালিক নেছার আহমেদ ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহান এবং আনিছ উদ্দিনের স্ত্রী কামরুন নাহারকে নিয়ে ‘রক প্রপার্টিজ’ নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নূর সিন্ডিকেট’র সাথে একটি দরপত্র পরিচালনা ও নির্মাণ কাজের চুক্তি করে। গত ২৮/০২/৩০১২ তারিখ দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি:’র চাঁদগাঁওস্থ অফিসার্স আবাসিক এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এতে অংশগ্রহণ ও নির্মাণ কাজে সকল প্রকার কার্য সম্পাদনপূর্বক বিল বাবদ প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ করবে এবং বিনিময়ে মেসার্স নূর সিন্ডিকেটকে প্রাপ্ত বিলের ১.৫ % টাকা প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। তাতে দেখা যায়, আনিছউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯ এর ৬৩(৩) ধারা ও ৬৩ (৪) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিয়ে তিনি ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫৩ টাকা আত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে ক্রয়কারী ও ঠিকাদার নিজেদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে যৌথ ও একক অ্যাকাউন্ট খোলেন। তাতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১ এর সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’র মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তর বাবদ ৯ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।
যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগটি দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন আমলে নিয়ে কমিশন মামলা রুজুর অনুমোদন দেয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন