Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

নাকুগাঁও স্থলবন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে অচলাবস্থা

এস. কে. সাত্তার, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) থেকে | প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০২২, ১২:০৪ এএম

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে ১৮টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও আমদানি হচ্ছে মাত্র ২টি পণ্য। ব্যবসায়ীরা বলেন, যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি আছে তার বেশি অংশই আমদানি চাহিদা নেই। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকার পরও বন্দরটি অচল হয়ে পড়ছে।
জানা যায়, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক অফিস কোয়ারেন্টাইন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ সকল সুবিধা সত্বেও নেই বাণিজ্য। স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা, পাথরসহ মোট ১৮টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও পাথর ও কয়লা আমদানি করেই বন্দরটি সচল ছিল। কিন্ত ভারতের পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে ৫ বছর যাবত। ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি হতো। তাও প্রায় সময়ই ব্যাহত হয়। রপ্তানি ও বন্ধ ক’বছর ধরেই। যাত্রী পারাপারও বন্ধ। করোনা মহামারিতে ভুটান থেকে পাথর আমদানিও বন্ধ হয়। মাসখানেক থেকে সীমিত পরিসরে ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি হচ্ছে পাথর ও কয়লা। ফলে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ২০১৫ সালে নাকুগাঁওকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণার সময় ভারত থেকে ১৮টি পণ্য আমদানির তালিকা দেয়। বেশির ভাগ পণ্য আমদানিযোগ্য নয়। তালিকার সঙ্গে নতুন পণ্যের নাম যুক্ত করতে স¤প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ আবেদন জানানো হয়। স্থলবন্দরটি সচল করতে আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি যেসব পণ্য আমদানির আবেদন করে তার মধ্যে সুপারি, পশুখাদ্য, খইল, শুঁটকি, ফেব্রিক্স, চাল, ভুট্টা, জিরা, চকলেট, কসমেটিক্স, জুতা, হাঁস-মুরগি, ফুলঝাড়– ও জিপসাম।
জানা যায়, স্থলবন্দর দিয়ে মাছের পোনা, গবাদিপশু, গাছগাছড়া, বীজ, গম, রাসায়নিকসার, পিঁয়াজ, মরিচ আমদানির অনুমতি রয়েছে। স্থলবন্দরটি মেঘালয় ও আসামের কাছাকাছি হওয়ায় এসব পণ্য আসে না। আমদানিও ব্যয়বহুল। এমন পণ্য আমদানির সুযোগ দিতে হবে যেগুলো মেঘালয় ও আসামে পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে আসামে এশিয়ার বৃহত্তম শুঁটকির মার্কেট। ওপাড়ে মেঘালয়ে প্রচুর সুপারি আমদানি লাভজনক। বন্দরটি সচলে সরকার খৈলসহ এসব পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করছেন না। ভুটানের সাথে বন্দরের সংযোগ সম্ভাবনা থাকায় আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের দফতরগুলোর উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
ময়মনসিংহ বিভাগের ডেপুটি কাস্টমস কমিশনার সুশান্ত পাল বলেন, স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি আগে নতুন পণ্য আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। উদ্যোগ নিতে আবেদনটি এনবিআরের কাস্টমস কমিশনারের নিকট পাঠানো হয়েছে। আমদানি পণ্য অনুমোদনে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার এনবিআরের। সংস্থাটি এ বিষয়ে এসআরও জারি করলে ব্যবসায়ীরা নতুন পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন। এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় স্থলবন্দরটিতে সৃষ্টি হচ্ছে অচলাবস্থা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নাকুগাঁও স্থলবন্দর
আরও পড়ুন