Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

তারা আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদক ও সরকারি চাকরিজীবী!

প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

জয়নাল আবেদীন জয়, উল্লাপাড়া থেকে : ক্ষমতা থাকলে কিনা হয়। আর ক্ষমতাবান ব্যক্তিটি যদি হয় সরকারী দলের নেতা তাহলে তো কথাই নেই। দেশের প্রচলিত আইন সংবিধান সাধারণ মানুষের বেলায় প্রযোজ্য। তার বেলায় ঘটে এর উল্টো। এমনটিই হয়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নে। এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সাথে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চাকরি করে বেতন ভাতা ভোগ করছেন! যা সম্পূর্ণ সরকারী চাকরি বিধিমালার পরিপন্থি। গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই এই দুই শিক্ষক সরকারী চাকরি করে বেতনভাতা ভোগ করে আবার সরকারী দলের নেতার পদে কর্মরত থাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী দলের নেতা বলে অজ্ঞাত কারনে তাদের বিরুদ্বে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না শিক্ষা বিভাগ। উল্লাপাড়া শিক্ষা কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর ফিরোজের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানালেন,সরকারী চাকরি করে দলীয় পদে থাকা চাকরি বিধিমালা পরিপন্থি। কোন সরকারী চাকরিজীবী দলীয় পদ পদবীতে থাকতে পারে না। বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। দ্রæত ওই দুই শিক্ষককে দলীয় পদ ছাড়তে তাদের এবং দলীয় হাইকমান্ড সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়,উল্লাপাড়া উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো.আব্দুস ছাত্তার ভোলা প্রায় ৩ বছর আগে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সাথে তিনি গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চাকরি করছেন দীর্ঘদির ধরে। উপজেলার পশ্চিম সাতবাড়িয়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. আবু হানিফ একই ভাবে বাঙ্গালা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনিও গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের চাকরি করেন। এই আবু হানিফ আবার ইউনিয়নের ধরইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও। স্থানীয়দের অভিযোগ এই দুই সরকারী দলের নেতা সরকারী বেতনভাতা ভোগ করে শিক্ষকতার পেশায় ফাঁকি দিয়ে দলীয় পদ-পদবীতে থাকা বিভিন্ন দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে দলীয় নেতাদের সাথে বক্তব্য রাখছেন। একই সাথে সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের কমিটিতেও থাকছেন। যা পুরোপুরি সরকারী চাকরি বিধিমালার পরিপন্থি। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ক্ষোভ রয়েছে। এরা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সরকারী চাকরির পাশাপাশি সরকারী দলের নেতা বলে স্থানীয় সব বিষয়ে তাদের প্রভাব সবার ওপরে।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে বাঙ্গালা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. আব্দুস ছাত্তার ভোলা জানান, সরকারী চাকরি করে দলীয় পদে থাকা চাকরি বিধিমালা পরিপন্থি এটি তিনি অবগত। তবে এ কাজে এখনো তাকে শিক্ষা বিভাগ এবং দলীয় কোন বাধা না থাকায় এ দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া দল তাদের পদত্যাগ করাচ্ছে না বলেই এ পদে আছেন।
সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী উধুনিয়া ইউনিয়নে দলীয় জনসভায় অংশ নিয়েছি। দলীয় পদে থেকে কিভাবে সরকারী চাকরি করছেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে আমাদের স্কুলগুলো রেজিস্টার্ড বেসরকারী ছিল। সে হিসাবে বেসরকারী চাকরি হিসাবে দল করতাম। এখন সকল স্কুল সরকারীকরণ হয়েছে তাই দলীয় কর্মকাÐে অংশ নেওয়ায় বাধা রয়েছে। তাছাড়া দল এবং শিক্ষা বিভাগের কোন আপত্তি না ওঠায় দলীয় পদে নিয়োজিত আছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।