Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ডিসির পর এবার দন্ড মওকুফ হলো আরডিসির

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০২২, ১১:৪১ পিএম

ডিসির পর এবার দন্ড মওকুফ হলো সেই আরডিসির। আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে দেওয়া ‘লঘুদন্ড’ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার। অসদাচরণ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এর আগে তার দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের দন্ড মওকুফ করার পর মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আরডিসি নাজিম উদ্দীনকে দেওয়া দন্ডও মওকুফ করল সরকার।
গত সোমবার তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ‘গুরুদন্ড’ হিসেবে নাজিম উদ্দিনকে এক ধাপ পদাবনতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্টের কাছে দন্ড মওকুফের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন। এর প্রেক্ষিতে নাজিম উদ্দিনের দন্ড বাতিল করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।
গত ২০২০ সালের ১৫ মার্চ অনলাইন নিউজপোর্টাল এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদন্ড দেয়। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন, আরডিসি বা রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এনডিসি বা নেজারত ডেপুটি কালেকটর এস এম রাহাতুল ইসলাম। ঘটনার তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অসাদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুলতানা পারভীনের দুই বছরের বেতন স্থগিত করা হয়। আরডিসি নাজিমকে এক ধাপ পদাবনতি দেয়া হয়। এনডিসি রাহাতুলের তিন বছর বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয় এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ওএসডি অবস্থায় রয়েছে।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের কাছে শাস্তি মওকুফের আবেদন করেন সুলতানা পারভীন। প্রেসিডেন্টের সুপারিশক্রমে সুলতানা পারভীনের দÐ মওকুফ করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সুলতানা পারভীন বর্তমানে ওএসডি অবস্থায় আছেন।
নাজিম উদ্দিন বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় প্রকৃত গুরুদÐ পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তা রিন্টু বিকাশ চাকমা। তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হচ্ছে। গত ২ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রিন্টু বিকাশের বরখাস্তের সিদ্ধান্তে মতামতের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) পাঠায়। ২০ জুন রিন্টু বিকাশকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে পিএসসি। তার বরখাস্তের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে রিন্টু বিকাশ চাকমাও ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই সময় সরকারের ঊচ্চ পর্যায় থেকে আশ^াস দেওয়া হয়েছিল যে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং ন্যায় বিচার পাব। কিন্তু এটাই যদি ‘ন্যায়বিচার’ হয় তবে সাধারণ জনগণের কাছে এ শব্দটি কল্পনাপ্রসূত শব্দ বলে মনে হবে। একটা প্রমাণিত অপরাধ প্রমাণিত হলো, বিভাগীয় তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেল। কিন্তু অপরাধীরা ক্ষমা পেয়ে গেল। এই ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে। এধরণের কর্মকর্তার কাছে রাষ্ট্র জিম্মি হয়ে আছে- এমন বার্তা পাবে জনগণ। আরিফুল বলেন, ঘরের দরজা ভেঙ্গে পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করে সেই রাতে আমাকে তুলে নিয়ে যান আরডিসি নাজিম। ডিসি অফিসে মোবাইল কোর্ট বসানো, মারধর করা, ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো এবং সবশেষে আমাকে কারাগারে নিয়ে যান তিনি। এই ঘটনার নির্দেশদাতা ছিলেন ডিসি সুলতানা পারভীন। অর্থাৎ মূল হোতা হলেন দুইজন। আমি পরবর্তীতে রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুলের নাম জানতে পারি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিসি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ