Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

সুপ্রিম কোর্ট বারের বর্তমান সভাপতি কে?

চার সাবেক সভাপতির প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২২, ১২:০২ এএম

কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি যখন সরগরম- তখন বারের বর্তমান সভাপতি কে? এ প্রশ্ন তুলেছেন, সাবেক চার সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী। কার্যনির্বাহী কমিটিকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন তারা। চার আইনজীবী হলেনÑ ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ এবং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়, সমিতির সভাপতি (২০২১-২২ মেয়াদে নির্বাচিত) সিনিয়র আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু গত বছরের ১৪ এপ্রিল মারা যান। সভাপতি হিসেবে তার মেয়াদ ছিল গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ অবস্থায় সমিতির সভাপতি কে? এ ছাড়া আরও ২টি প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তা হলো, অযোগ্যদের নাম কেন ২০২২-২৩ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় এসেছে? আসছে নির্বাচনে সদস্যদের ভোট ইলেকট্রিক্যালি গণনার ম্যানডেট (ক্ষমতা) কীভাবে এলো?

গতকাল বৃহস্পতিবার বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস কাজল চার সাবেক সভাপতির চিঠির বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, চিঠির বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মর্যাদা রক্ষা এবং সদস্যদের কল্যাণে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বেআইনি এবং গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশোধনের জন্য দ্রুত একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অবৈধ ভোটারমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে তাদের চিঠিতে।

সিনিয়র চার আইনজীবী বলেন, সভাপতি হিসেবে জয়ী হওয়ার পর গত বছর ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারা যান। এতে সভাপতি পদে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। কিন্তু এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সমিতির বর্তমান কমিটিতে কোনো সভাপতিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। তারা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভায় ‘নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ শূন্যতা পূরণ করা উচিত ছিল। অথচ এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নির্বাচন আমরা দেখিনি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোটার তালিকায় এমন অনেকের নাম দেখা যায়, যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য নন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সমিতির সদস্যরা সাধারণত সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা পরিচালনা করবেন। তাদের শুধু ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি কার্যালয় থাকবে। তবে আমরা দেখছি ঢাকার বাইরে অধস্তন আদালতে আইন পেশা পরিচালনা করেন, এমন অনেক আইনজীবীর নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। ফলে ২০২২-২৩ মেয়াদের নির্বাচনের আগেই এসব অবৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সংশোধন করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের আগামী নির্বাচনে ভোট গণনায় ইলেকট্রনিক মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বলেছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। তারা বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা অন্য কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট গণনার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা গঠনতন্ত্রের ১৫ (৬) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

প্রসঙ্গত : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২১-২২ মেয়াদের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু ইন্তেকালের পর এক বিশেষ সাধারণ সভায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এ আমিন উদ্দিনকে বাকি সময়ের জন্য কণ্ঠভোটে সভাপতি ঘোষণা করেন। কিন্তু বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এটির প্রতিবাদ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুপ্রিম কোর্ট বার


আরও
আরও পড়ুন