Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে ঝুঁকছে আফগানরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০২২, ১২:১১ এএম

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে চলছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিদেশী মুদ্রায় লেনদেন। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কমে গিয়েছে বিদেশী সহায়তা। ফুরিয়ে আসছে নগদ অর্থও। এ অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে আফগানিস্তানের অর্থনীতি। যদিও এ পরিস্থিতিতে আফগানদের জন্য আলোর দিশারি হিসেবে হাজির হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। ডিজিটাল এ মুদ্রা দেশটির অনেক নাগরিকের জন্য জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে। খবর বিবিসি। আফগানিস্তানে গত বছরের আগস্টে দুই দশক পর আবারো ক্ষমতায় ফেরে তালেবান। এরপর থেকেই বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অবস্থা থেকে উত্তরণেরও কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ আফগানিস্তানের জাবুল প্রদেশের ২২ বছর বয়সী ফারহান হোতাকের হাতে কোনো নগদ অর্থ ছিল না। তবে তার আয়ের একমাত্র উৎস হয়ে ওঠে একটি ভার্চুয়াল ওয়ালেটে কয়েকশ ডলারের বিটকয়েন। ভার্চুয়াল এ মুদ্রাকে দেশটির অর্থে রূপান্তর করে তিনি দশজনের পরিবার নিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ক্রিপ্টো আফগানিস্তানে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এটি বাদ দিয়ে দেশে অর্থ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। ফারহান হোতাক ও তার বন্ধুরা বাইন্যান্সের পি২পি ক্রিপ্টো লেনদেন ব্যবহার করেন। প্লাটফর্মটিতে অন্য ব্যবহারকারীদের সাথে সরাসরি ডিজিটাল কয়েন কেনা ও বিক্রির সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়ে হোতাক আবারো বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের ব্যবসা শুরু করেছেন এবং এখন আবারো আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির সমর্থকরা বলেন, তারা লোকদের ব্যাংকের ওপর নির্ভর বন্ধ করবে। আফগানিস্তানের ব্যাংকগুলো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তারা ডিজিটাল এ মুদ্রার লেনদেনে ঝুঁকছে। আর এটি কেবল বাণিজ্যের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্যও। গুগল ট্রেন্ডের ডাটা অনুসারে, আফগানিস্তানে বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোর জন্য ওয়েব অনুসন্ধান কাবুল দখলের ঠিক আগে জুলাইয়ে ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় দেশটির ব্যাংক ও এটিএম বুথের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। গত আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ক্রিপ্টো ব্যবহারে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত বছর ডাটা ফার্ম চেইন্যালাইসিস ক্রিপ্টো লেনদেন গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৫৪টি দেশকে মূল্যায়ন করে। সেখানে আফগানিস্তানের অবস্থান ছিল ২০তম। যেখানে ২০২০ সালে ক্রিপ্টো ব্যবহারে পিছিয়ে থাকায় দেশটিকে র্যাংকিং থেকেই বাদ দেয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে আফগানদের ক্রিপ্টো ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করতে হেসাবপে নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেন সানজার কাকার। তার মতে, দেশটির ক্রিপ্টো বিপ্লব তালেবান ও হক্কানি গ্রুপের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগান ব্যাংকগুলোর সাথে দেশের বাইরের লেনদেন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশটি আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭১০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে এবং মার্কিন মুদ্রার স্থানান্তর বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফট ব্যবস্থায়ও নিষিদ্ধ রয়েছে দেশটি। এ অবস্থায় দেশটিতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না এবং খুচরা গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে তাদের নিজস্ব অর্থ তুলতে পারছেন না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতির ৮০ শতাংশই বিদেশী সহায়তা ও দাতাদের ওপর নির্ভরশীল। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে দেশটি। সানজার কাকার বলেন, আমরা নগদ অর্থের এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। ২ কোটি ২৮ লাখ আফগান চরম দারিদ্র্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ লাখ শিশু এ শীতে অনাহারে মারা যেতে পারে। তিনি জানান, হেসাবপে চালু হওয়ার তিন মাসে ২১ লাখেরও বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। দাতা সংস্থাগুলোও আফগানিস্তানে ক্রিপ্টোর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। ২০১৩ সালে রয়া মাহবুব আফগান তরুণীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও আর্থিক বিষয়াদি শেখানোর জন্য ডিজিটাল সিটিজেন ফান্ড নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গোষ্ঠীটি জুম ভিডিও কলের মাধ্যমে নারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। ডিজিটাল সিটিজেন তহবিল ক্রিপ্টোর মাধ্যমে আফগান পরিবারগুলোয় অর্থ পাঠানো শুরু করে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোর মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের খাদ্য, বাসস্থানের ব্যসস্থা এবং কিছু ক্ষেত্রে লোকদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতেও সহায়তা করে। রয়া মাহবুব বলেন, গত ছয় মাসে ক্রিপ্টো আফগানিস্তানের জন্য জটিল ছিল। সবাই ট্রেডিং নিয়ে কথা বলছে। আমি একটি উড়োজাহাজে কাবুলে গিয়েছিলাম। সেখানেও দেখছি লোকেরা ডোজকয়েন ও বিটকয়েন নিয়ে কথা বলছে। তবে এক্ষেত্রে আফগানদের জন্য প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। ধীরগতির ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং তাদের ক্রিপ্টো ব্যবহার কঠিন করে তোলে। দেশটির তালেবান শাসকদের বিরুদ্ধে মধ্য এশিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় অনেক আফগানের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধেরও উপায় নেই। বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে ঝুঁকছে আফগানরা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ