Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

বিএফআইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদন অধিকাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে গত অর্থবছর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময়ও বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ মার্চ, ২০২২, ১২:০৪ এএম

দেশে গত এক বছরে অর্থপাচার বিষয়ক বা সন্দেহজনক লেনদেন ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ২৮০টি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৭৫টি। সন্দেহজনক লেনদেনের অধিকাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে। অবশ্য সব লেনদেনকেই অর্থপাচার বলতে নারাজ সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, শুধু দুর্নীতির কারণেই এমন সন্দেহজনক লেনদেন বাড়েনি, বিএফআইআইইউ’র সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের আরও বেশি নজরদারি, সচেতনতা ও তদারকির কারণেই এতো লেনদেন শনাক্ত করা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ‘বিএফআইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০-২০২১ এবং বিএফআইইউ’র কার্যক্রম অবহিতকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিএফআইইউ’র প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ, বিএফআইইউ’র মহাব্যবস্থাপক এবিএম জহুরুল হুদা, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন, যুগ্ন পরিচালক ইকরামুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে যেসব অর্থ লেনদেন হয়েছে, তার বেশিরভাগই ব্যাংকিং মাধ্যমে। অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরিমাণ খুবই কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট পাঁচ হাজার ২৮০টি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে, যা তার আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) ছিল তিন হাজার ৬৭৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ অর্থবছরের এসটিআরের হিসাব দেয়া হয়েছে। সেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সন্দেহজনক রিপোর্ট হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন হাজার ৮৭৮টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় বেড়েছে বিএফআইইউ’র। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৯৮ তথ্য বিনিময় হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯১ তথ্য বিনিময় হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৮৭টি তথ্য বিনিময় হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে তথ্য বিনিময় হয়েছিল এক হাজার ৪১৪টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩৪টি তথ্য বিনিময় হয় সিআইডির সঙ্গে, যা মোট তথ্য বিনিময়ের ২৪ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে এনবিআর’র সঙ্গে ১৭৫টি, দুদকের সঙ্গে ১১৪টি, পুলিশের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ৪৪টি এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ৭৪০টি তথ্য বিনিময় হয়।

বিএফআইইউ’র প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, এ বছর আমরা বিএফআইইউ’র ২০ বছরপূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের মানিলন্ডারিং ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তথ্যপ্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা এবং ঝুঁকির ধরণ পাল্টেছে। আমরাও বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ হয়েছি। তিনি বলেন, আমরা যেসব সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করি, তার ২৬ দশমিক ১ শতাংশ তথ্য আসে গণমাধ্যম থেকে। একই সঙ্গে প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। পাচারের এই খবর পাচারকারী, আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বিএফআইইউ ছাড়া অনেকেই কমবেশি জানেন। আইনগত জটিলতার কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ অর্থপাচারের অভিযোগ করতে আগ্রহী হতো না। গত ৭ মার্চ বিএফআইইউ’র স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে পরিচয় গোপন করে যে কেউ অভিযোগ করতে পারবেন। সেটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখবে গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএফআইইউ’র ওয়েবসাইট চালুর মাধ্যমে এখন থেকে সকলের জন্য অর্থপাচারের তথ্য প্রদান ও অভিযোগ করা সহজ হলো।

মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ইদানিং ই-কমার্সের মাধ্যমে শত শত অবৈধ লেনদেন হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়া এবং পি কে হালদার নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এ বিষয়ে যথাযথ সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নিচ্ছে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশে ২০০২ সালে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন জারি করা হয়। একই সঙ্গে ওই কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে ২০০২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। ২০১২ সালে বিভাগটি একটি পৃথক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নামে আত্মপ্রকাশ করে। বিএফআইইউ’র কার্যক্রমে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ সাধারণ জনগণের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্তকরণ ও অবহিতের জন্য একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট করেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ-সম্পত্তির গোপন উৎস, তার অবৈধ ব্যবহার, মাদক চোরাচালান, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসহ নানামাত্রিক অপরাধ বিষয়ক অভিযোগ করতে পারেন যে কেউ। সেখানে পরিচয় গোপণ রেখেই সব তথ্য জানানো যায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন