Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বাগমারায় হতদরিদ্রের চাল পেল গোলাভরা ধানের মালিকরা

প্রকাশের সময় : ৭ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বাগমারা (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা

রাজশাহীর বাগমারায় হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা দরের চাল পেল গোলাভরা ধানের মালিকরা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। বরং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার গোলাভরা ধানের মালিকদের পক্ষেই ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ বিত্তশালীদের নাম বাদ দিয়ে সরকারের ফেয়ার প্রাইজ চাল হতদরিদ্রের নামে বরাদ্দ এলেও প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে সরকারের দরিদ্রবান্ধব প্রকল্পটি বড়লোকের প্রকল্পে রূপান্তর হয়েছে। ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর বাগমারাতেও ১৬টি ইউনিয়নে ফেয়ার প্রাইজ ১০ টাকা কেজির চাল সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সমাজের অসচ্ছল গরিব মানুষদের নামে প্রতিটি ইউনিয়নে ৯০০ জন করে হতদরিদ্রের তালিকা তৈরির নির্দেশ ছিল। কিন্তু উপজেলা খাদ্য কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ বিত্তশালীর নাম তালিকায় রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। বিত্তশালীদের তালিকা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী ডিলাররা চাল বিতরণ শুরু করে। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও গরিবের কোনো উপকার হয়নি। গত শনিবার উপজেলার ১১নং গনিপুর ইউনিয়নে ফেয়ার প্রাইজ ১০ টাকা কেজির যে চাল বিতরণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে শতকার ৭০ জনই বিত্তশালী ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গরিব মানুষ ডিলারদের কাছে চাল নিতে গেলেও তালিকায় তাদের নাম নেই বলে তাদেরকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, আমরা গরিব বলেই ১০ টাকা কেজি সরকারের চাল পাইনি। আগামীকাল মঙ্গলবার হতদরিদ্রদের নিয়ে উপজেলা সদরে ঝাড়– মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করলে হতদরিদ্ররা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের কিছুই করার নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী আমরা চাল বিতরণ করেছি। তালিকার বাইরে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে অধিকাংশ গরিব মানুষই ১০ টাকা কেজির চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সংশোধনের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোক দেখানো একটি তদন্তও করা হয়েছিল। তদন্তে কেবলমাত্র আদিবাসী কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর বিত্তশালীদের নাম ঠিকই রাখা হয়েছে। যা সরেজমিন এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তদন্ত করলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামের দোতলা ভবনের মালিক মুজাম হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করে। তাকে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা মূল্যের চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের একাধিক বিত্তশালী সরকারের দেয়া চাল খাওয়ার নামে এনে বিক্রি করছে। বালানগর গ্রামের শতাধিক মণ ধান উৎপাদক লইমুদিসহ একাধিক জনের নামে হতদরিদ্রের চাল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন