Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

জার্মানিতে রুশ বংশোদ্ভত ও রুশ ভাষাভাষীদের হয়রানি, নির্যাতন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০২২, ১২:৩০ এএম

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে জার্মানিতে শুরু হয়েছে রুশ বংশোদ্ভ‚ত এবং রুশ ভাষাভাষীদের হয়রানি, নির্যাতন। রাস্তায় হামলার শিকার হচ্ছে শিশুরা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হয়েছে হামলা। শিক্ষকদের রোষানলেও পড়ছে রুশ ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা। জার্মানিতে রুশ ভাষাভাষীর সংখ্যা ছয় মিলিয়ন, অর্থাৎ ষাট লাখের মতো। রুশ ভাষাভাষীদের বেশিরভাগই জার্মান। তাদের পূর্বপুরুষরা এক সময় মধ্য ইউরোপের জার্মানভাষী বিভিন্ন দেশে ছিলেন। মূলত আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে তারা রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেলেও প্রথমে ১৯৫০-এর দশকে এবং পরে ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানিতে চলে আসেন। বর্তমান প্রজন্ম জার্মান। তবে রুশ ভাষা এবং সংস্কৃতিকে তারা ধরে রেখেছে। গত ২৪ ফেব্রæয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে সেই রুশ ভাষা এবং সংস্কৃতির সংশ্রবই বিপদে ফেলেছে তাদের।
রোমান ফ্রিডরিশ উপলব্ধি করছেন ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের এবং জার্মানিতে ‘রুশদের’ জীবনে পরিবর্তিত সময়ের এই কষ্ট। কোলনের কোরভাইলার জেলার সমাজকর্মী ফ্রিডরিশের জন্ম রাশিয়ার ওমস্কে। তার দাদী ছিলেন ইউক্রেনীয়। সমাজর্মী হিসেবে ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কিছু করা তাই একান্ত কর্তব্য মনে করেছেন এবং সে কারণে গেল কিছুদিন ধরে তাদের সহায়তায়ই ব্যস্ত রাখছেন নিজেকে।
রাশিয়ার হামলার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইউক্রেনীয়দের পাশাপাশি রুশ ভাষাভাষী এবং রুশ বংশোদ্ভ‚তদের জীবনে নেমে আসা আকস্মিক সংকটও ব্যথিত করছে ফ্রিডরিশকে। পুতিনের ইউক্রেন হামলার জন্য জার্মানিতে বসবাসরত রুশ ভাষাভাষী এবং রুশ বংশোদ্ভ‚তদের নানাভাবে হয়রানির কিছু ঘটনার উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা স্কুলে এক রুশ শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বলেছেন উঠে দাঁড়িয়ে পুতিনের নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে- এ ঘটনাটা শুনে আমি হতবাক’! ফ্রিডরিশ মনে করেন, এখনো খুব ব্যাপক পরিসরে না হলেও ঘরের বাইরে স্কুল, বাস-ট্রেন-ট্রামসহ বলতে গেলে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে রুশ ভাষাভাষীরা যেটুকুই হামলা এবং হয়রানির শিকার হচ্ছে, তা খুব উদ্বেগের।
কোলনের এক স্কুলে এক রুশ ভাষাভাষী ছাত্রকে তার সহপাঠীরা পিটিয়েছে। হার্ডওয়ারের দোকানে গিয়েছিলেন এক পোলিশ নারী। সেখানে উপস্থিতরা রুশ ভেবে এমন আচরণ শুরু করে যে দ্রæত চলে আসতে হয় সেই নারীকে।
ওবারহাউজেনে এক পোলিশ-রুশ দোকানে হামলার ঘটনা কোলনেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এক সুপারমার্কেটের মালিক এতটাই উদ্বিগ্ন যে, এখন ভয় রাশিয়ার তৈরি পণ্য রাখার কারণে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হতে পারে। ফ্রিডরিশ মনে করেন, রাশিয়ার হামলার কারণে জার্মানিতে নির্দোষ মানুষদের হয়রানি, নির্যাতন অচিরেই বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘কিছু সহিংসতার ঘটনা যেহেতু সামনে এসেছে, আইনি সংস্থাগুলোর উচিত এসবের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া। মস্কোর কাজের দায়ভার এখানকার রুশদের ওপর চাপানো হচ্ছে- এটা চলতে দেয়া যায় না। আইনের শাসন কার্যকর করতে হবে’।
গত কয়েক দিনে নারিনার তিক্ত অভিজ্ঞতা : বন শহরের উপকণ্ঠে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির স্কুল চালান নারিনা কারিৎস্কি। ২০১১ সালে খুব ছোট পরিসরে শুরু করা স্কুলটির পরিসর অনেক বেড়েছে। স্কুলে এখন ২৫ জন শিক্ষক। ৫০০টি পরিবারের সন্তানদের রুশ ভাষার পাশাপাশি ছবি আঁকা, ব্যালে নাচ, এমনকি রোবোটিক্সও শেখান তার। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর নারিনা প্রথম আঘাতটি পান একটি মেইল পড়ে।
মেইলে এক শিক্ষার্থীর ইউক্রেনীয় মা লিখেছেন, ‘আপনার স্কুলে আমাদের বাচ্চারা যে পড়তে যায় তাতে আমরা খুব খুশি। রুশ আগ্রাসনের বিষয়ে আপনার কী অভিমত তা কি একটু জানাবেন’? মেইলটি পড়ে নারিনা দুঃখের চেয়ে লজ্জা পেয়েছেন বেশি’। এ (আগ্রাসনের) বিষয়ে আমরা কী ভাবছি তা জানা তার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ। রুশ ভাষাভাষী হিসেবে আমরা যে কতটা লজ্জিত তা যে সবাইকে বোঝাতে পারছি না এটা ভীষণ লজ্জার।
একটি ফোনও এসেছিল নারিনার স্কুলে। সেখানে প্রতিবেশী পরিচয় দিয়ে এক লোককে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা এই রাস্তার কলঙ্ক। আপনারা খুনী’!
অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মা-বাবাই এখন চিন্তিত। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছেন না তারা। বাসে দুই ছাত্র রুশ ভাষায় কথা বলছিল। রুশ ভাষার কারণেই পুতিন সমর্থক ঠাউরে হামলা করা হয়েছে তাদের ওপর। এ ঘটনা শোনার পর থেকে অনেক মা-বাবাই নিজেদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। নারিনা কারিৎস্কি জানান, ‘তাদের সন্তানের সঙ্গেও খারাপ কিছু ঘটতে পারে এমন ভয় পাচ্ছেন তারা। তিনি মনে করেন, ‘জার্মানিতে বসবাসরত এসব মানুষের সঙ্গে যে ওই হামলার কোনো সম্পর্ক নেই তা সবার বোঝা উচিত। সূত্র : ডয়চে ভেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জার্মানি


আরও
আরও পড়ুন