Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ইরাকে আরও ১ হাজার ৭শ’ সেনা পাঠাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ৫ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ইরাকে আরও ১ হাজার ৭০০ সেনা মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ ক্যারেলিনার একটি প্রশিক্ষণ শিবির থেকে এস প্যারা মিলিটারি ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হচ্ছে। বতমানে মসুল অভিযানে অংশ নিয়ে এরা ইরাকি সেনা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে বলে বলা হচ্ছে। তারা সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হচ্ছে, কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের নিমূলের লড়াইয়ে ইরাকি সেনাদের সহায়তা করার লক্ষ্যেই সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক সদরদপ্তর পেন্টাগন বলছে, সেনারা ইরাকের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে ও সহায়তা করবে। ইরাকি সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। প্রসঙ্গত, ইরাক ও সিরিয়ার বড় একটি অংশ দখল করেছিল আইএস। কিন্তু গত কয়েক মাসে বেশ কিছু এলাকা ততাদের দখলমুক্ত হয়ে যায়। গত কয়েকমাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর শ’ শ’ বিমান আইএসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরাকের সামরিক বাহিনীকে সহায়তায় আগে যে মার্কিন সেনা উপদেষ্টারা গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে নতুন করে যোগ দেবেন অতিরিক্ত আরও ১,৭০০ সেনা সদস্য। রাজধানী বাগদাদের বাইরে ও উত্তরাঞ্চলীয় ইরবিল শহরে দুটি ‘পরামর্শ ও সহায়তা কেন্দ্র’ও প্রতিষ্ঠা করবে মার্কিন সেনাবাহিনী। এদিকে, মসুলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মত এক অডিও বার্তায় জয়ের আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শীর্ষ নেতা আবু বকর আল বাগদাদি। গত বৃহস্পতিবার ইন্টারনেটে বাগদাদির সমর্থকদের প্রকাশ করা ওই অডিও বার্তায় তিনি তুরস্ক দখল করার জন্য আইএস যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানান। বাগদাদি বলেন, “এই উন্মত্ত লড়াই ও পূর্ণ যুদ্ধ এবং যে মহান জিহাদে ইসলামি রাষ্ট্রটি লড়াই করছে তা শুধু আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে এবং আমাদের বিবেচনায় এর সবই জয়ের পূর্ব লক্ষণ।” তবে ৩১ মিনিট দীর্ঘ রেকর্ডকৃত এই বার্তাটির সত্যাসত্য নির্ধারণ করা যায়নি। এর আগে বাগদাদির বলে দাবি করা সর্বশেষ বার্তাটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বার্তায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা সিরিয়ায় আইএসকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে নিজের অনুসারি ও সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। গত ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের স্থল ও বিমান হামলার সমর্থন নিয়ে চুড়ান্তভাবে মসুল অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনীগুলো। ২০০৩ সালে ইরাকের মার্কিন অভিযানের পর থেকে দেশটিতে এটিই বৃহত্তম সামরিক অভিযান। দুই বছর আগে ইরাক ও সিরিয়ার অনেকগুলো শহর দখল করে নেয় আইএস। এগুলোর মধ্যে মসুল অন্যতম। শহরটিতে ১৫ লাখ মানুষের বাস। আইএসের দখলকৃত অন্য যে কোনো শহরের চেয়ে এখানে অনেক বেশি মানুষ বাস করে। উল্লেখ্য, গত বছর ইরাক ও সিরিয়া, উভয় দেশে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানের মুখে পিছু হটতে শুরু করে আইএস। এখন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইরাকি সরকারি বাহিনী, কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী ও ইরানি সমর্থিত শিয়া বেসামরিক বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। বিবিসি, রয়টার্স।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরাকে আরও ১ হাজার ৭শ’ সেনা পাঠাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ