Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক রিটার্ন জমা সাড়ে ৬ হাজার

প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নাছিম উল আলম : দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় সদ্য সমাপ্ত কর মেলা থেকে পৌনে পাঁচ কোটি টাকা আয়কর জমা হয়েছে। এ সময় নতুন ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারÑ টিআইএন গ্রহণ করেছেন প্রায় এক হাজার নতুন করদাতা। প্রায় লাখো মানুষ এবার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় কর মেলা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যাকে কর বিভাগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করে আয়কর ও কর মেলা সম্পর্কে করদাতাদের পক্ষ থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া মিলছে বলে মনে করছেন।
বিগত কয়েক বছরের মতো চলতি বছরও গত ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগীয় সদরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলা ও বিভিন্ন উপজেলাতে কর মেলার আয়োজন করা হয়। এসব মেলায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভিড় করার পাশাপাশি কর সম্পর্কে নানামুখী সেবা গ্রহণ করেন। বরিশাল কর অঞ্চলের দায়িত্বশীল মহলের মতে, এবারের কর মেলায় দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ ও করদাতাগণ বিভিন্ন ধরনের সেবা ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে এবারের মেলাগুলোতে রিটার্ন জমা দিয়েছেন ছয় হাজার ৫৩৭ জন করদাতা। যা গতবছরের চেয়ে প্রায় ৮০ ভাগ বেশি। গতবছর যেখানে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আয়কর জমাদানের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৮৪ লাখ টাকার মতো। সেখানে চলতি বছর প্রায় চার কোটি ৭৭ লাখ টাকার কর জমা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় আড়াইগুণ বেশি।
বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার জাহিদ হাসান ইনকিলাবকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলের করদাতাদের মধ্যে ক্রমশ আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তেমনি কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, করদাতাদের স্বার্থে তা আরো উন্নত করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতৃবৃন্দের মতে, এখনো আমাদের কর ব্যবস্থাকে আরো ‘জনবান্ধব’ করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। কর প্রশাসনকেও গণমুখী করে গড়ে তোলারও তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে আরো অনেক গণমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আয়কর প্রদানকারী ও কর আদায়ের পরিমাণ ক্রমশ বাড়লেও এ অঞ্চলের উন্নয়নসহ নতুন বিনেয়োগ এখনো কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয় বলে মনে করেন চেম্বার নেতৃবৃন্দ। গত বছর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজারের মতো থাকলেও চলতি বছরে তা ৩৫ হাজার অতিক্রম করবে বলে আশা করছেন বরিশালের কর প্রশাসন।
২০০১Ñ০২ অর্থবছরে মাত্র ১৪.৩ কোটি টাকা আয়কর আদায় নিয়ে বরিশালে কর কমিশনারেট যাত্রা শুরু করলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ অঞ্চলে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ২০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা চলতি বছর ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। বিগত ১৫ বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার হাজার ভাগেরও বেশি বলে জানিয়েছেন বরিশালের কর কমিশনার মো: জাহিদ হাসান।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০২-০৩ অর্থ বছরে বরিশাল কর অঞ্চলে ২২.১২ কোটি টাকা, ২০০৩-০৪সালে ২৭.৬৮ কোটি, ২০০৪-০৫সালে ৩৮.২৩ কোটি, ২০০৫-০৬ সালে ৪৩.২৯ কোটি, ২০০৬-০৭ সালে ৪৪ কোটি, ২০০৭-০৮ সালে ৬০.১১ কোটি, ২০০৮-০৯ সালে ৬২.৩৯ কোটি, ২০০৯-১০ সালে ৭৩.৭৫ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮৫.১১ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে বরিশাল কর অঞ্চলে ৯৫.২৭ কোটি এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১১ কোটি ৮ লাখ টাকার আয়কর আদায় হয়। যা এর আগের বছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বেশি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল আরো প্রায় ৬৭ কোটি টাকা বেশি, ২০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক রিটার্ন জমা সাড়ে ৬ হাজার
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ