Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

বিমানবন্দরে সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৭ এএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লাগেজ চুরি, সেবার নিম্নমান ইত্যাদি নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে এসব বদনাম নিয়ে বিমানবন্দরটি চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বিমানবন্দরের সেবার মান বৃদ্ধির তাকিদ দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। শুধু বিমানবন্দরের ভেতরেই নয়, বাইরেও প্রবাসীরা নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বন্দরের অভ্যন্তরের নানা ঝক্কি-ঝামেলা পার হয়ে বাইরে এলেই নানা উৎপাতের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে একটি ডাকাতদলের ওঁৎ পেতে থাকা। বাড়িতে ফেরার পথে গাড়ি নিয়ে রওনা দিলে নির্জন কোনো জায়াগায় বা যানজটের মধ্যে অনুসরণকারি ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ৫০-৬০টি ডাকাতদল সক্রিয় রয়েছে। এরা প্রবাসীদের টার্গেট করে পথিমধ্যে অস্ত্রের মুখে সব ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ডাকাতির শিকার ভুক্তভোগীরা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও তার প্রতিকার পায় না। মামলা করতে চাইলেও নানা টালবাহানা করা হয়। পরিস্থিতি এমন যে, বিমানবন্দরের ভেতরে এবং বাইরে কোথাও যাত্রীদের স্বস্তি নেই।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বলা হয় দেশের প্রবেশদ্বার। এই দ্বার দিয়ে দেশের মানুষ যেমন যাতায়াত করে তেমনি বিদেশীরাও যাতায়াত করে। যাতায়াতের এই দ্বারের যাত্রীসেবা সব দেশই আরামদায়ক ও নির্ঝঞ্ঝাট করে থাকে। কে কত বেশি যাত্রীদের উন্নত সেবা দিতে পারে, এ প্রচেষ্টা চালায়। এ সেবার ওপরই নির্ভর করে দেশের সুনাম-বদনাম। বিমানবন্দরে নেমে যদি তাদের বিড়ম্বনা এবং অসদাচরণ বা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে হয়, তবে যাত্রীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশীয় যাত্রীরা তাতে অভ্যস্থ বা মেনে নিলেও বিদেশী যাত্রীরা তা থেকে অনেক সময় মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে একদিকে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে দেশ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরের সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। এসব অভিযোগ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না। অথচ সরকার বিমানবন্দর উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। রাষ্ট্রীয় বিমান ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ কেনার জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করা হচ্ছে। এই কেনাকাটার মধ্যেও ব্যাপক অনিয়মের খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিছুদিন আগে ২২ বছরের পুরনো উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে এক সংবাদে বলা হয়, এটি যে টাকা খরচ করে কেনা হয়েছে, এখন ফেরত দিতে তার চেয়ে বেশি খরচ পড়বে। এত পুরনো উড়োজাহাজ কেন কেনা হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর নেই। এছাড়া প্রায়ই উড়োজাহাজের কোনো কোনো ত্রুটির কথা শোনা যায়। এসব কারণে, বিদেশী যাত্রী দূরে থাক দেশের অনেক যাত্রীও ভ্রমণ করতে আগ্রহী হয় না। জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন অনিয়ম আর কোনো দেশে রয়েছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই। শুধু বাংলাদেশ বিমানের অনিয়মই নয়, বিমানবন্দরের অনিয়মের বিষয়টি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমনকি শাহজালাল বিমানবন্দর চোরাচালানের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে বলেও সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থকড়ি ও মালসামান নিয়ে দেশে ফিরে আসার পর অনেক সময় দেখা যায়, বন্দরের অভ্যন্তরে তাদের লাগেজ হারিয়ে গেছে কিংবা চুরি হয়ে গেছে। অনেক সময় লাগেজ পাওয়া গেলেও তা কাটাছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব নিয়ে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। বন্দরের অভ্যন্তরের যাবতীয় বিড়ম্বনা শেষে বের হওয়ার পর তাদের ছিনতাইকারি, ডাকাত চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। এমনকি আবার যে দেশের বাইরে যাবে, সেই পাসপোর্টটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কাস্টমস, এনএসআই, গোয়েন্দাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনী নিয়োজিত। এমন নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যে অনিয়ম ও সেবার মান সন্তোষজনক না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অনেকে বলে থাকেন, সর্ষের মধ্যে ভূত বসে থাকলে, সে ভূত তাড়ানো যায় না। বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে যখন যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া কিংবা অনিয়মের শিকার হতে হয়, তখন বুঝতে হবে সর্ষের মধ্যেই ভূত বসে আছে। তাদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া অসম্ভব। বিমানবন্দরের সবধরনের অনিয়ম বন্ধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে, স্বস্তি এবং আরাম-আয়েশের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরে আগমন ও নির্গমণ করতে পারে, এ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাত্রীসেবা বিশ্বমানে উন্নীত করতে হবে। বন্দরের বাইরে যেসব ছিনতাইকারী ও ডাকাতচক্র রয়েছে তাদের নির্মূল করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং দেশী-বিদেশী যাত্রীদের আসা-যাওয়া নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করার বিকল্প নেই।

 



 

Show all comments
  • jack ali ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:২৬ পিএম says : 0
    যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর আইন দিয়ে দেশ চলবে না ততদিন পর্যন্ত কোন কিছুই উন্নতি হবে না সব জায়গায় শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি আজকে বাংলাদেশের জনগণ দেশকে ভালোবাসে না আর এর পরিপ্রেক্ষিতে ......... সরকার মানুষকে যারা দেশকে ভালোবাসে তাদেরকে হত্যা খুন গুম অথবা মিথ্যা কেস দিয়ে চিরজীবনের মতো রেখে দেয়
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিমানবন্দর


আরও
আরও পড়ুন