Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

দীর্ঘ ৮৭ বছরেও পূরণ হয়নি এমপিওভুক্তির দাবি

প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা

বগুড়ার সান্তাহারের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহি বিপি উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৭ বছরেও সরকারিকরণ করা হয়নি। সান্তাহার রেলওয়ে জংশন পৌর শহরের মেইন রোড কলসা রথবাড়ী এলাকার এই বিদ্যালয়টি অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লী দ্বারা পাঠদান কার্যক্রম, পাবলিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফলসহ সরকারিকরণের সকল দিক দিয়ে উপযুক্ত থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ না হওয়াতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সান্তাহার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা বনমালী সাহা ও পরমেশ্বর ম-লের নাম অনুসারে ১৯২৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু সতেন্দ্রনাথ সরকার। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাগণের দানকৃত ৪ একর ৬৭ শতক জমির উপর এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের সাহায্য, সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। অত্র বিদ্যালয়টি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প ছিল। তৎকালীন স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দের অসামান্য অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার যুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করায় পাকিস্তান সেনারা সম্পূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত করে। উল্লেখ করা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক এমপি ও গর্ভনর আলহাজ্ব কছিম উদ্দীন আহম্মেদ তৎকালীন সময়েও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন, তার প্রচেষ্টায় যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়টি পুন: সংস্কার করে বর্তমানে অবকাঠামোগত অবস্থা ও বিদ্যালয়ের দ্বিতল মার্কেট ও তিন বিঘা পুকুর ইত্যাদি তার সু-ব্যবস্থায় মনোরম পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ হতে অত্র বিদ্যালয়টি বার বার বঞ্চিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০৫৫ জন ছাত্র অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়টিতে ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৪ জন কর্মচারী রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান। বিদ্যালয়টিতে ২৫টি শ্রেণী কক্ষ ও ১টি কম্পিউটার ল্যাব আছে। স্কুলটির পূর্ব পাশে বিশাল একটি খেলার মাঠ রয়েছে এবং এই মাঠটিতে বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছে এবং পরীক্ষার ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার কর্তৃক ২০১৫ সালে এক লাখ টাকা পুরস্কার ও একটি সনদপত্র পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয়ভাবে ক্রিকেট খেলায় উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অত্র বিদ্যালয়টি। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাবেক এমপি ও গর্ভনর আলহাজ্ব কছিম উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, সান্তাহারে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহি বি.পি উচ্চ বিদ্যালয়কে গতিশীল ও মানোন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণে আমি সান্তাহার শহরবাসীর দোয়া ও সমর্থন চাই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।