Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঢাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০২২, ১২:০০ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হলের সামনে অবস্থিত আনন্দ বাজারের দোকান মালিকদের থেকে এককালীন ১০ লাখ ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ঢাবির অমর একুশে হল ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা এনায়েত এইচ. মনন ও ইমদাদুল হাসান সোহাগের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকিও দেন বলে জানান এসব দোকান মালিকদের একজন।

জানা যায়, চাঁদা আদায় না করায় ৭টি দোকান বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগের এ দুই নেতা। গত ৯ দিন ধরে দোকানগুলো বন্ধ ছিল কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সন্ধ্যায় আবার দোকান খুলতে দেন ছাত্রলীগের এসব নেতারা। গত ২ ফেব্রæয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিতে অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদে এনায়েত এইচ. মনন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইমদাদুল হাসান সোহাগ নির্বাচিত হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেনাবেচায় দিন-রাত ব্যস্ত থাকা দোকানগুলোর মালিকরা এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করছেন। তাদের দোকানের কর্মচারীরাও এখন বেকার সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ভয়ে দোকান খুলছেন না।
দোকান মালিকরা জানান, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে দোকান খোলা অবস্থায় অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি এনায়েত এইচ. মনন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান সোহাগ একদল নেতাকর্মী নিয়ে আনন্দ বাজারের ওই দোকানগুলোতে গিয়ে দোকান মালিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। শবে বরাতের রাতে ওয়ান স্টার হোটেলে ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ছাত্রলীগের ওই দুই নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক বলেন, তারা চাঁদা না পেলে হত্যার হুমকিও দেন দোকান মালিকদের। এবং সেই ভয়ে এখন পর্যন্ত মালিকরা দোকান বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অমর একুশে হল ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী এসে দোকানগুলো বন্ধ রাখতে তাদের সামনে মালিকদের হুমকি দিয়ে গেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দুই নেতা। জানতে চাইলে এনায়েত এইচ. মনন অভিযোগ অস্বীকার করে ইনকিলাবকে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি আমি জানতামও না। আমি যখন জেনেছি তখন সেখানে গিয়ে দোকানগুলো খুলে দিয়েছি। এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছি যে, কে দোকান বন্ধ করেছে। কেউ কিছুই বলতে পারেনি। আমি আমার ২৬ তারিখের একটি কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। এমন সময় আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা অভিযোগ। যারা অভিযোগ করেছে তাদের কোনো পরিচয়ই নেই।
ইমদাদুল হাসান সোহাগ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। গত রোববার আমি ঢাকা থেকে মাগুরায় গিয়েছি। এ বিষয়টি আমার জানা নেই। দোকান মালিকদের অভিযোগ মতে, গত শনিবার রাতে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেন ছাত্রলীগের ওই নেতারা। সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সোহাগ যেদিন মাগুরায় গিয়েছেন, দোকান বন্ধের ঘটনা তার আগের দিনের।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের অনৈতিক এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কোনো কাজ করে, তাহলে আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

অমর একুশে হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ আমি পাইনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করার কথা জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম গোলাম রব্বানী ইনকিলাবকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি কিন্তু ডিটেইলস জানি না। কারো ব্যবসা বন্ধ করতে চাইলে কেউ সেক্ষেত্রে তাদের প্রতি যথাযথ পদক্ষেপ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নেয়ার পরামর্শ থাকলো। দোকান বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা তো কোনো সমাধান না। এছাড়াও আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগও করা হয়নি। ###



 

Show all comments
  • jack ali ২১ মার্চ, ২০২২, ১২:০৯ পিএম says : 0
    ও আল্লাহ এদের প্রতি গজব নাযিল করুন এদেরকে আমাদের দেশ থেকে ধ্বংস করে দিন আমাদের জীবনকে ওরা ধ্বংস করে দিয়েছে এরা টাকা ছাড়া কিছু বুঝেনা অত্যাচার জুলুম এদের বৈশিষ্ট্য ..............
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ