Inqilab Logo

বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ০৬ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ইসলাম আর মসজিদের ওপর সিপিবির সেলিমের এত ক্ষোভ!

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ মার্চ, ২০২২, ১২:০০ এএম

সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে গেছে কে বেশি ইসলাম পছন্দ করে এটা নিয়ে। দুই দলই প্রমান করার চেষ্টা করছে তারাই বেশি ইসলাম পছন্দ করেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্থানের মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত বাসদের প্রথম কংগ্রসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যেই সাম্প্রদায়িকতাকে কবর দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। উপজেলায়-উপজেলায় মডেল মসজিদ তৈরি করতে পারো, উপজেলায়-উপজেলায় মডেল লাইব্রেরি কেন করো না? মডেল বিজ্ঞান ক্লাব কেন করো না? কারণ মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে মানুষকে ভাত ও ভোটের অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। এটাই হলো শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র।

সিপিবির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এই মুহূর্তে দরকার বামপন্থীদের সরকার। এটা মনের ভেতরে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অনেকে হতাশা হয়ে বলে সমাজতন্ত্রের, বামপন্থীদের কী কোনও ভবিষ্যৎ আছে? আমি তাদের বলতে চাই, দুনিয়ার আর বাংলাদেশের কী সমাজতন্ত্র ছাড়া আর কোনও ভবিষ্যৎ আছে? এই কথা আজ প্রমাণিত। আমাদের ভবিষ্যৎ হলো সমাজতন্ত্র। তিনি বলেন, ভোটের লড়াই আর ভাতের লড়াই একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত। ভোটের লড়াই আর ভাতের লড়াই একসঙ্গে করতে হবে। আমরা বামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে কীভাবে দ্রব্যমূল্য কমাতে হয় তার প্রেসক্রিপশন আমাদের তৈরি করা আছে। বাজারই যদি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, এটাই যদি আপনার কথা হয়ে থাকে, তাহলে আপনার ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই।

কংগ্রসে বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বামজোটের সমন্বয়ক সাইফুল হকসহ অনেকে বক্তৃতা করেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যথন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন; তখন মঞ্চের বইরে একজন বাদাম বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন বাম নেতার কাজে চানতে চান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ইসলাম ধর্ম আর মসজিদের প্রতি এতো বিদ্বেষ কেন? আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ নেতাকর্মী ইসলাম ধর্মের মানুষ। সংগত কারণে তারা ইসলামের পক্ষ্যে কথা বলবে। আর মসজিদের সঙ্গে বইয়ের লাইব্রেরি আর বিজ্ঞান ক্লাবের কি তুলনা চলে? সেলিম সাহেবরা মানুষকে কি বোঝাতে চান? বাদাম বিক্রেতার এমন প্রশ্ন শুনে বাম নেতা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। তিনি বলেন, ভাই এই কারণে এদের মানুষ পছন্দ করে না।



 

Show all comments
  • গনিম ৫ মার্চ, ২০২২, ১:৪৯ এএম says : 0
    সেলিম সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে মৌলবাদী বক্তব্য রাখেন। সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো বন্ধ করার জন্য সেলিম কে। আহ্বান জানাই। বিদেশ থেকে টাকা খেয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Lipon ৫ মার্চ, ২০২২, ২:২৯ এএম says : 0
    লেলিনের অনুসারি
    Total Reply(0) Reply
  • Shohidul Islam Munna ৫ মার্চ, ২০২২, ২:৩০ এএম says : 0
    কমিউনিস্ট যারা করে তাদের ইসলামের প্রতি চুলকানি আছে
    Total Reply(0) Reply
  • ABU ABDULLAH ৫ মার্চ, ২০২২, ৯:৩৫ এএম says : 0
    যেমন কাফের মুশরিকদের ক্ষোভ ইসলামের উপর
    Total Reply(0) Reply
  • jack ali ৫ মার্চ, ২০২২, ১২:০৮ পিএম says : 0
    হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্মরণীয় উক্তি “মুসলমানদের পরামর্শ ছাড়া যে নিজের বা অন্য কারো নেতৃত্ব বহালের দাবি করে তাকে জীবিত রাখা তোমাদের জন্যে হারাম [কানযুল ঈমান] আলী রাদিয়াল্লাহু বলতেন যে যুগে যুগে ইসলামকে ধ্বংস করবে দরবারী আলেম ও শাসকগণ. বিশ্বশ্রেষ্ঠ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহমতউল্লাহ লিখেছেন: অকাট্য দলিল ও সমস্ত উম্মাহর ঐক্য বদ্ধ ঐক্যমতের ভিত্তিতে একথা স্পষ্ট যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মকে সমর্থন করবে কিংবা মোহাম্মদ [সাঃ] শরিয়া ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সমর্থন করবে সে কাফের. যেভাবে কেউ কোরআনের কিছু অংশ বিশ্বাস করে আর কিছু অংশ অবিশ্বাস করলে কাফের হয়. { মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম 524/28 } Surah:Al-Hajj: Ayat:41: আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করলে তারা সালাত কায়েম করবে যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর অধিকারে... Surah:5: Ayat:44: “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করে না এমন লোক তো পূর্ণ কাফির” Surah:5: Ayat:45: “যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করে না তাহলে তো এমন ব্যক্তি পূর্ণ জালিম.” Surah:5: Ayat:47: “যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করে না, তাহলে তো এই লোকই পাপাচারী ফাসেক”এইজন্যই তো নবী [সাঃ] নবীজির জীবনে 10 বছরে প্রায় 100 পাঁচটা যুদ্ধ হয়েছিল…..নিজেই সাতাশটা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কাফেরদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর আইন দিয়ে দেশ শাসন করত না
    Total Reply(0) Reply
  • jack ali ৫ মার্চ, ২০২২, ১২:১০ পিএম says : 0
    ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভূমিকা ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। প্রতিনিধির কাজ হল পৃথিবীতে আল্লাহর তাআলার নির্দেশানুযায়ী ব্যক্তিগত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। ইসলামে যেমন ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা আছে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য রয়েছে রাজনৈতিক বিধিমালা। ইসলামের রাজনৈতিক পদ্ধতি কোন মানুষের চিন্তা বা গবেষণার ফসল নয়। বরং তা বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দেওয়া পদ্ধতি। আল্লাহ পাক যেভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন- ইসলামী রাজনৈতিক পদ্ধতিতে তারই বাস্তবায়ন করা হয়। আল্লাহর দেয়া ও রাসূলের প্রদর্শিত পদ্ধতির ভিত্তিতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এরই মধ্যে নিহিত রয়েছে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা। ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান উৎস হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা অন্য সকল রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উন্নত ও মানব কল্যাণময়। এই ইউনিটের আলোচিত পাঠগুলো হল- পাঠ-১ : ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থা। পাঠ-২ : ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব। পাঠ-৩ : ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয় ও স্বরূপ। পাঠ-৪ : ইসলামী রাষ্ট্রের উপাদান ও গঠন প্রণালী। পাঠ-৫ : ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ও মূলনীতি। পাঠ-৬ : আধুনিক রাজনৈতিক পদ্ধতির সাথে ইসলামী রাজনৈতিক পদ্ধতির তুলনা। পাঠ-৭ : ইসলামী রাষ্ট্রে মজলিসে-শূরা ও তার ভূমিকা পাঠ-৮ : ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান ও মজলিস-ই-শূরার সদস্যদের গুণাবলী। পাঠ-৯ : ইসলামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাঠ-১০ : ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার। পাঠ-১১ : ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। াঠ-১২ : ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম পাঠ ১ ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থা উদ্দেশ্য এই পাঠ পড়ে আপনি- ■ ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা কি তা বলতে পারবেন ■ ইসলামী রাজনীতির উৎস কি কি তা বিশ্লেষণ করতে পারবেন। ১.১ ইসলামী রাজনৈতিক ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলতে ইসলামের বিধি-বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন তথা রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থাকেই বুঝায়। বস্তুত আসমান-যমীন, মানুষ তথা সৃষ্টি জগতের সব কিছুর স্রষ্টাই হলেন মহান আল্লাহরাব্বুল আলামীন। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র বা দিক তাঁরই ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে দান করেছেন ইসলাম। তাই ইসলামে যেমন ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাজনৈতিক চিন্তাধারা সম্বলিত বিধি-বিধানও দান করেছেন। যেমন পবিত্র কুরআনে রাষ্ট্রীয় জীবন তথা জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের ঘোষণা করে বলা হয়েছে : আসমান ও যমীনের মালিক বা রাজত্ব হল তাঁরই (আল্লাহরই) জন্যে।” (সূরা হাদীদ : ২) অর্থাৎ সবকিছুর নিরংকুশ সার্বভৌমত্বের মালিক হলেন মহান আল্লাহ। তিনি এ পৃথিবীতে তাঁর বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মানুষকে খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : (সূরা ফাতির 35 : Ayat:39) “তিনিই (মহান আল্লাহ) তোমাদেরকে এ পৃথিবীতে (তাঁর বিধি-বিধান কায়েম করার জন্যে) খলীফা নিযুক্ত করেছেন। তাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা বিষয়ক ব্যবস্থাই হল ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা। ১.২ ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার উৎস ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোন মানুষের আবিষ্কার বা যুগের চাহিদা মাফিক বক্তব্য নয়। বরং ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল উৎস হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও রাসূল্লাহর (স) আদর্শ। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেহেতু স্থিতিশীল কোন বিষয় নয়। বরং তা যুগ ও সময়ের সাথে চলমান; তাই কুরআন ও হাদীসে কেবল ইসলামী রাজনীতির মূলনীতিসমূহ দেয়া হয়েছে। বাকি খুঁটি-নাটি বিষয় রচনা করার ভার যুগের বিশেষজ্ঞদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তাঁরা ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে যুগের চাহিদা মোতাবেক কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে রচনা করবেন। কাজেই দেখা যায় ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল উৎস হচ্ছে ৪ টি। যথা - ১। আল কুরআন; ২। রাসূল্লাহর (স) আদর্শ তথা সুন্নাহ ৩। উম্মতের ইজমা এবং ৪। কিয়াস বা ইজতিহাদ। ১.৩ প্রথম উৎস : আল-কুরআন ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ও প্রথম উৎস হচ্ছেআল-কুরআন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করছেন : (সূরা আনয়াম:6 :Ayat:38 “আমি কুরআন মাজীদে কোন কিছুর কথাই অবর্ণিত রাখিনি।”) অর্থাৎ, আল্লাহ বলেছেন, পবিত্র কুরআনে আমি মানবজাতির প্রয়োজনীয় সব কথা বলে দিয়েছি। কিছু বাদ রাখেননি। ইসলামী শরীয়তের বিধানের দিকে তাকালে আল্লাহর এ কথার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। শরীয়তের বিধানে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়েই আইন ও বিধান দেয়া হয়েছে। যেহেতু ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহতা'আলা। তাই তিনি পবিত্র কুরআনে রাজনীতির মূল বিষয়সমূহ অর্থাৎ রাজনীতির প্রকৃতি, সার্বভৌমত্ব, শাসন কর্তৃপক্ষের দায়-দায়িত্ব, বিচার ব্যবস্থা প্রভৃতি সব বিষয়েই অকাট্য ও স্পষ্ট বিধান আল্লাহ করেছেন। যেমন - সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কুরআনের ঘোষণা : (সূরা ইউসূফ:12:Ayat:40) “তারই জন্য রাজত্ব, আকাশ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে সমস্তই তাঁর। ”আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকম দেয়ার অধিকার নেই।” শাসন পরিচালনার ব্যাপারে কুরআনের ঘোষণা : “হে রাসূল! নিশ্চয়ই আমি আপনার উপর আল-কুরআন নাযিল করেছি, যেন আপনি তদানুযায়ী জনগণের মধ্যে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারেন এবং নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।” (সূরা নিসা:4 :Ayat: 105) কুরআন আরও বলছে : আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তাঁরাই কাফির।” (সূরা মায়িদা:5 :Ayat:44) ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের মনগড়া আইন অচল : এ ব্যাপারে কুরআন বলছে : আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী জনগণের মধ্যে শাসন কার্য পরিচালনা কর। সাবধান মানুষের খেয়াল খুশী অনুসরণ করোনা।” (সূরা মায়িদা:5 :Ayat:49) খিলাফত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কুরআনের বক্তব্য: (সূরা ফাতির:35: Ayat:৩৯) “তিনিই (মহান আল্লাহ) তোমাদেরকে এ পৃথিবীতে (তাঁর বিধি-বিধান কায়েম করার জন্যে) খলীফা নিযুক্ত করেছেন। ইসলামী রাজনীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- “এরাই তারা. আমি যদি এদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতায় বসাই, তা হলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, লোকদেরকে ভাল কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।” (সূরা হজ্জ:22 :Ayat:41) বস্তুত পবিত্র কুরআনেই ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থা, কর্মধারা, কার্যসূচি, দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদির মূল নীতিসমূহ স্পষ্ট ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। ১.৩ দ্বিতীয় উৎস : রাসূলুল−র (স) আদর্শ ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় উৎস হচ্ছে হাদীস তথা রাসূল্লাহর (স) বাস্তব আদর্শ। কুরআনে বর্ণিত মূলনীতির আলোকে মহানবী (স) ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিস্তারিত বাস্তব রূপায়ণ করেছেন, তাঁরই প্রতিষ্ঠিত মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রে। কাজেই বলা যায়- শুধু কুরআনেই নয়; রাসূল্লাহর (স) সুন্নাতেও রয়েছে ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বাস্তবরূপ সংক্রান্ত বিধি-বিধান। নেতৃত্ব ও আনুগত্য রাজনীতির মূল ব্যাপার। এ বিষয়ে মহানবী (স) বলেন: “যখন তিন ব্যক্তি পথ চলে, তখন তারা যেন তাদের এক জনকে নেতা বানিয়ে নেয়।” (মিশকাত) “যে ব্যক্তি নেতার আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নেবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলী মৃত্যু।” রাজনীতি পরিচালনার দায়িত্ব সম্পর্কে মহানবী (স) বলেন : “বনী ইসরাঈলগণের নবীগণ শাসন পরিচালনা করতেন। এক নবীর পর আরেক নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। কিন্তু আমার পর আর কোন নবী হবে না বরং খলীফা হবেন।” (বুখারী- মুসলিম) নির্বাচন রাজনীতির এক অপরিহার্য ব্যাপার : এ সম্পর্কে নবী করীম (স) বলেন, “যে ব্যক্তি মুসলমানদের কোন কাজের দায়িত্ব লাভ করেছে। অতপর বেশি উপযুক্ত ব্যক্তি থাকতে কম উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্ব দান করেছে; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” মহানবী (স)-ই ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপকার। মহানবী (স)-এর জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই তিনি মদীনায় উপস্থিত হয়েই একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচি এবং যাবতীয় দলীল পত্র হাদীস ভাণ্ডারে এবং রক্ষিত আছে। কাজেই বিনা দ্বিধায় বলতে হয় রাসূল্লাহর (স)-ই ছিলেন ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূর্ত প্রতীক এবং বাস্তব রূপকার। ১.৪ তৃতীয় উৎস : ইজমায়ে উম্মত ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার তৃতীয় উৎস হচ্ছে ইজমায়ে উম্মাত। সকল যুগের সকল মুসলমান এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন যে- ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতি অপরিহার্য বিষয়। এ কারণেই দেখি নবী করীম (স)-এর ইনতিকালের পর তাঁর দাফনের কাজ শেষ করার আগেই তাঁর জায়গায় (খলীফা) নির্বাচন করার জন্য সাহাবীগণ এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাছাড়া সাহাবীদের আমল এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের রাষ্ট্র শাসন প্রভৃতি থেকে ইসলামী রাজনীতির অপরিহার্যতা বুঝা যায়। কাজেই ইজমায় উম্মাতও ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম উৎস। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম ১.৫ চতুর্থ উৎস : কিয়াস বা ইজতিহাদ ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার চতুর্থ উৎস হচ্ছে কিয়াস বা ইজতিহাদ। সকল যুগের সকল মুসলিম পন্ডিত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, “জনগণের যাবতীয় ব্যাপার সু-সম্পন্ন করার জন্য রাষ্ট্র কায়েম করা ইসলামের সর্বপ্রধান দায়িত্ব এবং রাষ্ট্র ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠা হতেই পারে না। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং নিপীড়িতদের সাহায্য করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। আর এগুলো রাষ্ট্রশক্তি ও রাষ্ট্র কর্তৃত্ব ছাড়া কিছুতেই সম্পন্ন হতে পারে না।” কাজেই শরীআতের আইন জারি ও কার্যকরী করার জন্য ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা একটি অপরিহার্য কর্তব্য। (ইমাম তাইমিয়া : আস্ সিয়াহসাহ আশ-শারিআহ পৃ: ১৭২/৭৩) উপরিউক্ত আলোচনা হতে পরিষ্কাররূপে বুঝা যায়, ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা নতুন কোন বিষয় নয়। বরং এটা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়। অতএব ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মানবতার কল্যাণ এবং ঈমানী দাবী পূরণ করা যায়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব এই পাঠ পড়ে আপনি- ■ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের নির্দেশ বর্ণনা করতে পারবেন। ■ শরীয়াতের নির্দেশ পালনের জন্য রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা প্রমাণ করতে পারবেন। ■ আল্লাহর ইবাদাতের জন্যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও অনস্বীকার্যতা ব্যাখ্যা করতে পারবেন। ২.১ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের নির্দেশ ইসলাম এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামী শরী'আতে রয়েছে মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগ এবং সকল কাজ ও বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইন ও বিধান। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে- “আল-কিতাবে আমি কিছুই অপূর্ণ রাখিনি।” (সূরা আনআম : ৩৮) আল্লাহ বলেন, কুরআনেই আমি জরুরী সব কথা বলে দিয়েছি। কিছুই বাদ রাখিনি। বস্তুত ইসলামী শরী'আতের বিধান আল্লাহর এ দাবির সত্যতা অকাট্য ভাবে প্রমাণ করেছে। শরী'আতের বিধানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়েই আইন-বিধান দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রকৃতি, তার পরামর্শ ভিত্তিক তথা গণতান্ত্রিক হওয়া, শাসন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শীলতা, ন্যায় সঙ্গত কাজে তাদের আনুগত্য, যুদ্ধ, সন্ধিচুক্তি প্রভৃতি সর্ব বিষয়ে অকাট্য বিধান রয়েছে ইসলামী শরী'আতে। আর তা শুধু কুরআনে বর্ণিত হয়েছে শুধু তাই নয়, রাসূলে কারীমের (স) সুন্নাতেও রয়েছে তার ব্যাখ্যা ও বাস্ত বরূপ সংক্রান্ত বিধান। কুরআন ও হাদীসে আমীর, ইমাম, খলীফা, সুলতান প্রভৃতি পারিভাষিক শব্দগুলো বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। এ শব্দগুলো দ্বারা বুঝায় সেই ব্যক্তিকে যার হাতে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, শাসন ও আইন রচনার ক্ষমতা। আধুনিক পরিভাষায় তাই হলো সরকার বা গভর্নমেন্ট। সরকার বা গভর্নমেন্ট হলো রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাজেই যে সব আয়াতে এবং হাদীসের যে সব উক্তিতে এ পরিভাষাগুলো ব্যবহৃত হয়েছে তাকে বাস্তবায়িত করা একান্তই জরুরী কেননা, এগুলো শুধু পড়া বা মুখে উচ্চারণের জন্য বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে এজন্য যে, তা যেমন পড়া হবে তেমনি তাকে কার্যকরী করাও হবে। আর এগুলো কার্যকরী করতে হলে ইসলামী শরী'আতের বিধি-বিধান অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র কায়েম করা অপরিহার্য। ২.২ শরী'আতের নির্দেশ পালন ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা শরী'আতের এমন অনেকগুলো আইন-বিধান রয়েছে যা কার্যকরী করতে হলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করে সেগুলোর বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভবপর নয়। আল্লাহর-বিধান অনুযায়ী মানুষের পরস্পরের বিচার ফয়সালা করার এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার নির্দেশ রয়েছে কুরআন-হাদীসে। কাজেই শরী'আতের আইন বিধান জারী ও কার্যকরী করার জন্য ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা একটি অপরিহার্য জরুরী কর্তব্য। ২.৩ আল্লাহর ইবাদতের জন্য ইসলামী রাষ্ট্র জরুরী আল্লাহর ইবাদতের দায়িত্ব পালনের জন্যও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে তাঁরই ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন- “আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু এ উদ্দেশ্যে যে তারা আমারই ইবাদত করবে।” (সূরা যারিআত : ৫১) কুরআনে এ ইবাদত শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক পরিভাষা। ইবাদত শব্দের ব্যাখ্যায় ও বিশেষণের দৃষ্টিতে মানুষের যাবতীয় কথা, কাজ, ব্যবহার, প্রয়োগ, আয়-ব্যয় ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক-সম্বন্ধ, এক নির্ধারিত পথ ও পন্থা এবং নিয়ম পদ্ধতি অনুযায়ী সুসম্পন্ন হওয়া কর্তব্য। তা যদি করা হয় তাহলেই মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সার্থক হতে পারে। অন্যথায় মানুষের জীবনে আল্লাহর উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে না। আল্লাহর উদ্দেশ্যের দৃষ্টিতে মানব জীবন ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যেতে বাধ্য। কিন্তু মানুষের জীবনকে এদিক দিয়ে সার্থক করতে হলে গোটা সমাজ ও পরিবেশকে এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবন-যাপন করা তাদের সকলের পক্ষেই সহজ সাধ্য হয়ে ওঠে। কেননা, মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের মধ্যেই অতিবাহিত হয় মানুষের জীবন। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম ইসলামী রাষ্ট্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়ই সম্ভব ইসলামের আদর্শ সমাজ গঠন। কেননা এরূপ একটি রাষ্ট্র কায়েম হলেই ইসলামের পক্ষে ক্ষতিকর মতবাদ প্রচার ও শরী'আত বিরোধী কাজকর্ম বন্ধ করা সম্ভব। সমাজকে বিপর্যয় ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারে রাষ্ট্রশক্তি। হযরত ওসমান (রা) বলেন- “কুরআন দ্বারা যে হিদায়াত প্রাপ্ত হয় না, আল্লাহ তাকে রাষ্ট্রশক্তি দ্বারা হিদায়াত করেন।” সুতরাং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসলামী শরী'আতের স্বাভাবিক দাবী। তাই ইসলামী শরী'আত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জোর তাকিদ দেয়। এজন্যই মহানবী (স) মদীনায় হিজরত করে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিজের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। ইসলাম শিক্ষা প্রথম পত্র : উদ্দেশ্য ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয় ও স্বরূপ এই পাঠ পড়ে আপনি- ■ ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয় দিতে পারবেন। ■ রাষ্ট্র কাকে বলে বলতে পারবেন। ■ ইসলামী রাষ্ট্রের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে পারবেন। ৩.১ ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচয় প্রাচীন মনীষী এরিস্টোটলের মতে, “রাষ্ট্র হল কয়েকটি পরিবার ও গ্রামের সমষ্টি, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি যথার্থ এবং আত্মবিসর্জন মূলক জীবন।” অধ্যাপক লাস্কীর মতে, “রাষ্ট্র হচ্ছে একটি ভূখন্ড -ভিত্তিক সমাজ যা সরকার এবং জনগণের মধ্যে বিভক্ত এর ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সকল সংগঠনের উপর প্রাধান্য স্থাপন করে।” অধ্যাপক গার্না-এর মতে, “রাষ্ট্র হচ্ছে এমন একটি জনসমস্টি যারা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে। যারা বহিরাক্রমণ থেকে মুক্ত এবং যাদের সরকার সুসংহত। যার প্রতি বিপুল জনসংখ্যা স্বভাবতই আনুগত্য প্রকাশ করে।” সুতরাং রাষ্ট্র বলতে বুঝায় এমন একটি জনসমষ্টি যারা কোন একটি নির্দিষ্ট ভ‚-খণ্ডে বাস করে এবং যাদের একটি সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্র বলা হয় এমন রাষ্ট্রকে যে রাষ্ট্র ইসলামী নীতি তথা কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী শরী'আতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞা এভাবেও দেয়া হয়- অথবা বলা যায়, মহান আল্লাহর এক”ছত্র প্রভুত্ব, আধিপত্য ও আইন রচনার নিরঙ্কুশ অধিকার এবং সকল মানুষ সমানভাবে আল্লাহর বান্দা হওয়া ও তাঁর নিকট সকলেরই দায়ী হওয়ার সুস্পষ্ট স্বীকৃতির ওপর যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাই ইসলামী রাষ্ট্র। অর্থাৎ- যে রাষ্ট্রের পরিচালন, নীতি-নির্ধারণ, প্রশাসন ও আইন-প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শ ও রীতি-নীতির পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা হয় তাকে ইসলামী রাষ্ট্র বলা হয়। সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইসলামী রাষ্ট্রকে বলা হয় “দারুল ইসলাম এমন অঞ্চলের নাম, যা মুসলমানদের কর্তৃত্বাধীনে রয়েছে।” এ সংজ্ঞায় দুটো জিনিসের আল্লাহ রয়েছে- একটি হলো রাষ্ট্র, অপরটি অঞ্চল। রাষ্ট্র সংক্রান্ত অন্যান্য কথাও এর মধ্যে রয়েছে। যেমন রাষ্ট্রের অধিবাসী জনতা , আর দ্বিতীয় হলো রাষ্ট্রীয় আদর্শ। কেননা, একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, মুসলমানরা আল্লাহ ও রাসূল এবং কুরআন ও সুন্নাহ বিশ্বাসী বলে তারা যখন, দুনিয়ার কোন ভৌগোলিক এলাকায় শাসন কর্তৃত্ব স্থাপন করে, তখন অবশ্যই ইসলামী বিধান মুতাবিক যাবতীয় কার্য সম্পাদন করবে। ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞা এ ভাবেও দেয়া হয়েছে : “দারুল ইসলাম হলো এমন দেশ, যেখানে ইসলামের যাবতীয় নিয়ম-বিধান সম্প্রসারিত ও বিজয়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।” এ সংজ্ঞায় আল্লাহ রয়েছে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের কথা। সেই সঙ্গে এতে রয়েছে, রাষ্ট্রের অপরাপর উপাদানের কথাও। যেমন জনতা ও ভৌগোলিক অঞ্চল। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো এ যে, ‘ইসলামী রাষ্ট্র' হওয়ার জন্য দেশের সকল বাসিন্দার মুসলমান হতে হবে, এমন কোন শর্তই ফিকহ বিদগণের দেয়া সংজ্ঞা থেকে প্রমাণিত হয় না। বরং সেখানে অমুসলিম নাগরিকও থাকতে পারে, থেকেছেও। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম এজন্য ফিকহবিদগণ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “যেমন অমুসলিম অধিবাসীরাও দারুল ইসলামের নাগরিক।” অবশ্য কোন কোন ফিকহবিদ কথাটিকে আরো উদারভাবে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মতে ‘ইসলামী রাষ্ট্র' হওয়ার জন্য অধিবাসীদের মুসলমান হওয়াও শর্ত নয়। বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌম শাসকের মুসলিম হওয়া এবং ইসলামী আইন বিধান মুতাবিক শাসন সম্পাদন করাই ‘ইসলামী রাষ্ট্র' হওয়ার জন্য যথেষ্ট। ইমাম শাফি'ঈ এ মত পোষণ করতেন। তিনি বলেন “ইসলামী রাষ্ট্রে কেবল অধিবাসী মুসলমান হওয়া শর্ত নয়, বরং রাষ্ট্র শাসকের মুসলিম হওয়া ও ইসলাম অনুসরণ করাই সেজন্য যথেষ্ট।” তার মানে নিশ্চয়ই এ নয় যে, ইমাম শাফি'ঈর মতে অমুসলিম নাগরিকের ওপরও ইসলামী আইন জারি হবে। তাঁর কথার তাৎপর্য এ যে, একটি রাষ্ট্রকে ‘ইসলামী রাষ্ট্র' বলে চিহ্নিত করার জন্য রাষ্ট্রশাসকের মুসলিম হওয়া ও ইসলামী বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র শাসন করাই প্রথম শর্ত। এটা হয়ে গেলেই তাকে ইসলামী রাষ্ট্র বলা যাবে। আধুনিক ইসলামী চিন্তাবিদ প্রফেসর খুরশীদ আহমদ ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এ বলে- ‘যে রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ইসলামী আইন-কানুন দ্বারা পরিচালিত এবং আল্লাহরাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্ব ও প্রাধান্য মেনে নিয়ে সে মুতাবিক লক্ষ্যে পৌঁছার সর্বাত্মক প্রয়াস যে রাষ্ট্রে চালান হয়, তাই ইসলামী রাষ্ট্র।” আল্লামা আবুল হাসান আল মাওয়াদা'র বলেন, “দ্বীনের পাহারাদারী, সংরক্ষণ ও দুনিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা এবং নবুয়তের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রই ইসলামী রাষ্ট্র।” সমাজ বিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের মতে- “ইসলামী শরীয়তের দাবি অনুযায়ী নাগরিক গণের বৈষয়িক ইহজাগতিক ও পরকালীন কল্যাণ সাধনের সর্বাধিক দায়িত্ব গ্রহণকারী রাজনৈতিক সংগঠনই ইসলামী রাষ্ট্র।” ৩.২ ইসলামী রাষ্ট্রের স্বরূপ ক. ভিত্তি ইসলামী রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক মূল ভিত্তি চারটি : (ক) কুরআন, (খ) সুন্নাহ, (গ) ইজমা ও (ঘ) কিয়াস। খ. সার্বভৌমত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা, আধিপত্য ও শাসনতন্ত্র রচনার এক”ছত্র ও নিরঙ্কুশ অধিকার মহান আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। এ ক্ষমতায় তাঁর কোন শরীক নেই। এ মর্মে মহান আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা : “হুকুম দেয়ার সার্বভৌম ক্ষমতা ও অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট”। অর্থাৎ, মহান আল্লাহর এক”ছত্র প্রভুত্ব, আধিপত্য ও আইন রচনার নিরঙ্কুশ অধিকার এবং সকল মানুষ সমানভাবে আল্লাহর বান্দা হওয়া ও তাঁর নিকট সকলেই দায়ী হওয়ার সুস্পষ্ট স্বীকৃতির ওপর যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় তাই ইসলামী রাষ্ট্র। গ. আইন-কানুন : ইসলামী রাষ্ট্রে একমাত্র আল্লাহতা'আলার বিধান ও আইন-কানুন জারি থাকবে। কুরআন সুন্নাহর পরিপন্থী কোন বিধানে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। তাই এ বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসলামী হুকুমতকে রাষ্ট্র না বলে খিলাফত হিসেবে অভিহিত করা হয়। কাজেই আইন রচনার অধিকার মানুষের নেই। আল্লাহ বলেন : “তারা বলে আইন রচনা করার আমাদের কি কোন অধিকার নেই? আপনি ঘোষণা করে দিন- আইন রচনার অধিকার সম্পূর্ণরূপে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।” (সূরা আলে ইমরান : ১৫৪) ইসলামী রাষ্ট্র বা খিলাফত হল আল্লাহর বিধান আল্লাহর যমীনে চালু করার একটি কল্যাণ সংস্থা। একটি শক্তিশালী সংগঠন। ইহ-পরকালের কল্যাণের পথে মানবজাতিকে পরিচালিত করাই এ সংগঠনের উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন : ইসলাম শিক্ষা প্রথম পত্র “নিশ্চয়ই আপনার প্রতি পবিত্র কুরআন পরম সত্যতার সাথে এজন্য নাযিল করেছি যাতে আপনি সে অনুযায়ী মানুষের ওপর আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন এবং ইনসাফ কায়েম করতে পারেন। আর আপনি খিয়ানত কারীদের পক্ষ সমর্থনকারী হবেন না।” (সূরা নিসা : ১০৫) ঘ. সরকার প্রতিনিধিত্বশীল ইসলামী রাষ্ট্রে সরকার হয় প্রতিনিধিত্বশীল। মহানবী (স)-এর প্রতিনিধি বা খলীফা হিসেবে আল্লাহর বিধান এবং রাসূল (স)- এর সুন্নাহ অনুসারে যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তাই হল ইসলামী সরকার। আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন : “আমি তাদের মধ্য থেকে এক দল নেতা সৃষ্টি করেছি, যারা আমার নির্দেশ মোতাবেক মানুষকে হিদায়াতের দিকে আহবান করবে।” (সূরা সাজদা : ২) ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার আইন তৈরি করে না। সরকারের আইন রচনার অধিকার নেই। আইনের উৎস কুরআন ও সুন্নাহ। ইসলামী রাষ্ট্র বা ইসলামী সরকার আইন কার্যকরী করার দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র। এ মর্মে আল্লাহর ঘোষণা : “তোমাকে পৃথিবীতে আমার খলীফা নিযুক্ত করেছি। অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সততা সহকারে আল্লাহর আইন জারি কর।” (সূরা সাদ : ২৬) ঙ. পরামর্শধর্মী সংস্থা ইসলামী সরকার স্বৈরাচারী বা একনায়কত্ব মূলক নয়। এটি একটি পরামর্শ ধর্মী প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র পরিচালনায় মজলিশে শূরার পরামর্শ অনুসারে কাজ করতে এবং মজলিশে শূরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে বাধ্য। এ মর্মে আল্লাহতাআলার ঘোষণা হচ্ছে: “তাদের সকল কাজ-কর্ম নিজেদের পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হয়।” (সূরা শূরা : ৩৮) “যে কোন কাজ-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর।” (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯) ইসলামী সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি আদর্শিক প্রতিষ্ঠান। জোর করে বা জনগণ না চাইলে কেউ সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে না এটা অবৈধ। চ. রাজতন্ত্রের, গণতন্ত্র’ সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান নেই ইসলামে রাজতন্ত্রের, গণতন্ত্র’ সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান নেই। উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্ব ইসলাম বিশ্বাস করে না। খুলাফায়ে রাশিদীনের কোন খলীফাই তাঁর পুত্রকে খলীফা বা মজলিশে শূরার সদস্য হিসেবে নিয়োগ, মনোনয়ন বা প্রস্তাব করে যান নি। রাসূল (স) নিজেও কাউকে নিয়োগ বা কারও নাম প্রস্তাব করে যান নি। হযরত ওমর (রা) তাঁর ছেলেকে যেন খলীফা নির্বাচন করা না হয়, সে জন্য ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন। আধুনিক বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রে উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্ব করতে দেখা যায়, যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামের পরিপন্থী। ছ. ভ্রাতৃত্ব সুলভ শাসন ব্যবস্থা ইসলামী রাষ্ট্রে সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। কেউ কারও মনিব ও দাস নয়। এক মানুষের ওপর আর এক মানুষের আধিপত্য করার অধিকার নেই। একজনের ওপর অন্য জনের শাসন করার, আদেশ দেয়ার বা পদানত করার কোন অধিকার ইসলামে নেই। আদেশ-নিষেধ, আর শাসন চলবে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার। অন্য কারও নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুসারে তাদের মধ্যে শাসনকার্য পরিচালনা কর। (আর এ ব্যাপারে) তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবে না।” (সূরা মায়িদা : ৪৯) জ. আদর্শিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা একটি আদর্শিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এর মালিক বা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। শাসক বা সরকার আল্লাহও রাসূলের প্রতিনিধি। সাথে সাথে জনগণেরও প্রতিনিধি। এর দায়িত্ব জনগণকে সুপথে পরিচালিত করা আর দুষ্কৃতি ও কুপথ থেকে ফিরিয়ে রাখা। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্র একটি জনকল্যাণমূলক আদর্শিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। সরকার আল্লাহ ও মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে শাসন কার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। তাদের মর্যাদা এত টুকুই এর বেশি নয়। ইসলামী রাষ্ট্রে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান চালু থাকবে। মানুষের মনগড়া কোন আইনের কোন স্থান নেই। পাঠোত্তর মূল্যায়ন : ৮.৩ ক. নৈর্ব্যক্তিক উত্তর-প্রশ্ন : এক কথায় প্রকাশ কর“ন। ১. মনীষী এরিস্টোটলের মতে রাষ্ট্রের সংজ্ঞাটি কী? ২. ইসলামী রাষ্ট্র বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইসলামী রাষ্ট্রকে কী বলা হয়? ৩. ইসলামী রাষ্ট্রের সকল বাসিন্দাকে কী মুসলমান হতে হবে? ৪. ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক মুসলিম হওয়ার কী শর্ত? ৫. ইসলামী রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের মূলভিত্তি কী কী? ৬. ইসলামী রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক কে? ৭. আইন রচনা করার অধিকার কার? ৮. ইসলামী সরকার আইন রচনা করে নাকি আইন প্রয়োগ করে? ৯. ইসলামে কী রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের অবকাশ আছে? ১০. ইসলামী রাষ্ট্রে শাসক ও সরকার কার কার প্রতিনিধি? খ. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন ১. রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিন। ২. ইসলামী রাষ্ট্র কাকে বলে? ৩. ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় ফিকহবিদগণ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা লিখুন। ৪. ইসলামী রাষ্ট্রের স্বরূপ লিখন। ৫. ইসলামী রাষ্ট্রের নিরংকুশ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ ব্যাখ্যা কর“ন। ৬. “ইসলামী সরকার প্রতিনিধিত্বশীল” বিশ্লেষণকরন। পাঠ ৪ ইসলামী রাষ্ট্রের উপাদান ও গঠন প্রণালী ইসলাম শিক্ষা প্রথম পত্র উদ্দেশ্য এই পাঠ পড়ে আপনি- ■ ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের উপাদান কী তা আল্লাহ করতে পারবেন। ■ ইসলামী রাষ্ট্রের গঠন প্রণালী বর্ণনা করতে পারবেন। ৪.১ ইসলামী রাষ্ট্রের উপাদান সাধারণ রাষ্ট্রের চারটি উপাদানই ইসলামী রাষ্ট্রের উপাদান, তবে সে চারটি উপাদানের সংজ্ঞা ও ধারণায় পার্থক্য রয়েছে। ক. জনসমষ্টি সকল রাষ্ট্রের ন্যায় ইসলামী রাষ্ট্রেরও জনসমষ্টি একটি অপরিহার্য উপাদান। ইসলামী রাষ্ট্রের জনসমষ্টিকে অবশ্যই ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের পূর্ণ অনুসারী ও আস্থাশীল হতে হবে। অমুসলিম জনগণও ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে এর নাগরিক হতে পারে। খ. ভূ-খণ্ড জনসমষ্টির সাথে সাথে ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডের প্রয়োজন। ভূ-খণ্ডের আয়তনের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। ক্ষুদ্র হতে পারে, আবার বিশাল- বিস্তৃতও হতে পারে। তবে ভৌগোলিক সীমারেখা থাকতে হবে। গ. সরকার সরকার হবেন মুসলমানদের জন্য ‘উলিল আমরি মিনকুম' আর জনগণের এ প্রকার সরকারের আনুগত্য করা ফরয। এটি একটি অপরিহার্য ইবাদত। ইসলামী সরকারের আদেশ লংঘন কঠিন গুনাহ এবং আখিরাতে জবাবদিহী করতে হবে। ঘ. সার্বভৌমত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার এক”ছত্র ও নিরংকুশ মালিক হলেন সর্বশক্তিমান আল্লাহতা'আলা। রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষ আল্লাহর খলীফা বা প্রতিনিধি মাত্র। মহান আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে সরকার ইসলামী আইন-কানুন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। সরকার নিজস্বভাবে কোন আইন রচনার অধিকারী নন। এ মর্মে আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা “সতর্ক হও, তাঁর সৃষ্টিতে তাঁরই হুকুম চলবে।” ৪.২ ইসলামী রাষ্ট্রের গঠন প্রণালী সকল রাষ্ট্রের-ই একটি গঠন প্রণালী থাকে। ইসলামী রাষ্ট্রের গঠন প্রণালী হবে নিæরূপ- ১. আমীর বা রাষ্ট্র প্রধান ইসলামী রাষ্ট্রে সূরা কমিটির মাধ্যমে আমি রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয় যারা কমিটিতে থাকবে ছয় অথবা আট জন তারা কোরআন ও হাদিসে বিশেষজ্ঞ হবেন ও পৃথিবী জাগতিক জ্ঞান থাকতে হবে । আমীর বা রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচিত করতে হবে এমন সক্ষম পুরুষকে, যিনি যোগ্য, সৎ, আল্লাহভীরু “ ও খাঁটি ঈমানদার হতে হবে । ২. শাসনতন্ত্র ইসলামী রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের ভিত্তি হবে কুর‘আন ও হাদীস। এ রাষ্ট্রের প্রতিটি বিধি-বিধান প্রণীত ও পরিচালিত হবে কুর‘আনের আলোকে ও হাদীসের নির্দেশানুযায়ী। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা কিংবা স্বার্থের পরোয়া এখানে করা হবে না। ৩. মজলিস-ই-শূরা রাষ্ট্র প্রধানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যাবতীয় কর্মকাণ্ডে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি মজলিস-ই-শূরা বা পরামর্শ সভা থাকবে। জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতিক্রমে মজলিস-ই-শূরার সদস্যবৃন্দ নির্বাচিত ও নিযুক্ত হবেন। যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে রাষ্ট্রপ্রধান উক্ত সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে তাদের সুনিশ্চিত অভিমত নিয়ে শরী‘আতের নির্দেশ মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এ মর্মে মহান আল্লাহর নির্দেশ “মুসলমানদের সকল ব্যাপারই পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সুসম্পন্ন হয়”। এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম ৪. ইসলামী শরীয়তের অনুসরণ রাষ্ট্রপ্রধান ও মজলিস-ই-শূরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, তা ইসলামী মূল্যবোধ মোতাবিক কুর‘আন ও সুন্নাহ ভিত্তিক হতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ বা কৃতিত্ব অর্জনের জন্য ইসলামী বিধান বহির্ভূত কিছু করতে পারবে না। সরকার পরিচালনা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের উন্নতি-অগ্রগতি সব কিছুতে ইসলামী শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কুর‘আন ও সুন্নাহ্র আইন জারি ও প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য। মানুষের গড়া কোন আইন সেখানে স্থান পাবে না। এরূপ ইসলামী রাষ্ট্রই ইহলৌকিক ও পারলৌকিক শান্তি ও মুক্তি দিতে সক্ষম। পাঠোত্তর মূল্যায়ন : ৮.৪ ক. নৈর্ব্যক্তিক উত্তর-প্রশ ১. সাধারণ রাষ্ট্রের চারটি উপাদানই ২. ইসলামী রাষ্ট্রের জনসমষ্টি
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Arif Billah ৫ মার্চ, ২০২২, ১২:৩৫ পিএম says : 0
    এদের জাওয়াব দেওয়ার জন্য বাদাম বিক্রেতারাই যথেষ্ট।
    Total Reply(0) Reply
  • মনির হোসাইন ৫ মার্চ, ২০২২, ৯:১৬ পিএম says : 0
    তোমার এত চুলকালি কেন? নাস্তিক
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ নোমান ৭ মার্চ, ২০২২, ৭:২৯ পিএম says : 0
    ইসলাম ই একমাত্র মুক্তির পথ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিপিবি

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
১৯ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন